NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
ইরানে আজ ‘কঠোর আঘাত হানার’ হুমকি দিলেন ট্রাম্প ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সুপ্রিম লিডারের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইরান শাহবাগে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের হাতাহাতি ভালো আছেন হায়দার হোসেন The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত
Logo
logo

‘সান ফ্রান্সিসকো রূপকল্প’ চীন-মার্কিন সম্পর্কের নতুন সূচনাবিন্দু হোক


আকাশ: প্রকাশিত:  ০৮ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০৮ এএম

‘সান ফ্রান্সিসকো রূপকল্প’ চীন-মার্কিন সম্পর্কের নতুন সূচনাবিন্দু হোক

 

 



১৭ ই নভেম্বর  চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে স্থানীয় সময় বুধবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। গত বছরের ১৪ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের বৈঠকের পর এবারেরটি হলো চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষনেতাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।  

এবারের চীন-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষনেতাদের বৈঠকের অর্থ শুধু ‘বালি দ্বীপের মতৈক্যে ফিরে যাওয়া’ নয়, বরং দু’দেশের সম্পর্ককে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার একটি কৌশলগত কার্যক্রম। ওই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেন, সেগুলো দু’দেশের সম্পর্কে মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছে। এই ‘সান ফ্রান্সিসকো রূপকল্প’ দু’দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের নতুন সূচনাবিন্দু সৃষ্টি করেছে। 

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং জানান, স্থিতিশীল, সুস্থ ও টেকসই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চীন কাজ করে আসছে। এর সঙ্গে সঙ্গে  চীনের নিজের নীতি ও গুরুত্বের বিষয় রয়েছে। 

চীন মনে করে, দুই দেশ ভালো অংশীদার হতে পারে এবং একে অপরকে সম্মানের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। এবারের শীর্ষসম্মেলন হচ্ছে চীনা-মার্কিন সম্পর্ক ও বিশ্ব পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করার জন্য চীনের চালানো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কর্মকাণ্ড। 

তবে কিছু কৌশলগত ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সত্যি এখনও মতবিরোধ রয়েছে। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেন, উভয় দেশের উচিত একযোগে কার্যকরভাবে মতবিরোধগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মাদকনিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের আদানপ্রদানসহ একাধিক ক্ষেত্রে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মতৈক্যে পৌঁছেছে।  

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কেবল দুদেশের অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রতিফলনও। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, মানবসমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে চাইলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত একযোগে বৃহৎ রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করা। 

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসেফ নাই মন্তব্য করেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ অসম্ভব। কোনও একটি দেশের পক্ষে কেবল নিজের শক্তি দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারীসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে লিখেছে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ওপর নির্ভর করে এবং বিশ্বে তাদের ভূমিকা ‘অপ্রতিস্থাপনযোগ্য’।

বিশ্বের বৃহত্তম উন্নত দেশ ও বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদেশ এবং বতর্মানে বৈশ্বিক প্রশাসন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোবাবিলায়ও দুপক্ষ অপ্রতিস্থাপনযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। 

চীন ও মার্কিন শীর্ষনেতারা সান ফ্রান্সিসকো বৈঠকে যে মতৈক্য পৌঁছেছেন, তাতে দেখা যায় দুদেশের ব্যাপক অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। পাশাপাশি, এগুলোর মধ্য দিয়ে দুপক্ষের পারস্পরিক কল্যাণ ও উভয়ের লাভ অর্জন সম্ভব। তবে, স্থিতিশীল চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে, দুপক্ষের অভিন্ন চেষ্টা চালানো উচিত। সংলাপ ও আদান-প্রদান হচ্ছে আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তি। বালি দ্বীপ থেকে সান ফ্রান্সিসকো পর্যন্ত চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বিভিন্ন সমস্যা অতিক্রম করে এসেছে, যা সহজ ছিল না। তবে, সান ফ্রান্সিসকো অবশ্যই শেষ বিন্দু নয়। এ শহর চীনা ও মার্কিন জনগণের একশ’ বছরের আদান-প্রদানের স্বাক্ষী। সঠিক পথে দুদেশের সম্পর্কের ফিরে আসার নতুন সূচনাবিন্দুতে হওয়া উচিত এ শহরের। 
সূত্র: চায়না মিইয়া গ্রুপ।