NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন কিংবদন্তী নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানান জটিলতার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন ৯ আগস্ট নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান  ইউনিটি প্যারেড Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণের জন্মদিন পালিত বগুড়ায় নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সম্মাননা পেলেন দুই কৃতি অ্যালামনাই
Logo
logo

তাইওয়ান চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি স্থাপন করে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রকাশিত:  ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫০ এএম

তাইওয়ান চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি স্থাপন করে

সম্প্রতি, চীনের তাইওয়ান অঞ্চলের নেতা লাই ছিং ত্য তথাকথিত ‘ঐক্যের উপর দশটি বক্তৃতা’ চালু করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল তার ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র বিচ্ছিন্নতাবাদী ভ্রান্ত ধারণাকে ন্যায্যতা দেওয়া, দ্বীপের জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রতারিত করা।

লাই ছিং ত্য অবশ্যই ভুলে গেছেন যে, এই বছরের ১৯ মে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা টানা নবম বছরের জন্য তথাকথিত তাইওয়ান-সম্পর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ দেশ চীনকে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাব মেনে চলে, এক-চীন নীতিকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় তাইওয়ানের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে এবং চীনের অবস্থানকে সমর্থন করে। এটি সম্পূর্ণরূপে দেখায় যে এক-চীন নীতি মেনে চলা জনগণের ইচ্ছা, সাধারণ প্রবণতা এবং ধার্মিকতা।

প্রকৃতপক্ষে, যদি আমরা আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক অনুশীলনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি, তাহলে আমরা লাই ছিং ত্য-এর যুক্তিগুলোর অসারতা এবং প্রতারণা দেখতে পাব। যেমন ‘তাইওয়ান একটি দেশ’ এবং ‘প্রস্তাব ২৭৫৮ শুধুমাত্র জাতিসংঘের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি নির্ধারণ করে এবং তাইওয়ানকে জড়িত করে না’।

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে, কায়রো ঘোষণা এবং পটসডাম ঘোষণার মতো আইনি নথির একটি সিরিজ যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করে এবং তাইওয়ানকে চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য অঞ্চল হিসেবে আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তিও স্থাপন করে। ১৮৯৫ সালে জাপান জোরপূর্বক তাইওয়ান দখল করে নেয়। ১৯৪৩ সালে, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন কায়রো ঘোষণাপত্র জারি করে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে জাপানকে তাইওয়ান এবং পেঙ্গু দ্বীপপুঞ্জসহ জবরদখল করা চীনা অঞ্চলগুলো চীনকে ফেরত দিতে হবে। ১৯৪৫ সালের জুলাই মাসে, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন পটসডাম ঘোষণাপত্র জারি করে, যার ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল যে, কায়রো ঘোষণাপত্রের শর্তাবলী বাস্তবায়ন করতে হবে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে, টোকিও ‘জাপানি আত্মসমর্পণ ধারা’ স্বাক্ষর করে এবং ‘পটসডাম ঘোষণাপত্রে বর্ণিত বাধ্যবাধকতাগুলো বিশ্বস্ততার সাথে পালন করার’ প্রতিশ্রুতি দেয়। একই বছরের অক্টোবরে, চীন সরকার ঘোষণা করে যে তারা ‘তাইওয়ানের উপর সার্বভৌমত্বের অনুশীলন পুনরায় শুরু করবে’, এবং চীন আইনত এবং বাস্তবে তাইওয়ান পুনরুদ্ধার করে। ১৯৪৯ সালে, গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের কেন্দ্রীয় গণ-সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, যা চীনের একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে চীন প্রজাতন্ত্রের সরকারকে প্রতিস্থাপন করে এবং স্বাভাবিকভাবেই তাইওয়ানের উপর সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করে এবং প্রয়োগ করে।

১৯৭১ সালে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রস্তাব ২৭৫৮ পাস করে, যা আরেকটি প্রামাণিক নিশ্চিতকরণ ছিল যে, তাইওয়ান চীনের। প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, ‘সংকল্পবদ্ধ: গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সকল অধিকার পুনরুদ্ধার করার জন্য, তার সরকারের প্রতিনিধিদের জাতিসংঘে চীনের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং জাতিসংঘ এবং এর সমস্ত অনুমোদিত সংস্থায় অবৈধভাবে দখল করা চিয়াং কাই-শেকের প্রতিনিধিদের অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে।’

এছাড়াও, সাধারণ পরিষদ ‘দুই চীনের প্রতিনিধিত্ব প্রস্তাব’ এবং ‘এক চীন, এক তাইওয়ান এবং তাইওয়ান আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব’ বাতিল করে দেয়, প্রস্তাব ২৭৫৮ পাসের জন্য ভোট দেওয়ার আগে, যা আরও দেখায় যে লাই ছিং ত্য-এর তথাকথিত ‘প্রস্তাব  ২৭৫৮ তাইওয়ানকে জড়িত করে না’-এ কথা সম্পূর্ণ অর্থহীন।

আন্তর্জাতিক অনুশীলন থেকে, প্রস্তাব ২৭৫৮-এর প্রেরণায়, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ তাইওয়ান কর্তৃপক্ষের সাথে ‘সরকারি সম্পর্ক’ ছিন্ন করেছে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারকে চীনের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার অন্যান্য বিশেষায়িত সংস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে ‘চিয়াং কাই-শেকের প্রতিনিধিদের’ বহিষ্কার করেছে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের বৈধ অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে তাইওয়ান অঞ্চলের অংশগ্রহণ সম্পর্কিত যে কোনও সমস্যা এক-চীন নীতির অধীনে সমাধান করতে হবে।

তাইওয়ানের ফর্মোসা বুলেভার্ড ইলেকট্রনিক নিউজের সর্বশেষ জরিপ অনুসারে, লাই ছিং ত্য-এর প্রশাসনের প্রতি সন্তুষ্টি ৪৪.৭%-এ নেমে এসেছে, যা গত বছরের মে মাসে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একটি নতুন সর্বনিম্ন স্তর এবং তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার আস্থাও একটি নতুন সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। তাইওয়ান চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ-এটি ১.৪ বিলিয়নেরও বেশি চীনা জনগণের ঐকমত্য, যার মধ্যে ২৩ মিলিয়ন তাইওয়ানিজ নাগরিকও রয়েছে, এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও ঐকমত্য।‌ 

সূত্র: স্বর্ণা-হাশিম-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।