NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo

বহুপাক্ষিক সহযোগিতার আহ্বান সি চিন পিংয়ের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

বহুপাক্ষিক সহযোগিতার আহ্বান সি চিন পিংয়ের

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে, বেইজিংয়ের মহাগণভবনে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। ২৫তম চীন-ইইউ নেতৃবৃন্দের বৈঠকে অংশ নিতে তারা চীন সফরে এসেছেন।

সি চিনপিং জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে চীন ও ইউরোপের নেতাদের আবারও দূরদর্শিতা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও ইতিহাসের পরীক্ষা পাস করতে সক্ষম এমন কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে চীন-ইইউ সম্পর্কের উন্নয়নের সঠিক দিকনির্ধারণ করা যায় এবং আগামী ৫০ বছরের জন্য চীন-ইইউ সম্পর্ককে আরও উজ্জ্বল করার পাশাপাশি বিশ্বকে আরও স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তা প্রদান করা যায়।
সি চিন পিং বলেন, এ বছর চীন-ইইউ কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী এবং জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৮০তম বার্ষিকী, চীন-ইইউ সম্পর্ক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। চীন ও ইউরোপ উভয়ই বহুপাক্ষিকতাবাদ সমর্থনকারী ও উন্মুক্ত সহযোগিতার পক্ষে বলিষ্ঠ শক্তি। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যতই জটিল ও কঠিন হোক না কেন, চীন ও ইউরোপের মধ্যে যোগাযোগ, আস্থা ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।
চীন-ইইউ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে প্রেসিডেন্ট সি তিনটি প্রস্তাব পেশ করেছেন। প্রথমত, পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে অংশীদারিত্ব সুদৃঢ় করা। চীন একটি শান্তিপ্রিয় দেশ যা সম্প্রীতি, সমন্বয়, সহযোগিতা ও জয়-জয় নীতিতে বিশ্বাসী। পশ্চিমা দেশগুলোর পথ অনুসরণ করে চীনকে বিচার করলে চীন সম্পর্কে ধারণা ভুল হবে। চীন ও ইউরোপের ইতিহাস, সংস্কৃতি, উন্নয়ন পথ ও ব্যবস্থা ভিন্ন, কিন্তু এই পার্থক্য অতীতে চীন-ইইউ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি এবং ভবিষ্যতেও তা করা উচিত নয়।

বর্তমানে ইউরোপের চ্যালেঞ্জ চীন থেকে আসছে না। চীন ও ইউরোপের মধ্যে মৌলিক স্বার্থ সংঘাত বা ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নেই, সহযোগিতা, প্রতিযোগিতার চেয়ে বেশি এবং ঐকমত্য বিভেদের চেয়ে বেশি—এই মৌলিক সত্য ও মূল সুর পরিবর্তন হয়নি। চীন সর্বদা কৌশলগত উচ্চতা ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে চীন-ইইউ সম্পর্ককে দেখে ও উন্নয়ন করে এবং ইউরোপকে বহুমেরুণ বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখে। চীন ইউরোপীয় একীকরণ ও ইইউর কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন সমর্থন করে। আশা করা যায় যে ইউরোপও চীনের জনগণের নির্বাচিত পথ ও ব্যবস্থাকে সম্মান করবে, চীনের মূল স্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগকে সম্মান করবে এবং চীনের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিকে সমর্থন করবে। চীন-ইইউ সম্পর্ক তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয়, তৃতীয় পক্ষের উপর নির্ভরশীল নয় এবং তৃতীয় পক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিতও নয়। উভয়পক্ষের কৌশলগত যোগাযোগ গভীর করা, বোঝাপড়া ও আস্থা বৃদ্ধি করা এবং সঠিক পারস্পরিক ধারণা গঠন করা উচিত।
দ্বিতীয়ত, উন্মুক্ত সহযোগিতা বজায় রেখে মতবিরোধ ও সংঘর্ষ সঠিকভাবে মোকাবেলা করা। ইতিহাস ও বাস্তবতা প্রমাণ করেছে যে পারস্পরিক নির্ভরতা ঝুঁকি নয়, স্বার্থের সমন্বয় হুমকি নয়, প্রতিযোগিতামূলকতা বৃদ্ধি ‘দেওয়াল তোলা ও বাঁধা দেয়া’র মাধ্যমে করা যায় না এবং ‘ডিকাপলিং ও সাপ্লাই চেইন বিচ্ছিন্ন করা’ কেবল নিজেকে বিচ্ছিন্ন করবে। ‘নির্ভরতা কমানো’র অর্থ ‘সহযোগিতা কমানো’ নয়। চীন-ইইউ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সারমর্ম হল পারস্পরিক সুবিধা ও সম্পূর্ণকরণ, যা উন্নয়নের মাধ্যমে গতিশীল ভারসাম্য অর্জন করতে সক্ষম। চীনের উচ্চ-গুণগত উন্নয়ন ও উচ্চ-স্তরের উন্মুক্তকরণ চীন-ইইউ সহযোগিতার জন্য নতুন সুযোগ ও স্থান তৈরি করবে। চীন ও ইউরোপের সবুজ ও ডিজিটাল অংশীদারিত্ব গভীর করা এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ ও সহযোগিতা উন্নয়ন করা উচিত। আশা করা যায় যে ইউরোপ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাজার উন্মুক্ত রাখবে, সীমাবদ্ধতামূলক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সরঞ্জাম ব্যবহারে সংযত থাকবে এবং চীনা উদ্যোগগুলোর ইউরোপে বিনিয়োগ ও ব্যবসা করার জন্য অনুকূল পরিবেশ প্রদান করবে।


তৃতীয়ত, বহুপাক্ষিকতাবাদ অনুশীলন করে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা। যুদ্ধ ও শান্তি, প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতা, বন্ধ ও উন্মুক্ততার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মুখোমুখি হয়ে বহুপাক্ষিকতাবাদ ও একত্রিত সহযোগিতাই সঠিক উত্তর। চীন ও ইউরোপের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক নিয়ম ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা উচিত এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আরও ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসঙ্গত বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা গঠনে এগিয়ে যাওয়া উচিত, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসাথে কাজ করা উচিত, যাতে বহুপাক্ষিকতাবাদের মশাল মানবতার অগ্রযাত্রাকে আলোকিত করতে পারে। চীন ও ইউরোপের রাজনৈতিক উপায়ে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান সমর্থন করা উচিত। চীন সর্বদা ঘটনার নিজস্ব সত্যতা থেকে বিবেচনা করে, শান্তি প্রচার ও আলোচনার পক্ষে সমর্থন দেয় এবং সমস্যার মূল কারণ ও লক্ষণ উভয়ই সমাধানের উপর জোর দেয়। চীন ইউরোপীয় পক্ষের সাথে সমন্বয় জোরদার করতে ইচ্ছুক এবং এ বছরের জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (কপ২৯) এর সাফল্য অর্জনে ভূমিকা রাখতে চায়, যাতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও বৈশ্বিক সবুজ রূপান্তরে আরও বৃহত্তর অবদান রাখা যায়। চীন ইউরোপীয় পক্ষের সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে নীতি সংলাপ ও বাস্তবমুখী সহযোগিতাও চালু করতে আগ্রহী, যাতে সমতাভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল বহুপাক্ষিক বিশ্ব, সমৃদ্ধিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বায়ন যৌথভাবে উন্নয়ন করা যায়।


ইউরোপীয় পক্ষ জানায়, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এর ইউরোপ-চীন সম্পর্ক সংক্রান্ত তিনটি প্রস্তাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরে ইউরোপ ও চীন বিস্তৃত ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে, যার পরিধি ও গভীরতা ক্রমাগত প্রসারিত হয়েছে। উভয়পক্ষ একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সহযোগিতার অংশীদারে পরিণত হয়েছে, যা তাদের নিজ নিজ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। চীন এখন উত্পাদন ও প্রযুক্তির মহাশক্তিতে পরিণত হয়েছে, কয়েক শত কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে। চীনের এই উন্নয়ন বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। ইউরোপীয় পক্ষ চীনের আরও বৃহত্তর উন্নয়নে বিশ্বাস করে ও তা সমর্থন করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীন উভয়ই বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ইউরোপ-চীন সম্পর্ক উভয়পক্ষ ও সমগ্র বিশ্বের জন্য অপরিহার্য। ইউরোপীয় পক্ষ ইউরোপ-চীন সম্পর্ক গভীর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মতপার্থক্যকে গঠনমূলকভাবে মোকাবেলা করতে চায়, যাতে ভারসাম্য, সমতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সুবিধাপ্রদ সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চায়। ইউরোপীয় পক্ষ চীনের সাথে ‘বিচ্ছিন্নতা বা শৃঙ্খল ছিন্ন’ করতে চায় না এবং চীনা ব্যবসায়ীদের ইউরোপে বিনিয়োগ ও উদ্যোগ গড়ে তুলতে স্বাগত জানায়।

অস্থির ও অনিশ্চয়তাপূর্ণ এই বিশ্বে ইউরোপ ও চীনকে দায়িত্ব নিতে হবে, বহুপক্ষীয়তাবাদকে সমর্থন করতে হবে, জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিকে রক্ষা করতে হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসাথে কাজ করতে হবে। আঞ্চলিক উত্তপ্ত ইস্যুগুলোর সমাধান ও বিশ্ব শান্তি-স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও যৌথ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। ইউরোপীয় পক্ষ চীনের সাথে হাত মিলিয়ে ইউরোপ-চীন সম্পর্কের আগামী ৫০ বছরের গৌরবময় অধ্যায় রচনা করতে আগ্রহী।

সূত্র:স্বর্ণা-হাশিম-লিলি, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।