NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক 'মারকুইস হু’স হু' ফাইন্যান্স খাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান মলি রহমানকে সম্মানিত করেছে সিএনএনের প্রতিবেদন ‘গেম অব চিকেন’: সংঘাতের বিপজ্জনক মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ : একটি আলোকবর্তিকা -  ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ
Logo
logo

বগুড়ার আদমদীঘিতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নবান্ন উৎসব পালিত


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম

বগুড়ার আদমদীঘিতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নবান্ন উৎসব পালিত

এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে:

 বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য নবান্ন উৎসব পালিত হয়েছে। (১৬ নভেম্বর রবিবার) উপজেলা বিভিন্ন গ্রামে এই নবান্ন উৎসব পালিত হয়। তবে কালের বিবর্তনে এখনে বদলে গেছে এই নবান্ন উৎসব। আগে হেমন্তের প্রথম দিন পহেলা অঘ্রানে নতুন ধানের আটায় তৈরি হতো নানা পিঠাপুলি, ভাব ওঠা সোনালী ভাত, মাছের নানা রকম ব্যাঞ্জন। সামর্থ্যবান এবং মধ্যবিত্ত কৃষকের যা চটাই কুলাই তাই দিয়ে হতো নবান্নের উৎসব। এসব খাবারের সাথেও থাকতো হেমন্ত কালে পাওয়া কিছু ফলফলাদি। ডাগুর কাটা নলেন গুঁড় (খেজুরের লালি), পানিফল, শাপলা-শালুক, পদ্মবীজ, জলপাইয়ের আচার ইত্যাদি। আগে নবান্নের ভুড়ি ভোজের পর রাতে খলায় খলায় বসতো জারি সারি সত্য পীরের গানের আসর। কিচ্ছার আসর ও কীর্ত্তন। এখন বাজে ডেক সেট।   এখন কৃষকের সামর্থ্য একটু বেড়েছে। উত্তর জনপদের প্রায় কৃষকের ঘর থেকে জোয়ান ছেলেরা আরব দেশ অথবা মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছে কাজ করার জন্য। তাদের হাড় ভাঙ্গা খাটুনি ও কাঁচা টাকায় বদলে গেছে সত্যি সত্যি কৃষকের নবান্ন উৎসব। এখন আদি আমলের পিঠাপুলি প্রায় উঠেই গেছে। তার জায়গায় স্থান পেয়েছে নবান্ন মেলার বড় বড় মাছ আর মহিষ, গরু, খাসি, ভেড়া গোশতের সমারোহ।  এসব নানা রকমের বিদেশী খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে আত্মীয়-স্বজনদের। তবে এবার মেলাকে কেন্দ্র করে আগের সেই ভাব ধারা গুলো ফিরে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছে ওই গ্রামের যুবক সাখাওয়াত সহ অনেকেই।   রবিবার সকাল থেকে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার শালগ্রাম, কালাইকুড়ি, সাগরপুর, কাল্লাগাড়ী,নিমাইদীঘি, কৈকুড়ি, কোমারপুর, কোমারভোগ, চক সোনার সহ বেশ কিছু গ্রামে ঘুড়ে দেখা গেল বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব।   এ উৎসব পালন উপলক্ষে প্রতিটি বাড়ীতে জড়ানো হয়েছে মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনি ও আত্নীয়-স্বজন। উৎসবটি পালন করা হচ্ছে ঈদের আমেজে। গ্রামের প্রতিটি বাড়ী থেকে বাতাসে ভেঁসে আসছিল উন্নতমানের খাবার বিশেষ করে মহিষ ও গরুর গোস্ত রান্নার সুবাস। নবান্ন উৎসব পালন উপলক্ষে ওই সব গ্রাম সহ আশপাশের প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে প্রতি বছরের মত এবারো জবাই করা হয়েছে মহিষ ও গরু। গ্রামের প্রতিটি পাড়া মহল্লা ও মোড়ে মোড়ে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী চুড়ি-ফিতা, আলতা ও বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী এবং জিলাপী, রসগোল্লা, চমচম, বাতাসা, মুড়কি ও পাঁপড় ভাজা সহ মূখরোচক নানান পন্যের মেলা।  (১৬ নভেম্বর রবিবার) উপজেলার শালগ্রামে গিয়ে কথা হয়, ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের  (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান )মহির উদ্দিন তালুকদারের সাথে। তিনি বলেন, নবান্ন কোন ধর্মের নয়, এটা বাঙ্গালীর ঐতিহ্য। পূর্ব পূরুষরাও এ উৎসব পালন করেছে আমরাও করছি। ছেলে-মেয়ে সাথে জামাই আর নাতি-নাতনি ও নিকট আত্নীয় নিয়ে নতুন ধানের চালের ভাত গোস্ত খাওয়ার আনন্দই অন্য রকম। একই ধরণের কথা বলেন, ওই গ্রামের সন্তান সাখাওয়াত হোসেন ও কোমারভোগ গ্রামের আব্দুর করিম এবং শালগ্রামের মিলন হোসেন। তারা আরোও বলেন, পুর্ব পুরুষের আমল থেকেই উপজেলা এভাবে নবান্ন উৎসব পালন হয়ে আসছে। আর দিন দিন এউৎসব পালনের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মোট কথা গ্রাম বাংলায় নবান্ন উৎসব পালন করা হয় অনেকটা ঈদের আমেজে।