NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, জুন ৮, ২০২৬ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচন শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড  রেইজিং SHAIDAI & STARDOM – Sahar Hashmi and Feroze Khan's Unmissable On-Screen Magic- Akbar Haider Kiron Bangladesh Secures Historic Victory in United Nations General Assembly UNGA Presidency দুই দিনে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কোরবানীর ত্যাগের মহিমায় নিউইয়র্কে ঈদুল আজহা পালিত মুসলিম উম্মার ঐক্য, সৌহার্দ্য-সমৃদ্ধি  কামনা প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কুরবানির বর্জ্য, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত মসজিদগুলোতে বেহেশতের টিকিট বিক্রির জন্য ইমাম নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে: আইনমন্ত্রী ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬: উৎসব, আবেগ আর শিকড়ের টানে বর্ণাঢ্য সমাপ্তি ৩০ মে শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর বিশেষ আয়োজন জ্যাকসন হাইটসে জমজমাট আয়োজনে বাংলাদেশী আমেরিকান ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ সম্পন্ন
Logo
logo

বিশ্ব বেতার দিবস , একটি মূল্যায়ন---প্রদীপ চন্দ্র কুন্ডু


প্রদীপ চন্দ্র কুন্ডু প্রকাশিত:  ০৮ জুন, ২০২৬, ০৩:৪০ এএম

বিশ্ব বেতার দিবস , একটি মূল্যায়ন---প্রদীপ চন্দ্র কুন্ডু







দ্বাদশ বিশ্ব বেতার দিবস আমাদের দোরগোড়ায়। আমরা সবাই জানি, ইউনেস্কোর উদ্যোগে এই বিশেষ দিনটির উদ্ যাপন শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল 'রেডিও' নামের এই কালোত্তীর্ণ মাধ্যমটিকে সংরক্ষণের পাশাপাশি এর সম্পর্কে      জনসাধারণকে আরো বেশি সচেতন করা। এই দিবস বিশ্ব জুড়ে তথ্য প্রবাহ অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এবং দেশে দেশে, মানুষে মানুষে যোগাযোগের বন্ধনকে আরো শক্তিশালী এবং বিস্তৃত করতে জনসাধারণ তথা বিভিন্ন মাধ্যমকে উদ্বুদ্ধ করে। 
প্রতি বছর ১৩ই ফেব্রুয়ারি দিবসটি প্রতিপালনের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শত শত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা, সেমিনার, সমাবেশ, প্রদর্শনী ইত্যাদি নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করে বিশ্বের বিভিন্ন বেতারকেন্দ্রের পাশাপাশি বেতার সংশ্লিষ্ট  বিভিন্ন সংগঠন। 
 এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে এত ঘটা করে দেশে দেশে দিনটি পালন করা হচ্ছে, এর ফলাফল কি? বিশ্ব জুড়ে বেতারকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে এবং বিশালাকারে বেতার শ্রোতা বৃদ্ধিতে এই দিবস  সত্যিই কি সফল হয়েছে এ যাবৎ ? 
 এটা অনস্বীকার্য, বিশ্ব বেতার দিবস পালনের নিশ্চিত ভাবেই বেশ কিছু ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। কিন্তু, তার পরেও দুঃখের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি, এই দিবস বিশ্বব্যাপী বেতার শ্রোতা বৃদ্ধিতে কিংবা বেতার সম্প্রচারের বিস্তৃতি ঘটাতে এখন অবধি তেমন একটা কার্যকর হয় নি। কারণটা খুবই স্পষ্ট। আমাদের কাছে এমন কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য বা পরিসংখ্যান নেই, যার দ্বারা প্রমাণ করা যাবে যে, ২০১২ সালে বিশ্ব বেতার দিবস শুরু হওয়ার পর থেকে রেডিও শোনার মানুষের সংখ্যা অনেক গুণ বেড়ে গেছে। বরং বাস্তব ঘটনা হলো, রেডিওর শ্রোতার সংখ্যা দিনে দিনে কমেছে এবং এখনও কমছে। এক সময় যে রেডিও ছিল প্রায় প্রতিটি পরিবারের অপরিহার্য সামগ্রী, আজ সারা পাড়া ঘুরে ও একটি সেই রেডিওর সন্ধান পাওয়াই দুষ্কর। শহরের  বাজারগুলো খুঁজে দেখুন, রেডিওর দোকান খুব একটা চোখেই পড়বে না। যেহেতু, ওর চাহিদা নেই। 
এ তো গেল শ্রোতাদের দিক। নজর দিন, বেতার সম্প্রচার নেটওয়ার্কের দিকে। গত এক দশক বা তার কিছু বেশি সময়ে বেতার সম্প্রচার ব্যবস্থা বিস্তৃত হওয়ার বদলে শুধুই সংকুচিত হয়েছে। একের পর এক আন্তর্জাতিক বেতার কেন্দ্র বন্ধ করেছে তাদের সম্প্রচার। ইউরোপের জনপ্রিয় বেতার কেন্দ্রগুলি আজ ইতিহাস। রেডিও নেদারল্যান্ডস, রেডিও সুইডেন, সুইস রেডিও ইন্টারন্যাশনাল, রেডিও মস্কো, ডায়চেভেলে জার্মানি, রেডিও বুদাপেস্ট - এমন আরো কত কত স্টেশন আজ আর নেই রেডিওতে। বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকার মতো মুষ্টিমেয় যে ক'টি এখনও বেঁচে রয়েছে, তাদের অবস্থা ও নিভু নিভু। অনেক ভাষার অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে দু-চারটি চালু রেখে এখন অবধি অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে ।কিন্তু অদুর ভবিষ্যতে তারাও বিদায় নেবে। অন্য মহাদেশের কথা ছাড়ুন। এবার আমাদের নিজেদের দেশ সমেত গোটা উপমহাদেশের চিত্রটা একটু লক্ষ্য করুন। গত কয়েক বছরে আকাশবাণী তার আভ্যন্তরীণ শর্ট ওয়েভ সম্প্রচার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান তাদের শর্ট ওয়েভ বেতার ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দিয়েছে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশে এখনো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বটে, কিন্তু  স্তব্ধ হয়ে  যাবে যে কোন দিন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ যদিও খরচের দোহাই দিচ্ছেন, কিন্তু শ্রোতা সংখ্যা ব্যাপক ভাবে হ্রাস পাওয়াটাই যে আসল  ব্যাপার, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। 
এমতাবস্থায়, আমরা নিশ্চয়ই দাবি করতে পারবো না যে বিশ্ব বেতার দিবস চালু হওয়ার পর এর প্রভাবে বিশ্ব বেতার সম্প্রচারের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে অথবা এটা বেতারের শ্রোতা সংখ্যা বৃদ্ধিতে যথেষ্ট সহায়ক হয়েছে। 
 তাহলে এই বিশ্ব বেতার দিবস পালন কি অর্থহীন? এর কি কোন গুরুত্বই নেই ? মোটেই তা নয়। রেডিও যে গত এক শতক ধরে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে এক বিশেষ অবদান রেখেছে এবং এখনও রাখতে পারে বিশ্ব বেতার দিবস তারই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করছে। এই দিনে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে যে মানুষগুলো মানবকল্যাণে বেতার সম্প্রচারের ধারাকে বিশ্বব্যাপী অক্ষুণ্ন রাখতে নানাভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি সম্মান জ্ঞাপনের, আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ পাই। উপরন্তু, সমাজের সকল স্তরের মানুষকে পরিকল্পিতভাবে বেতারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে প্রয়াসী হই।

পরিশেষে তাই বলবো, বেতার সম্প্রচারের প্রসার ঘটানোর প্রশ্নে কিংবা বেতারের শ্রোতা বৃদ্ধিতে আমাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হলেও বিশ্ব বেতার দিবস প্রতি বছর পালিত হোক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। এতে করে নিশ্চয়ই আমাদের তরুণ প্রজন্ম রেডিওর প্রতি আগ্রহী হবে এবং রেডিও একেবারে হারিয়ে যাবে না কখনোই।