NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক 'মারকুইস হু’স হু' ফাইন্যান্স খাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান মলি রহমানকে সম্মানিত করেছে সিএনএনের প্রতিবেদন ‘গেম অব চিকেন’: সংঘাতের বিপজ্জনক মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ : একটি আলোকবর্তিকা -  ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ
Logo
logo

হ্য চে জাতি বীরের গানের পাশাপাশি নতুন যুগের সুখী জীবনের গান গায়


শিশির, বেইজিং: প্রকাশিত:  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম

হ্য চে জাতি বীরের গানের পাশাপাশি নতুন যুগের সুখী জীবনের গান গায়

 


আপনারা শুনেছেন উ সু লির ‘নৌকা’ শিরোনামের একটি গান। গানের কথা: দীর্ঘ উ সু লি নদীর নীল পানিতে দেখা যায় ঢেউ; হ্য চে জাতির মানুষেরা হাজার হাজার জাল ছড়িয়ে দিয়েছে। নদীতে ভেসে যায় নানা নৌকা এবং নৌকা ভরে যায় মাছ।
সাত বছর আগে হ্য চে জাতির লিউ লেই বেইজিংয়ের মহা-গণভবনে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলেছেন। ২০১৬ সালের ৭ মার্চ, ১২তম জাতীয় গণকংগ্রেসের চতুর্থ অধিবেশন চলাকালে প্রেসিডেন্ট সি হেই লং চিয়াং প্রদেশের প্রতিনিধি দলের পর্যালোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

লিউ লেই প্রেসিডেন্ট সি কে বলেন, সরকারের সীমান্ত উন্নয়ন প্রকল্পের কল্যাণে আমাদের জীবন এ গানের মতো সুখী হয়েছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট সি শুরুতে সবার সঙ্গে করমর্দন করেন। তখন তিনি হ্য চে জাতির ঐতিহ্যিক পোশাক পরেছিলেন।  তিনি প্রেসিডেন্ট সি কে জানিয়েছেন, তিনি হ্য চে জাতির একমাত্র প্রতিনিধি। ওই দিন নয়জন প্রতিনিধি বক্তব্য রেখেছেন এবং লিউ লেই ছিলেন তাদের মধ্যে চতুর্থ। তিনি ৪-৫ মিনিটের মতো কথা বলেছেন। উ সু লি নৌকা গানের কথা তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট সি বলেন, ‘এ গানটি সবাই জানে এবং আমিও কিছুটা গাইতে পারি। গানে চীনের নানা জাতির ঐক্যবদ্ধ ও সহাবস্থানের সুন্দর দৃশ্য বর্ণনা করা হয়েছে।’

প্রেসিডেন্ট সির কথা শুনে খুব উৎসাহিত হন লিউ লেই। তিনি প্রেসিডেন্ট সির কাছে হ্য চে জাতির সংস্কৃতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, হ্য চে জাতি আগে মূলত মাছ ধরতো ও শিকার করতো। তবে এখন তারা ঐতিহ্যিক কর্মশিল্পের প্রতি বেশি মনোযোগী। তিনি প্রেসিডেন্ট সিকে নিজের গ্রাম ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তখন প্রেসিডেন্ট সি রাজি হন।

মাত্র ২ মাস পর প্রেসিডেন্ট সি লিউ লেইর গ্রামে যান। ২০১৬ সালের ২৪ মে, হেই লং চিয়াং প্রদেশ পরিদর্শনকালে প্রেসিডেন্ট সি পা চা গ্রামে যান। সেখানে প্রেসিডেন্ট হ্য চে জাতির ঐতিহ্যবাহী প্রদর্শনী এবং ঐতিহ্যিক গান ও নাচ শিক্ষা দেখেন। তিনি হ্য চে জাতির সুদীর্ঘ ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্যময় সংস্কৃতির প্রশংসা করেন।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে প্রেসিডেন্ট সি সব সময়  নানা জাতির সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও উত্তরাধিকারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি মনে করেন, নানা জাতির শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্যিক সংস্কৃতি নিয়ে গঠিত হয়েছে চীনা জাতির সংস্কৃতি।  তিনি চুয়াং জাতির ক্য ইয়ু উৎসব, তিব্বতি জাতির কম্বল, লি জাতির ট্যাপেস্ট্রি ও মিয়াও জাতির বয়নসহ নানা চীনা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট সি বলেন, এমন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যেমন সংখ্যালঘু জাতির সম্পদ, তেমনি চীনা জাতিরও সম্পদ। তার সংরক্ষণ, উত্তরাধিকার ও ব্যবস্থাপনা কাজ ভালভাবে করতে হবে।

লিউ লেইও ঠিক তা-ই মনে করেন। এখন তার শহরে হ্য চে জাতির গান গাওয়ার ঐতিহ্য ই মা কানের উত্তরাধিকারের জন্য জাতীয় থেকে উপজেলা পর্যন্ত ৪টি পর্যায়ের একটি ব্যবস্থা গঠিত হয়েছে। এখন আরও বেশি তরুণ এর উত্তরাধিকার হতে চেষ্টা করছে। আগে তারা হ্য চে জাতির বীরের গান গেতো। আর এখন তারা নতুন যুগের সুখী জীবনের গান গায়।

লিউ লেই বলেন, হ্য চে জাতির মানুষের নদীর পাশে জন্ম এবং তারা নদীর রক্ষী। আগে তারা মাছ ধরে তাদের ঐতিহ্যের ভিত্তিতে উদ্ভাবন কাজে লাগিয়ে মাছের চামড়া পেইন্টিং ও মাছের চামড়া দিয়ে তৈরি পোশাকসহ নানা বৈশিষ্ট্যের সাংস্কৃতিক পণ্য তৈরি করতো। গেল কয়েক বছরে তারা ঐতিহ্য প্রচার করতে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন করেছে। স্থানীয়রা এর মাধ্যমে সমৃদ্ধ জীবনযাপন করছে। চলতি বছর লিউ লেই প্রতিনিধি হিসেবে বেইজিংয়ে জাতীয় গণকংগ্রেসে অংশগ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, তিনি চীনের শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার ও উন্নয়নের ওপর আরও দৃষ্টি রাখবেন। সূত্র: চায়না মিডিয়া গ্রুপ।