আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

এহসান জুয়েল
নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি জরিপ হয়েছে। আমেরিকার নির্বাচনগুলো নিয়ে করা জরিপ থেকে এটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে, জরিপ দুই ধরনের তথ্যই দেয়। গত জুনে নিউ ইয়র্ক সিটির সবশেষ মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি যখন হয়, তখন বেশির ভাগ জরিপেই এগিয়ে ছিলেন সাবেক গভর্নর এন্ড্রু কুমো। তার কাছে তরুণ জোহরান মামদানি পাত্তা পাবেন না, এমনটাই ভেবেছিলো বেশিরভাগ ভোটার। কিন্তু মামদানি মাঠে ঝড় তুলেছিলেন। ফলাফল ১৩ শতাংশ ব্যবধানে প্রাইমারিতে কুমোকে হারান মামদানি। অথাৎ জরিপ ভুল প্রমানিত হয়। আবার উল্টো অবস্থা ঘটেছে চূড়ান্ত নির্বাচনে। নভেম্বরে নির্বাচনের আগে সব জরিপেই এগিয়ে ছিলেন মামদানি।
এবং ভোটের ফলাফলে তিনিই জিতেছিলেন। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বেশ কয়েকটি জরিপ প্রকাশিত হয়েছে। কোন কোন জরিপে বিএনপির গাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে জামায়াত। দুই দলের ব্যবধান খুব কম। তবে কোন জরিপেই বিএনপির চেয়ে এগিয়ে যায় নি জামায়াত। এত কম পার্থক্য কোনভাবে বিশ্বাসযোগ্য নয় অনেকে কাছে। কারণ, রাতারাতি বাংলাদেশে সমর্থন পাল্টায় না। তাই চাইলেও জামায়াতের ভোট এত বেড়ে যাওয়া নানা কারণে অসম্ভব। সবশেষ প্রথম আলোর জরিপ বলছে, প্রায় ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, সবচেয়ে বেশি আসনে জয়লাভ করবে বিএনপি। নারী, পুরুষ, নানা বয়স শ্রেণিভেদে প্রায় সবারই কাছাকাছি মত এসেছে।
উত্তরদাতাদের প্রায় ২৬ শতাংশের মত, বেশি আসন পাবে জামায়াতে ইসলামী। এ প্রথম কোন জরিপে এত বেশি ব্যবধান এসেছে। প্রায় আড়াই গুন বেশি। এটাকেও ঠিক বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। গেলো বছরের আগস্টের পরপর হলে এমন ফলাফল আসতে পারতো। বর্তমানে বিএনপি নানামুখী চ্যালেঞ্জের পথে। ৬৬ শতাংশ ভোট পাওয়া তাদের পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয়। কারণ, বাংলাদেশে এত বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া বর্তমানে একক কোন দলের পক্ষে সম্ভব নয়। বিএনপির পক্ষেতো নই-ই। সবচেয়ে বড় কথা, দেশে ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। মাত্র ১ হাজার ৩৪২ জনের মধ্যে জরিপ করা হয়েছে, যা মোট ভোটের মাত্র ০.০০১০৫ শতাংশ।
এছাড়া যেসব এলাকায় জরিপ করা হয়েছে, তা হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের শহরাঞ্চল এবং ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলা; বরিশালের গৌরনদী উপজেলা; কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা; ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা এবং রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায়। এসব এলাকায় জামায়াতের সমর্থন কম। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পেয়েছিলো। সেবারও এ জেলাগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র খুলনা-৫ আসনে জিতেছিলো জামায়াত। জামায়াত মূলত শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে উত্তর-পশ্চিম (যেমন: দিনাজপুর, দিনাজপুর-৬; নীলফামারি; গাইবান্ধা), কিছু দক্ষিণ-পশ্চিম (যেমন সাতক্ষীরা, বাগেরহাট/খুলনা-আদিতে) ও পশ্চিমাঞ্চলে। সেসব জায়গায় জরিপে অংশগ্রহন নেই। এছাড়া ফেয়ার জরিপে অবশ্যই আওয়ামী লীগের ভোটার দেশে এখনো ৭ শতাংশের বেশি। ৪টি রাজনৈতিক দলের সমর্থন মোট ১০০ শতাংশ দেখানো হয়েছে। তাহলে জাতীয়পার্টি , এবি পার্টি, হেফাজতে ইসলামসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ভোট কই? তাই নানা কারণে এ জরিপটিও আলোচনায় খোরাক যোগাবে, কিন্তু মাঠের আসল চিত্র তুলে আনতে ব্যর্থ হবে।