NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, জুন ৮, ২০২৬ | ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচন শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড  রেইজিং SHAIDAI & STARDOM – Sahar Hashmi and Feroze Khan's Unmissable On-Screen Magic- Akbar Haider Kiron Bangladesh Secures Historic Victory in United Nations General Assembly UNGA Presidency দুই দিনে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কোরবানীর ত্যাগের মহিমায় নিউইয়র্কে ঈদুল আজহা পালিত মুসলিম উম্মার ঐক্য, সৌহার্দ্য-সমৃদ্ধি  কামনা প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কুরবানির বর্জ্য, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত মসজিদগুলোতে বেহেশতের টিকিট বিক্রির জন্য ইমাম নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে: আইনমন্ত্রী ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬: উৎসব, আবেগ আর শিকড়ের টানে বর্ণাঢ্য সমাপ্তি ৩০ মে শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর বিশেষ আয়োজন জ্যাকসন হাইটসে জমজমাট আয়োজনে বাংলাদেশী আমেরিকান ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ সম্পন্ন
Logo
logo

শাহাজাদপুরে কবির মনের মন্দিরে…


এম আব্দুর রাজ্জাক প্রকাশিত:  ০৮ জুন, ২০২৬, ১১:২২ এএম

শাহাজাদপুরে কবির মনের মন্দিরে…

এম আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া থেকে :

শাহাজাদপুরে কবির মনের মন্দিরে…

 

‘ভালবেসে সখি নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো

তোমার মনেরও মন্দিরে।।

আমারও পরাণে যে গান বাজিছে তাহার তালটি শিখো

তোমার চরণ মঞ্জিরে।।’

শাহজাদপুরের বিচ্ছেদ স্মরণ করে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত ‘যাচনা’ কবিতাটি। বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রবাদপ্রতিম পুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অফুরান অভিজ্ঞতার উৎস, বাংলাদেশ। এসেছিলেন জমিদারি করতে। কিন্তু কান পেতে শুনেছেন বাংলার মাটি-জল-হাওয়ার গল্প। শিলাইদহে পেয়ে বসেছিল, বাউলের সুরে মানুষ খোঁজার অন্বেষা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর তাঁকে দিয়েছে জীবনের অন্য স্বাদ। এখানে এসে পেয়েছেন আত্মোপলব্ধি। সেই উপলব্ধিই তাঁকে কাছে এনে দিয়েছে এখানকার প্রকৃতি আর মানুষকে।

কাছারি বাড়ির ইতিহাস : শাহজাদপুরের জমিদারি একসময় নাটোরের রানী ভবানীর নামে ছিল। ১৮৪০ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর নিলামে মাত্র তের টাকা দশ আনা দিয়ে জমিদারি কিনে নেন। এরপর থেকেই সেখানে শুরু হয় জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের কর্তৃত্ব। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাদপুরে যাতায়াত ছিল। জমিদারি দেখাশোনার কাজে মাঝে মাঝে তিনি আসতেন এবং সাময়িকভাবে বসবাস করতেন।

১৮৯৭ সালে কবির বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারি ভাগাভাগি করে দিলে কাকা জ্ঞানেন্দ্রনাথ ঠাকুর শাহজাদপুর, বড় ভাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহ এবং কবি নিজে পতিসরের দায়িত্ব পান। এরপর তিনি আর শাহজাদপুরে আসেননি। শাহজাদপুরের অংশ চলে যাওয়ার কয়েক মাস পরে ১৩০৪ সালের ৮ আশ্বিন রবীন্দ্রনাথ পতিসর যাওয়ার পথে তাঁর প্রিয় শাহজাদপুরে আর একবার এসেছিলেন। সেদিন তাঁর শাহজাদপুরের বিচ্ছেদ স্মরণ করে এখানে বসেই বৈষ্ণব কবিদের বিরহ-বিচ্ছেদের গানের অনুসরণে তাঁর বিখ্যাত সেই ‘যাচনা’ কবিতাটি লিখেছিলেন —

 

‘ভালবেসে সখি নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো

তোমার মনেরও মন্দিরে।।

আমারও পরাণে যে গান বাজিছে তাহার তালটি শিখো

তোমার চরণ মঞ্জিরে।।’

কাছারি বাড়ির সৌন্দর্য : শাহজাদপুরের কাছারি বাড়িটি ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলিতে নির্মিত ৩১ দরজা বিশিষ্ট একটি দোতলা ভবন। প্রায় দশ বিঘা জমির উপরে নির্মিত ভবনটির দৈর্ঘ্য ২৬.৮৫ মিটার এবং প্রস্থ ১০.২০মিটার এবং উচ্চতা ৮.৭৪ মিটার। ভবনটির প্রতিতলায় সিঁড়িঘর বাদে বিভিন্ন আকারের সাতটি ঘর রয়েছে। ভবনটির উত্তর-দক্ষিণে একই মাপের বারান্দা। বারান্দায় গোলাকৃতি থামের উপরাংশের অলংকরণ, বড়মাপের দরজা, জানালা ও ছাদের উপরের দেয়ালে পোড়ামাটির কাজ বিশেষভাবে লক্ষণীয়।ভবনটিতে রবীন্দ্রনাথের জীবনভিত্তিক আলোকচিত্র এবং ব্যবহৃত আসবাবপত্র নিয়ে রবীন্দ্র-স্মৃতি জাদুঘর করা হয়েছে। জাদুঘরটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহার্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সোফা, পালকি, ঘুমানোর খাট, চায়ের কেটলি, লনটেনিস খেলার র্যা কেট, খড়ম, চিনামাটির জগ, চিনামাটির পানির ফিল্টার, পিয়ানো, শ্বেত পাথরের গোল টেবিল, চিঠি লেখার ডেস্কসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী।

জাদুঘরে ১৩০৭ বঙ্গাব্দের ২৮ ভাদ্রে লেখা শত বছরের পুরনো একটি চিঠি রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এই চিঠি জাদুঘরটিকে সমৃদ্ধ করেছে। চিঠিটি নওগাঁ থেকে সংগৃহীত।ভবনটির পশ্চিমে বকুল গাছের গোড়ায় বৃত্তাকার বাঁধানো একটি মঞ্চ আছে। এটি ‘রবীন্দ্র মঞ্চ’ বলে পরিচিত।

কবির সৃজনকর্ম : বড়াল বিধৌত শাহজাদপুরে তিনি যেন জীবনের নতুন, পূর্ণ এক ছবি। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত আট বছর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারি দেখাশোনার কাজে সাময়িকভাবে শাহজাদপুরে আসতেন, বসবাস করতেন। একটানা তিনি দুই মাস এখানে অবস্থান করেছেন। এখানে তিনি রচনা করেছেন অনেক উঁচুমানের সাহিত্য। এর মধ্যে রয়েছে সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী, কল্পনা।

ছোটগল্পের মধ্যে রয়েছে পোস্টমাস্টার, ব্যবধান, রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা, ছুটি, অতিথি। ছিন্ন পত্রাবলির মধ্যে ৩৮টি পত্রও এখানেই লিখেছিলেন কবি। নাটকের মধ্যে রয়েছে বিসর্জন, প্রবন্ধের মধ্যে পঞ্চভূত। কবি শিলাইদহ থেকে বজরায় বড়াল নদের রাউতারায় এসে সেখান থেকে পালকিতে চড়ে কাছারিবাড়িতে আসতেন। জলের মতোই শতত বহমান এ অঞ্চলের মানুষের জীবনে মিশে ছিল দারিদ্র্য। তিনি এই এলাকায় দুধ ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গো-চারণভূমি, জলমহালগুলো বিনা পয়সায় এলাকার নিকারি সম্প্রদায় ও দরিদ্রদের মধ্যে প্রদান করেছিলেন। তাঁর পালকি বাহক আট বাগদি পরিবারকে দিয়েছেন থাকার জায়গা।

 

যেভাবে যাবেন :

 

ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে সিরাজগঞ্জ যাওয়া যায়। সিরাজগঞ্জ থেকে শাহজাদপুরের দূরত্ব প্রায় ৪৫ কি.মি.। পাবনাগামী বাসে গেলে সরাসরি শাহজাদপুর নামা যাবে।