NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬ | ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
ইরানে আজ ‘কঠোর আঘাত হানার’ হুমকি দিলেন ট্রাম্প ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সুপ্রিম লিডারের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইরান শাহবাগে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের হাতাহাতি ভালো আছেন হায়দার হোসেন The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত
Logo
logo

রাজধানীর লালবাগে জাল সনদ বিক্রি করে আয়েশি জীবন


খবর   প্রকাশিত:  ০৮ মার্চ, ২০২৬, ০৬:০৯ এএম

রাজধানীর লালবাগে জাল সনদ বিক্রি করে আয়েশি জীবন

 রাজধানীর লালবাগে নকল বা জাল সনদ তৈরি চক্রের হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। শুক্রবার (৫ মে) সকালে লালবাগের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি জাল সনদ ও মার্কশিট জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ছাড়াও উচ্চতর পড়াশোনা করে আসা একজন প্রকৌশলীও রয়েছেন। তারা হলেন প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান, তার স্ত্রী নুরুন্নাহার মিতু, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিন আলী ও দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটির ডিরেক্টর বুলবুল আহমেদ।  ডিবি বলছে, চক্রের হোতা জিয়াউর রহমান। তিনি বিদেশে উচ্চতর পড়াশোনা করেছেন। দেশে ফিরে শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েন নকল সনদ তৈরিতে। জিয়া মূলত একজন সহযোগীকে দিয়ে এই কাজ করাতেন। তার নাম ইয়াসিন। আর তাকে এই কাজে সহায়তা করতেন দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটির ডিরেক্টর বুলবুল আহমেদ। তারা এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের কাছে এসব জাল সনদ বিক্রি করেছেন।  

লালবাগ বিভাগের ডিবির ডিসি মশিউর রহমান বলেন, জিয়া বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন। এই জাল সনদ বিক্রি করে তিনি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটও কিনেছেন। যা আমরা তদন্তে ও তার মুখ থেকে জানতে পেরেছি। মূলত জিয়া এক একটি সনদ বিক্রি করতেন তিন লাখ টাকায়। আর সেটি তৈরির জন্য তার খরচ হতো মাত্র ১০০ টাকা। যা সবটাই লাভ ও অবৈধ টাকা। তাদের মধ্যে কেউ ১৪ বছর, কেউ ১২ বছর ধরে এসব কাজ করে আসছিলেন।  পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অনলাইন বিজ্ঞাপন দিয়ে জাল সনদ বিক্রি করছে বলে আমরা জানতে পারি। তারা সার্টিফিকেট, মার্কশিট, ট্রান্সক্রিপট ও টেস্টিমোনিয়াল বানিয়ে দেয়। যাতে মানুষ দেশ বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে।  মশিউর রহমান বলেন, তাদের হাতে বানানো ভুয়া সনদগুলো হাজার হাজার মানুষের কাছে চলে গেছে। ফলে আসল সনদধারীরা নকল সনদ কেনা ব্যক্তিদের কাছে বাধা হয়ে আছেন।   জিয়া এর আগে র‌্যাব, ডিবি, সিআইডি, পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা মূলত ব্যাকডেটেড বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সনদ বিক্রি করতেন। তারা নর্থসাউথ ও ইনডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ তৈরি করতেন। এছাড়া তারা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়েরও সনদ বিক্রি করতেন। এই চক্রে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী, কোষাধ্যক্ষ ও লোকজন জড়িত। সে ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত তথ্য জেনে জানাতে পারব।  ডিবির লালবাগ বিভাগের ডিসি জানান, তারা মূলত অনলাইনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই ব্যবসা চালাচ্ছিলেন। প্রথমে জিয়া ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা অনেক দিন ধরেই এই কাজ করে আসছিলেন। বিভিন্নজনকে সনদ ও অ্যাডুকেশনাল কনসালটেন্সির কথা বলে কারও কাছে তিন লাখ, কারো কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়েছে চক্রটি। যেগুলো অনলাইনে দেওয়া যায় না তাদের কাছ থেকে লামসাম টাকা নিতো। হাজার হাজার সনদ তৈরি করে বিভিন্নজনকে দিয়েছে তারা। যেগুলো বেশির ভাগই বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বানানো। তবে এই কাজটি করতেন একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়ে যার নাম ইয়াসিন। তিনি এসব স্বীকার করেছেন।   মশিউর জানিয়েছেন, নামিদামি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বানানো ও হাজার হাজারজনকে এসব সনদ দিয়েছেন বলে জিয়া ডিবিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তিনি এক সময় নীলক্ষেতে এসব কাজ করতেন।

কিন্তু পরিস্থিতি ভালো না জেনে লালবাগে বাসায় এসব কাজ করছেন। এজন্য তিনি স্ক্যানার, মেশিন ও প্রিন্টার বসিয়ে একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়ে হাজার হাজার জাল সার্টিফিকেট, মার্কশিটপত্র, ট্রান্সস্ক্রিপ্ট ও টেস্টিমোনিয়াল তৈরি করে বিক্রি করেছেন। তবে তিনি যেসব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ জাল করেছেন অনেক অস্তিত্ব এখন নেই। আবার কোনোটা আছে। এছাড়া বোর্ডের নামেও সনদ তৈরি করতেন তিনি।  ডিবির লালবাগ বিভাগের ডিসি বলছেন, এসব সনদ খালি চোখে দেখলে বোঝার উপায় নেই যে, এগুলো জাল। এগুলোর ছাপ, লেখা, অ্যাম্বুস সব অরিজিনাল মনে হবে। তিনি স্বীকার করেছেন, এই চক্রে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বোর্ডের কর্মকর্তারা জড়িত। তাদের টাকা দিয়েই তিনি এসব কাজ করতেন। এছাড়া আরো কিছু লোক আছে যারা মোটা অংকে সনদ বিক্রি করেন, তারা তার কাছে এসব সনদ নেন। জিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জড়িত আছেন, তারা কীভাবে কাজ করেছেন এসব নিয়ে আমাদের তদন্ত চলমান থাকবে।