NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক 'মারকুইস হু’স হু' ফাইন্যান্স খাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান মলি রহমানকে সম্মানিত করেছে সিএনএনের প্রতিবেদন ‘গেম অব চিকেন’: সংঘাতের বিপজ্জনক মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ : একটি আলোকবর্তিকা -  ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ
Logo
logo

হাজার হাজার মাইলজুড়ে অভিন্ন সমৃদ্ধির চর্চা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রকাশিত:  ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৭ এএম

হাজার হাজার মাইলজুড়ে অভিন্ন সমৃদ্ধির চর্চা

চীনে ২৮ বছর ধরে বাস্তবায়িত একটি পরিকল্পনা দেশের ভূমির এক-ষষ্ঠাংশের অধিকারী সিনচিয়াংয়ে গভীর পরিবর্তন এনেছে ও আনছে। ১৯৯৭ সালে সিনচিয়াংয়ে প্রথমবারের মতো সহায়তাদল প্রবেশ থেকে শুরু করে, ২০১০ সালে ১৯টি প্রদেশ ও শহরের মধ্যে সর্বাত্মক সহযোগিতা শুরু হওয়া পর্যন্ত, পাহাড় ও সমুদ্রজুড়ে এই সহযোগিতা অভিন্ন উন্নয়নের গল্প লিখেছে ও লিখছে।

সিচিয়াংয়ের নিজের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সমৃদ্ধ তেল ও গ্যাস সম্পদ, বিশ্বখ্যাত উচ্চমানের তুলা এবং একটি সুসংগত বহুজাতিক সমাজ এর বৈশিষ্ট্য। তবে, ভৌগোলিক অবস্থান সিনচিয়াংয়ের উন্নয়নের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে অবস্থিত এবং পরিবহন-ব্যয় বেশি। দীর্ঘকাল ধরে এই সমস্যা এর সম্পদের সুবিধাগুলোকে উন্নয়ন-সুবিধায় রূপান্তরকে সীমাবদ্ধ রেখেছিল। 

চীন তখন সিনচিয়াংয়ের উন্নয়নে সহায়তার জন্য বিভিন্ন অঞ্চলের প্রচেষ্টাকে একত্রিত করে। এই মডেলের পিছনে একটি স্পষ্ট ধারণা রয়েছে: একটি দেশের আসল শক্তি সমস্ত অঞ্চলের সাধারণ অগ্রগতির সাথে অবিচ্ছেদ্য; সমাজের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ডালিমের বীজের মতো ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত সমস্ত জাতিগত গোষ্ঠীর ঐক্য। 

গত দুই দশক ধরে এই সহযোগিতা দৃশ্যমান ফলাফল এনে দিয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, সাহায্য কেবল মূলধন বিনিয়োগ নয়, বরং সিনচিয়াংয়ের সম্পদের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে শিল্প উন্নয়ন করা। যেমন, কুয়াংতং ও কাশগার জেলার সহযোগিতায় সিনমেই শিল্প উদ্যান একটি কোল্ড চেইন লজিস্টিকস এবং ই-কমার্স নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যাতে স্থানীয় বৈশিষ্ট্যময় পণ্যগুলো ৪৮ ঘন্টার মধ্যে জাতীয় বাজারে পৌঁছাতে পারে। উদ্যানটি ১৮টি কোম্পানিকে একটি সম্পূর্ণ শিল্প-শৃঙ্খল গঠনের জন্য আকৃষ্ট করে, যা হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়। 


পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১২ সাল থেকে সিনচিয়াংয়ের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে, যার গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৬.৬ শতাংশ। বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কৃষি, পর্যটন ও জ্বালানি সম্পদসহ বিভিন্ন শিল্প সমন্বিতভাবে বিকশিত হয়েছে এবং শিল্পের কাঠামো আরও যুক্তিসঙ্গত হয়ে উঠেছে।
এদিকে, শিক্ষাক্ষেত্রও দ্রুত উন্নত হচ্ছে। কাশগরে শাংহাইয়ের সহায়তায় নির্মিত স্কুলগুলোয় মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ ও পরীক্ষাগারগুলো মানসম্মত এবং পূর্বের শিক্ষকরা ‘একের পর এক’ নির্দেশনার মাধ্যমে স্থানীয় শিক্ষার মান উন্নত করেছেন। গত ১৫ বছরে সিনচিয়াংয়ে ২১০০টিরও বেশি বিদ্যালয় নতুনভাবে নির্মিত বা রূপান্তর করা হয়েছে এবং আরও বেশিসংখ্যক শিশু সমান শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে, যার অর্থ তাদের জীবনে আরও বেশি সুযোগ আসবে। 
সিনচিয়াংয়ের চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত ছিল না। হ্যেথিয়ানে বেইজিংয়ের ডাক্তারদের সম্পাদিত জটিল অস্ত্রোপচার স্থানীয় এলাকার অনেক প্রযুক্তিগত অভাব পূরণ করেছে। চেফু জেলায় বিরল রোগে আক্রান্ত একটি শিশুর জন্য শাংহাই বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তৈরি একটি চিকিত্সা পরিকল্পনা হতাশ পরিবারটিকে আশার আলো দেখাচ্ছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গ্রামীণ ক্লিনিক নির্মাণে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ এসেছে, যার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা তাদের দোরগোড়ায় উচ্চমানের চিকিৎসা পরিষেবা উপভোগ করতে পারছেন। ‘চিকিৎসার অসুবিধা’ সমস্যাটি যা একসময় অনেক মানুষকে সমস্যায় ফেলত, তা সমাধান করা হয়েছে। 

সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। চেচিয়াংয়ে অনুষ্ঠিত সিনচিয়াং সাংস্কৃতিক সপ্তাহে, উইঘুর মাইক্সিলাইফু নৃত্য ও কাজাখ সূচিকর্মের মতো সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো আরও বেশি লোককে সিনচিয়াংয়ের বৈচিত্র্যময় আকর্ষণ বুঝিয়ে দেয়। বিভিন্ন স্থান যৌথভাবে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ ও শৈল্পিক আদান-প্রদান পরিচালনা করে বিভিন্ন সংস্কৃতির পারস্পরিক বোঝাপড়া ত্বরান্বিত করেছে। এই ধরণের হৃদয়ের যোগাযোগ যেকোনো ধরণের সহায়তার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী। 


আসলে সিনচিয়াংকে সাহায্য করার তাৎপর্য বস্তুগত উন্নতির চেয়েও অনেক বেশি। এটি অনেকটা এক বন্ধনের মতো, যা চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্ঞান ও সম্পদকে সিনচিয়াংয়ের উন্নয়নের চাহিদার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করে। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অঞ্চল ও জাতীয়তার মানুষের বোঝাপড়া আরও গভীর করেছে এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করেছে। হাজার হাজার মাইলজুড়ে এই সহযোগিতার চর্চা, চীনের সাধারণ উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতির নীতিকে তুলে ধরে। এই নীতি হচ্ছে: যখন প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী উন্নয়নের ফল ভোগ করবে, তখন সমগ্র দেশ সত্যিকার অর্থে সামনে এগিয়ে যাবে, উন্নত হবে। 

সূত্র:ছাই-আলিম-ওয়াং হাইমান,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।