NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, জুন ৮, ২০২৬ | ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচন শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড  রেইজিং SHAIDAI & STARDOM – Sahar Hashmi and Feroze Khan's Unmissable On-Screen Magic- Akbar Haider Kiron Bangladesh Secures Historic Victory in United Nations General Assembly UNGA Presidency দুই দিনে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কোরবানীর ত্যাগের মহিমায় নিউইয়র্কে ঈদুল আজহা পালিত মুসলিম উম্মার ঐক্য, সৌহার্দ্য-সমৃদ্ধি  কামনা প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কুরবানির বর্জ্য, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত মসজিদগুলোতে বেহেশতের টিকিট বিক্রির জন্য ইমাম নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে: আইনমন্ত্রী ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬: উৎসব, আবেগ আর শিকড়ের টানে বর্ণাঢ্য সমাপ্তি ৩০ মে শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর বিশেষ আয়োজন জ্যাকসন হাইটসে জমজমাট আয়োজনে বাংলাদেশী আমেরিকান ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ সম্পন্ন
Logo
logo

‘গাছ দাদু’ সত্যিকারের বৃক্ষপ্রেমী


Abdur Razzak প্রকাশিত:  ০৮ জুন, ২০২৬, ০৩:৩৯ এএম

‘গাছ দাদু’ সত্যিকারের বৃক্ষপ্রেমী
এম আব্দুর রাজ্জাক উত্তরববঙ্গ থেকে : ‘গাছ দাদু’ সত্যিকারের বৃক্ষপ্রেমী মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আজিজুল হক মাস্টার (৮৩) এলাকায় ‘গাছ দাদু’ নামে পরিচিত। দীর্ঘ ৬০ বছর এলাকার রাস্তার দু’পাশে, পতিত জমিতে ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছ লাগিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই বৃক্ষপ্রেমী। মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের গাংনী থেকে গাঁড়াডোব পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে চোখে পড়বে আম, কাঁঠাল, বেল, কদবেল, পেয়ারা, আমড়া, বাতাবি লেবুসহ নানা ধরনের মৌসুমী ফলের গাছ। প্রতিটি গাছই আজিজুল হকের রোপণ করা। তার রোপণ করা অনেক গাছ দীর্ঘ ৪৫ বছর ফল দিচ্ছে। এলাকার হতদরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে এসব পুষ্টিকর ফল খাচ্ছেন। শুধু গাছ রোপণ করেই দায়িত্ব শেষ করেননি আজিজুল হক, গাছের নিয়মিত যত্ন নেন তিনি; রাখেন খোঁজখবর। বয়সের ভারে ন্যূজ এই বৃক্ষপ্রেমী ফজরের নামাজ পড়েই বেরিয়ে পড়েন গাছের পরিচর্যা করতে। কোনো গাছ মারা গেলে সেখানে নতুন চারা রোপণ করেন। নিজের ঝাড়ের বাঁশ কেটে খাঁচা বানিয়ে লাগিয়ে দেন গাছের নিরাপত্তায়। নিজ হাতে পরিষ্কার করেন আগাছা। এমনকি কোনো জায়গা যদি নিচু মনে করেন তাহলে মাটি ভরাট করে তারপর চারা রোপণ করেন তিনি। আজিজুল হকের পেনশনের টাকার সিংহভাগ চলে যায় চারা কেনা, গাছ পরিচর্যা এবং শ্রমিকদের পেছনে। এতে তার দুঃখ নেই, নেই কোনো অভিযোগ। গাছের নিচে বসে মানুষ যদি একটু বিশ্রামের সুযোগ পায় এতেই তার সুখ। আজিজুল হক বলেন, পরিবেশ রক্ষায় গাছের কোনো বিকল্প নেই। এলাকার অসংখ্য অসহায় মানুষ গাছের ফল খেয়ে উপকৃত হচ্ছে। গাছ পশুপাখিরও আশ্রয়স্থল। পরিবেশ এবং মানুষের উপকারের কথা ভেবেই আজিজুল হক নিঃস্বার্থ শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। এর শুরু ১৯৬১ সালে, ছাত্রজীবনে। এখন তার অবসর জীবন। শরীর অতোটা সায় না দিলেও মনের শক্তিতে তিনি বলীয়ান। তার এমন কাজে ৮ সন্তানও গর্বিত। প্রতিবেশীরাও তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ওয়ালিদ হোসেন বলেন, আমরা শিশুকাল থেকে দেখে আসছি গাছ দাদু রাস্তার দু’পাশসহ অন্যের বাড়িতে খালি জায়গা পেলেই গাছ লাগিয়ে দেন। এই এলাকার অধিকাংশ বাড়ি ও রাস্তার পাশে যে গাছগুলো শোভা পাচ্ছে সবই তার লাগানো। প্রতিবেশী আলেয়া খাতুন বাড়ির পাশের একটি কাঁঠাল গাছ দেখিয়ে বলেন, সব গাছ মাস্টার সাহেবের লাগানো। আমরা ফল খাই। তবে তিনি গাছের পাতা কেটে ছাগলকে খাওয়াতে নিষেধ করেন। মাঝেমধ্যে এসে দেখে যান। গাছে লতা-পাতা উঠলে লাঠি দিয়ে নিজেই ছড়িয়ে দেন। এমন আদর্শবান শিক্ষক আজ আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে মনে করেন, গাংনী সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক এনামুল আজিম। মেহেরপুর বনবিভাগের উপ-পরিচালক মো. জাফর উল্লাহ বলেন, সত্যিকারের বৃক্ষপ্রেমী খুঁজতে হলে গাছ দাদু হলেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি কারো সহায়তা চান না।