NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo

চীনের সামগ্রিক আধুনিকায়ন মানব ইতিহাসের একটি অভূতপূর্ব কীর্তি:চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

চীনের সামগ্রিক আধুনিকায়ন মানব ইতিহাসের একটি অভূতপূর্ব কীর্তি:চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী

 


চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিন কাং বলেছেন, চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়ন হচ্ছে সকল মানুষের অভিন্ন সমৃদ্ধির আধুনিকায়ন। তিনি ৭ মার্চ সকালে চীনের চতুর্দশ জাতীয় গণকংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনের অবকাশে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।
ছিন কাং বলেন, ১৪০ কোটি মানুষের একটি দেশের সামগ্রিক আধুনিকায়ন মানব ইতিহাসের একটি অভূতপূর্ব কীর্তি হবে; এর আছে দুর্দান্ত বৈশ্বিক তাৎপর্য। 

চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়ন মানবসভ্যতার একটি নতুন রূপ তৈরি করছে এবং এটি সারা বিশ্ব, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হতে পারে। 

ছিন কাং বলেন, চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়নের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়: ১. স্বাধীনতা। চীনের সফল উন্নয়ন প্রমাণ করেছে যে, সকল দেশের নিজস্ব উন্নয়ন-পথ বেছে নেওয়ার এবং নিজেদের ভাগ্যকে নিজেদের হাতে গড়ার অধিকার আছে; 
২. জনগণকে সর্বোচ্চ স্থানে রাখা। চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়ন হল সকল মানুষের অভিন্ন সমৃদ্ধির আধুনিকায়ন, যা মানুষকে কেবল বস্তুগতভাবে ধনী করে না, আধ্যাত্মিকভাবেও সমৃদ্ধ করে।

৩. শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন। চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়ন শান্তি, উন্নয়ন, সহযোগিতা এবং জয়-জয় নীতি অনুসরণ করে এবং মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থানকে মেনে চলে;
৪. উন্মুক্ততা ও সহনশীলতা। চীন প্রতিটি দেশের জাতীয় অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিকায়নের পথকে সম্মান করে, একে অপরের কাছ থেকে শেখার নীতিতে বিশ্বাস করে, এবং একে অপরের ভালো দিকগুলো ভাগাভাগি করে নেওয়ায় ধারণা মেনে চলে।

৫. ঐক্য ও সংগ্রাম। চীনের উন্নয়নের সফল অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, শুধুমাত্র ঐক্য ও সংগ্রামের মাধ্যমেই আমরা শক্তি অর্জন করতে পারি এবং সবাই মিলে একটি অভিন্ন পরিকল্পনার আওতায় সামনে এগুতে পারি। 
ছিন কাং আরও বলেন, চীনা বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া বিশ্বের শান্তি, ন্যায়বিচার ও অগ্রগতির একটি অংশ। আমরা আশা করি ও বিশ্বাস করি যে, বিশ্বের আরও দেশ আধুনিকায়নের পথে যাত্রা করবে এবং মানবজাতির জন্য একটি অভিন্ন লক্ষ্যের কমিউনিটি গঠনের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে নিজেদের অবদান রাখবে।
চীন-মার্কিন সম্পর্ক সম্পর্কে ছিন কাং বলেন, মার্কিন নাগরিকরাও চীনা জনগণের মতোই যথেষ্ট আন্তরিক ও বন্ধুসুলভ আচরণে অভ্যস্ত। তাঁরাও সুখী জীবন চায়, সুন্দর পৃথিবী চায়।

লস অ্যাঞ্জেলেসের লং বিচ বন্দরের একজন ডককর্মী একবার তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর গোটা পরিবারের জীবিকা চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যবাণিজ্যের ওপর নির্ভর করে। ডককর্মী আরও বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে একসাথে সমৃদ্ধ হতে হবে। 

চীনা মন্ত্রী আরও বলেন, কয়েক দিন আগে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ‘মানববিহীন এয়ারশিপ ঘটনা’ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সেটি ছিল পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা। খোদ মার্কিন কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে যে, মানববিহীন চীনা বেলুনটি দেশটির জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি। তারপরও, আন্তর্জাতিক আইনের চেতনা ও আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে, মার্কিন প্রশাসন বেলুনটিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ভূপাতিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের এহেন আচরণ সঠিক ছিল না; এটা সহজেই এড়ানো যেতো।

চীন-রাশিয়া সম্পর্ক সম্পর্কে তিনি বলেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক জোটবহির্ভুত ও শান্তিপূর্ণ। কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে এ সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। ছিন কাং বলেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সম্পর্কের দৃষ্টান্তস্বরূপ। বড় দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক বিরোধিতার হওয়া উচিত, নাকি উন্মুক্ত ও খোলামেলা হওয়া উচিত? চীন ও রাশিয়া পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছে, যা একটি নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। 

মন্ত্রী বলেন, কোনো কোনো দেশ চীন-রাশিয়া সম্পর্ককে স্নায়ুযুদ্ধের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে অভ্যস্ত এবং তারা যা দেখে, তা কেবল তাদের নিজেদের কাজের প্রতিফলন। বস্তুত, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক বিশ্বের কোনো দেশের জন্য হুমকি নয় বা এ সম্পর্ক কোনো তৃতীয় পক্ষের জন্য উস্কানিমূলকও নয়। চীন ও রাশিয়া যখন হাতে হাত রেখে সামনে এগুতে থাকবে, তখন বিশ্বের বহু-মেরুকরণ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গণতন্ত্রায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বিশ্বব্যাপী কৌশলগত ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। 

ছিন কাং আরও বলেন, চীন-রাশিয়া বাণিজ্যে কোন মুদ্রার ব্যবহার হবে, এ প্রশ্নের উত্তর সহজ। যে মুদ্রা ব্যবহার করা সহজ, নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য, তা ব্যবহার করা হবে। মনে রাখতে হবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রাকে একতরফা নিষেধাজ্ঞার জন্য তুরুপের তাস হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়; আন্তর্জাতিক মুদ্রা চাপ প্রয়োগ ও জবরদস্তির সমার্থক হওয়াও উচিত নয়।

চীনের তাইওয়ান সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, সমস্যাটিতে যে-কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য।তিনি বলেন, তাইওয়ান হলো গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর মাতৃভূমির একীকরণ বাস্তবায়ন করা হলো তাইওয়ানবাসীসহ চীনা জনগণের মহান দায়িত্ব। 

ছিন কাং বলেন, তাইওয়ানের সমস্যার সমাধান করা চীনাদের নিজস্ব কাজ। এখানে কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। চীনের ‘বিচ্ছিন্নতাবিরোধী আইন’-এ এটা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।  
ছিন কাং আরও বলেন, তাইওয়ান ইস্যু চীনের কেন্দ্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু এবং চীন-মার্কিন সম্পর্কের রাজনৈতিক ভিত্তি। অথচ, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বার বার উস্কানিমূলক আচরণ করছে। তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাহায্য করা তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি ও স্থিতিশীলতার সাথে সাংঘর্ষিক। এ ব্যাপারে যদি যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক না-হয় ও নিজের নেতিবাচক তৎপরতা বন্ধ না-করে, তবে চীন-মার্কিন সম্পর্ক আরও নড়বড়ে হয়ে যাবে।

চীন-জাপান সম্পর্ক সম্পর্কে তিনি বলেন, চীন ও জাপান হলো একে অপরের প্রতিবেশী। নতুন যুগে, দু’দেশের সম্পর্ককে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ৪৫ বছর আগে দু’দেশ ‘চীন-জাপান শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এ ছাড়াও, আরও তিনটি রাজনৈতিক সমঝোতা দু’দেশ স্বাক্ষর করেছে। এগুলো হচ্ছে দু’দেশের সম্পর্কের রাজনৈতিক ভিত্তি। দু’দেশের উচিত একে অপরের জন্য হুমকি না-হওয়া এবং নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা। 

ছিন কাং বলেন, জাপানি সামরিক আগ্রাসন একসময় চীনা জাতির মারাত্মক ক্ষতি করেছিল এবং সে-ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকায়নি। চীনা জনগণ কখনও সে-কথা ভুলবে না; জাপানেরও সে ইতিহাস ভোলা উচিত নয়। তবে, চীন সবসময় জাপানের সাথে সদয় আচরণ করেছে এবং দেশটির কাছ থেকে ভালো প্রতিবেশীসুলভ আচরণ ও বন্ধুত্ব আশা করে আসছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, চীন ও জাপানের একে অপরকে প্রয়োজন। দু’দেশকে বাজারের নীতি ও অবাধ বাণিজ্য ধারণার আওতায় সহযোগিতা জোরদার করতে এবং যৌথভাবে শিল্প ও সরবরাহ-চেইনের স্থিতিশীলতা সুরক্ষায় কাজ করতে হবে। অনুবাদ: ছাই ইউয়ে, স্বর্ণা, ওয়াং হাইমান, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।