NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬ | ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচন শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড  রেইজিং SHAIDAI & STARDOM – Sahar Hashmi and Feroze Khan's Unmissable On-Screen Magic- Akbar Haider Kiron Bangladesh Secures Historic Victory in United Nations General Assembly UNGA Presidency দুই দিনে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কোরবানীর ত্যাগের মহিমায় নিউইয়র্কে ঈদুল আজহা পালিত মুসলিম উম্মার ঐক্য, সৌহার্দ্য-সমৃদ্ধি  কামনা প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কুরবানির বর্জ্য, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত মসজিদগুলোতে বেহেশতের টিকিট বিক্রির জন্য ইমাম নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে: আইনমন্ত্রী ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬: উৎসব, আবেগ আর শিকড়ের টানে বর্ণাঢ্য সমাপ্তি ৩০ মে শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর বিশেষ আয়োজন জ্যাকসন হাইটসে জমজমাট আয়োজনে বাংলাদেশী আমেরিকান ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ সম্পন্ন
Logo
logo

কুড়িগ্রামে অটোরিকশা পেয়ে এখন স্বাবলম্বী ভিক্ষুক বামন দম্পতি


এম আব্দুর রাজ্জাক প্রকাশিত:  ০৯ জুন, ২০২৬, ০২:১৩ এএম

কুড়িগ্রামে অটোরিকশা পেয়ে এখন স্বাবলম্বী ভিক্ষুক বামন দম্পতি


এম আব্দুর রাজ্জাক, উত্তরাঞ্চল বগুড়া থেকে : এক সময় ভিক্ষাবৃত্তি করেই জীবন চলতো বামন দম্পতি আবদার-আদুরী। তবে এতে লেগেই থাকতো অভাব-অনটন। অসুস্থতার কারণে নিয়মিতভাবে সেটিও করতে পারতেন না তারা। কিন্তু তাদের সেই কস্টের জীবন বদলে দিয়েছে একটি অটোরিকশা। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার প্রশাসনের উদ্যোগে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় দেয়া ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে এখন স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে তাদের সংসারে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামের বাসিন্দা আবদার আলী ও অরেচা বেগম (আদুরী) পরের জায়গায় বাস করেন। জীবিকার অবলম্বন ছিল ভিক্ষাবৃত্তি। বিষয়টি জানতে পেরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার রাসেদুল হাসান তাদের পুণর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এগিয়ে আসে জেলা প্রশাসনও। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় একমাস আগে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয়ে এই দম্পতিকে কিনে দেয়া হয় একটি অটোরিকশা। এখন সেটির ভাড়া থেকে অর্জিত অর্থে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে তাদের সংসারে। 

আবদার আলী বলেন, বয়স বেড়ে যাওয়ায় শরীরে নানা ধরণের রোগ দেখা দিয়েছে। ঠিকমত হাঁটতে পারেননা। ভিক্ষা করাও কঠিন হয়ে গিয়েছিল। অটোরিকশা পেয়ে দারুণ উপকার হয়েছে। এখন দু’মুঠো ভাত খাওয়ার জন্য আর চিন্তা করতে হয় না। আদুরী বলেন, ‘আগোততো ভিক্ষা করছিলাম। এলা গাড়ি পাচি, এটা দিয়া চলছি।’ কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাসেদুল হাসান জানান, বামন দম্পতি দু’জনই বয়স্ক, কাজ করতে পারেন না। ভিক্ষাবৃত্তিতে ছিল। শারীরিক কারণে সেটাও করতে পারছিলনা। উপজেলা প্রশাসন জেলা প্রশাসন ও অন্যদের সহযোগিতায় অটোরিকশা কিনে দেয়া হয়েছে। যার আয়ে তাদের সংসার ভালোই চলছে।’

আবদার হোসেনের উচ্চতা সাড়ে ৩ ফুট, বয়স ৭২। আর আনুমানিক সোয়া ৩ ফুট উচ্চতার আদুরীর বয়স ৬৫ বছর। তারা দুু’জন বাস করেন সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামে। ১৩ বছর আগে ঘর বাঁধেন এই বামন দম্পতি। তারপর থেকে সুখ-দু:খ ভাগাভাগি করে চলছেন একসাথে। বাস করার মতো ছিলনা একটি ঘর। এ অবস্থায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী অফিসার আমিন আল পারভেজের উদ্যোগে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে সাবেক মনিব কাজী মিজানুর রহমানের জায়গায় তাদের সম্মতিতে দু’কক্ষ বিশিষ্ট একটি দো’চালা টিনের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়। 

আবদার হোসেন বলেন, ৩৩ বছর আগে তিনি ভাগ্যের সন্ধানে সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়ন থেকে চলে আসেন কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের কাজী মিজানুর রহমানের বাড়িতে। সহায় সম্পদ না থাকায় থেকে গেছেন এখানে। তাদের বাড়িতেই কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন দীর্ঘ সময়। একটি বিয়েও করেছিলেন তিনি। স্ত্রীর নাম রেজিয়া। ২ বছর ঘর করার পর ঘটে বিচ্ছেদ। ৩ বছর পর আবার বিয়ে করেন। স্ত্রীর নাম আরজিনা। ২ মাস ঘর করার পর সেও তালাক দিয়ে চলে যায়। খর্বকায় মানুষ বলে স্ত্রী টেকেনা- বলে মন্তব্য করে গ্রামের মানুষ। শেষ পর্যন্ত ২০১০ সালে রংপুরের পীরগঞ্জের মধুপুর গ্রামের বামন কন্যা অরেচাকে তৃতীয় স্ত্রী রূপে গ্রহণ করেন আবদার।