NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক 'মারকুইস হু’স হু' ফাইন্যান্স খাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান মলি রহমানকে সম্মানিত করেছে সিএনএনের প্রতিবেদন ‘গেম অব চিকেন’: সংঘাতের বিপজ্জনক মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ : একটি আলোকবর্তিকা -  ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ
Logo
logo

নিজস্ব সম্পদের ব্যবহার  -  নন্দিনী লুইজা


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

নিজস্ব সম্পদের ব্যবহার  -      নন্দিনী লুইজা

জাতি-ধর্ম-বর্ণ বুঝি না, বুঝি আমার মানব সন্তান সুরক্ষিত আছে কি-না! গোটা বিশ্বে আমরা যে শক্তি নিয়ে কথা বলি, তাহলো মানব সন্তান।এই মানুষই দেশকে শাসন করে, বৈজ্ঞানিক হয়, আবিষ্কারক হয় আবার এই মানুষই সুপরিকল্পিত সুরক্ষিত না হলে একে অপরের ক্ষতির কারণ হয়। তাহলে আমাদের সর্বপ্রথম যে কাজটা করতে হবে, তা হলো মানব সন্তানকে সুরক্ষিত রাখা। আমরা যেভাবে কাজের পরিকল্পনা করছি তা কতটুকু ফলপ্রসূ হবে ভেবে দেখা দরকার। তবে নিম্নের বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দিলে দেশ ভাল ফলাফল পাবে আমার বিশ্বাস:- মানুষকে এলাকায় এলাকায় সমাবেশ করতে হবে দেশের প্রতি ভালোবাসা সম্প্রীতি বৃদ্ধি করার জন্য। প্রয়োজন পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন। মানুষকে কাজে লাগাতে হলে, তাকে সুরক্ষিত করে ,কাজে লাগাতে হবে।

দেশের মধ্যে মুক্ত বাজার সৃষ্টি করতে হবে যেখানে সিন্ডিকেট থাকবে না। বস্তি তুলে দিয়ে মানুষগুলোকে দেশের যেখানে অনাবাদি জমি আছে সেখানে ২/৩ মাসের খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়ে, নির্দেশ দিতে হবে, জমিতে কৃষি কাজ করে, নিজেরা নিজেরা স্বাবলম্বী হও।এতে করে শহরগুলোতে মানুষের গাদাগাদি কমবে, পাশাপাশি পতিত জমি গুলো সঠিক ও উৎপাদনশীল ব্যবহার সুনিশ্চিত হবে। ফলে বহির্বিশ্বে আমাদের নির্ভরতা কমবে। আমরা যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে মিতব্যয়ী হব এবং কৃচ্ছতা সাধন করব এই প্রত্যয় তৈরি করতে হবে। এতে আপনা আপনি আমরা অর্থনীতির মন্দা থেকে মুক্তি পাবো।  যে সকল গার্মেন্টস কর্মী গার্মেন্টসে কাজ করবে তাদের মালিকদের গার্মেন্টস কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে ।যাতে করে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি না হয় এবং কর্মী গুলো সুরক্ষিত থাকে। এতে করে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব হবে, সেইসঙ্গে অর্থনীতি স্বনির্ভর হবে।

 দুর্নীতিকে শিখড় থেকে উপড়ে ফেলতে হবে। যত পরিকল্পনা করি না কেন , দেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রথমে আমরা পরিবারের দিকটা আগে দেখব। পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে সত্যবাদী হতে শিক্ষা দেবো। প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে ভালো-মন্দের পার্থক্যের মতামত দেবো। এখানে বাবা-মা-ভাই-বোন সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে সঠিকটা  সঠিক ,আর ভুলটা ভুল বলতে শেখাতে হবে। কারণ পরিবারে বাবা -মা যদি মিথ্যা কথা অথবা মিথ্যার আশ্রয় নেয়, তাদের সন্তানরা মাথা উঁচু করে সত্য কথা বলার সৎ সাহস হারিয়ে ফেলে। অনেকেই বাবা-মার আচরণ মানতে চায় না বা পছন্দ করে না তথাপি শিশুকাল থেকে সত্য কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলার কারণে বাবা-মায়ের ভুল বা মিথ্যা মুখের উপর বলতে পারে না বা শেখে না। এখানেই যত আপত্তি এবং বিপত্তি। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, ফলে ভুলে ভরা পরিবার থেকে আসা ছেলে-মেয়েরা তাদের ব্যক্তি জীবনে পুনরায় প্রতিফলন ঘটায়।

কেননা সংস্কৃতে একটা কথা আছে "নর নং মাতুল ক্রম"অর্থাৎ "সন্তানেরা মায়ের কুল ধরে"।    প্রত্যেকটি সন্তান মায়ের কাছে থাকে ফলে বাবা-মার আচরণ সন্তানের সুপ্ত মন গ্রহণ করে নেয়। তাই আমি বলব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সাহিত্য-সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধের চর্চা হওয়া দরকার। এরপর আসবে প্রতিবেশী, পাড়া-মহল্লার বিষয়। আমরা যারা আজকে দেশের যে এহেন অবস্থা কতটা ভারসাম্যহীন - তা নিয়ে আলোচনা করছি, সমালোচনা করছি সরকারকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বুদ্ধি পরার্মশ দিচ্ছি। আমাদের দেশে কটা বাবা-মা (পরিবারের অভিভাবক) তার সন্তানকে বলেন "হে আমার সন্তান এই স্বাধীন দেশে বড় হচ্ছিস, সবার আগে প্রয়োজন, তোরা সঠিকভাবে লেখাপড়া শিখে ,ভালো মনের মানুষ হ"। কারণ ভালো মনের মানুষ হতে গেলে প্রত্যেকেই তার নিজের জায়গা থেকে মানুষ হবেই ,অপরাধ করবে না এবং বাবা-মার সঙ্গে দ্বৈত রোল প্লে করবে না।  

সন্তানদের কাছে গোটা পৃথিবী উন্মুক্ত অর্থাৎ আমরা বাবা-মা-আমাদের বাবা-মার কাছ থেকে শিখেছি রক্ষণশীলতা ,সেটা আবার আমরা আমাদের সন্তানদের উপর প্রভাব ফেলি, এতে করে বর্তমানে আমাদের সঙ্গে সন্তান -সন্তানাদির মন-মানসিকতার বিশাল ব্যবধান। এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে হবে। যা আমরা দেখলাম ৫ই আগষ্টে, আমরা অভিভাবক ভাবতেই পারিনি আমাদের সন্তানরা দেশটাকে এত ভালোবেসেছে। তাই তো অভ্যূথান ঘটে গেল। আশা রাখি আমাদের আগামী প্রজন্ম আমাদেরকে বুঝবে, আমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে এবং মানবিক হবে ।দেশকে নতুন মাত্রা দেবে। আসুন আমরা সবাই সমস্বরে গান গাই -আয় খুকু আয় আয় খুকু আয়  কাটেনা সময় যখন আর কিছুতেই.....  

একটা দেশের প্রথম সম্পদ হলো জমি, তারপর মানুষ ।শুধু মানুষ থাকলে হবে না, আবার জমি থাকলেও হবে না। তাই মানুষ এবং জমির সমন্বয় করতে হবে ।  ১৯৭১ সালে যে সকল বাবা-মা ,তার সন্তান, স্বামী ,এমনকি নিজে যুদ্ধ জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল-তাদের কাছে বর্তমান বিশ্বের মতো সুযোগ সুবিধা ছিল না, ছিল অগাধ মানবিকতার সঙ্গে দেশ প্রেম। তেমনি আবার দেখলাম ২০২৪ সালের আগষ্টের গন-অভ্যূথানের মাধ্যমে। আমার মাথায় ধরে না কে সরকার ?আমি ,আপনিই তো সরকার। আমরা নিজের ভালো বুঝি না, বুঝতে চাচ্ছি না। নিজের অক্ষমতা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছি। কী লাভ তাতে? আমরা নিজেরাই "আত্মঘাতী"। এই মানসিকতা থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে। আমাদের বিজয়কে নস্যাৎ করতে যেন কেউ না পারে।  অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রাণপণ যুদ্ধ করছি অথচ আমাদের দেশের মানুষকে পুলিশ, i¨ve, আর্মি দিয়ে পিটিয়ে ঘরে তোলার অপচেষ্টা চলছিল। তাদের কাছে বিষয়টা বেশ মজার। কিন্তু ছাত্র জনতার সাথে সাধারন মানুষ এই আন্দোলনে মাঠে নেমেছিল কোন কিছুর ভয় না করে বন্দুকের নলের সামনে বুক পেতে দিয়েছে।  আল্লাহ পাক সব বোঝেন, তাই আমাদের মনের জানালা খুলে দিয়েছেন।

আল্লাহপাক আবাবিল পাখি রূপী ছাত্র দিয়ে তার সৃষ্টি মানব সন্তানকে পাপ পুণ্যের হিসাব বুঝিয়ে দিচ্ছেন। আল্লাহ আমাদেরকে রহমত করুক ।আমরা সবার প্রতি মানবিক হই ।আমরা তওবা পড়ি নিজে নিজে বিশুদ্ধ হই । আগামী প্রজন্মের কাছে আর চোর-পুলিশ খেলা খেলতে চাই না ।আমরা অভিভাবকবৃন্দ সন্তানদের মানবিক করে তুলি। তাদেরকে আমরা এই শিক্ষা দেই-হিংসায়- ধ্বংস, অহংকারে-পতন, লোভ-লালসায় -পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ধ্বংস।   স্রষ্টার সৃষ্টিকে ভালোবাসি ।প্রকৃতি ও প্রাণীর পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে তুলি। তাই কবি বলেছেন -"বনেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে"।  "ওই নতুনের কেতন ওড়ে কাল বৈশেখীর ঝড় তোরা সব জয়ধ্বনি কর, তোরা সব জয়ধ্বনি কর-"। আমার গ্রাম গঞ্জের সাধারণ মানুষ অত বোঝে না। তিনবেলা খেতে পারলে খুশি। তারা এক কথাই বলছে আমরা সাধারণ মানুষ পেটের দায়, আমাদের বড় দায়। আমাদের এত জেনে কি হবে।

আমরা অভাবে আর ক্ষুধার জ্বালায় থাকতে চাই না। সুতরাং আমরা সবার সঙ্গে তাল না দিয়ে, সরকারের নির্দেশ মোতাবেক সঠিকভাবে পরিকল্পনা মাফিক কাজ পরিচালনা করি, তাহলে আমরা আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারব।  এদেশের মানুষকে যারা কিনা জেলা, উপজেলা / থানা, ইউনিয়ন, পর্যায়ে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে কাজ করছে, তা সঠিকভাবে বন্টন হোক এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের বড় শক্তি যুবসমাজ ।ওরা স্বাধীন বাংলাদেশের বিশুদ্ধ বাংলাদেশি। যাদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছর ।তাদের বাবা-মা স্বাধীনতার পর জন্মগ্রহণ করেছেন। আমরা যারা স্বাধীনতার আগে জন্মগ্রহণ করেছি কম বেশি স্বার্থপর ,আমরা লোভী, দেশকে রক্ষা না করে আমরা একাধারে সরকারকে দায়ী এবং চুরির মহামিলনে ব্যস্ত । শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে হবে, এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

কারণ এই যুবসমাজ '৭১এর স্বাধীনতার কথা বইয়ে পড়েছে আর বাবা-মার কাছে গল্প শুনেছে। এই যুদ্ধে তাদেরকে উৎসাহিত করেছে। এই যুবসমাজ কত সুন্দর ভাবে, দেশকে স্বৈরশাশনকে উৎক্ষাত করে, মুক্তির মিছিলে, জীবন সুরক্ষিত রাখার জন্য, প্রচার-প্রচারণা চলছে। তারা বড়ই সত্যবাদী এবং দায়িত্বশীল। যদিও আমাদের এই সোনার ছেলেরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেটে (ইন্টারনেটে )বসে থাকে। মানুষ এমন একটা জাতি ঘাড়ে জোয়াল তুলে দিলে আপনা-আপনি চালাবে। তাই আপনার বড় শক্তি যুবসমাজ , এরা কাদামাটি দিয়ে তৈরি এদেরকে যেভাবে গড়ে তুলবেন সেভাবে গড়ে উঠবে । দেশ রক্ষায় আগামী নেতৃত্বে আমরা তাদের পাশে থাকলে ওরা সাহস ও উদ্দীপনা নিয়ে দেশ গড়ায় মনোযোগী হবে।

 নন্দিনী লুইজা কলামিস্ট ও সমাজকর্মী