NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক 'মারকুইস হু’স হু' ফাইন্যান্স খাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান মলি রহমানকে সম্মানিত করেছে সিএনএনের প্রতিবেদন ‘গেম অব চিকেন’: সংঘাতের বিপজ্জনক মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ : একটি আলোকবর্তিকা -  ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ
Logo
logo

স্মৃতির পাতায় আবদুল আউয়াল মিন্টু  একটি সাক্ষাৎকার, একটি সম্পর্ক, তিন দশকের জীবনপথ - আকবর হায়দার কিরন


Akbar Haider Kiron   প্রকাশিত:  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

স্মৃতির পাতায় আবদুল আউয়াল মিন্টু  একটি সাক্ষাৎকার, একটি সম্পর্ক, তিন দশকের জীবনপথ - আকবর হায়দার কিরন

 প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর আগের একটি ম্যাগাজিন হঠাৎ করেই আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল স্মৃতির দীর্ঘ অলিগলিতে। সম্প্রতি এই পত্রিকার সম্পাদক এম রফিক মেসেঞ্জারে পাঠিয়েছেন সেই পুরনো সংখ্যাটি—যেখানে বাংলাদেশি আমেরিকান ও দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টু ভাইয়ের সঙ্গে আমার নেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সেই লেখা চোখে পড়তেই থমকে গেলাম। এরপর আমাদের মধ্যে যে নস্টালজিক কথোপকথন হলো—আমার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আমাকে সত্যিই আপ্লুত করেছে। বুঝেছি, সময় বদলালেও কিছু স্মৃতি আর সম্পর্ক অমলিন থেকে যায়।  সেই লেখাটি কেবল একজন সফল ব্যবসায়ীকে ঘিরে লেখা কোনো সাধারণ সাক্ষাৎকার ছিল না; ছিল একটি সময়ের দলিল। তখন আমি মিন্টু ভাইয়ের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত উইলিয়ার্ড ডি প্রি, তাঁর স্ত্রী ও কন্যা। গ্রামবাংলার স্বাভাবিক জীবন আর আন্তর্জাতিক কূটনীতির উপস্থিতি—এই দুই ভিন্ন জগত এক ফ্রেমে এসে মিশে গিয়েছিল। সেদিনই উপলব্ধি করেছিলাম, মিন্টু ভাই কেবল অর্থনীতির মানুষ নন; তিনি দেশ ও বিশ্বের মধ্যে এক কার্যকর সেতুবন্ধন।  নব্বইয়ের দশকে নিউ ইয়র্কে প্রবাসী হওয়ার আগেই আমি মিন্টু ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি বিশেষ পরামর্শদাতা হিসেবে। সে সময় তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি। তাঁর স্ত্রী রীমা ভাবীর সঙ্গে শেখ হাসিনা বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন। মিন্টু ভাইয়ের অফিসে নিয়মিত বসতাম আমি। তখন একদিকে বিবিসির স্ট্রিংগার হিসেবে কাজ করতাম, অন্যদিকে সাপ্তাহিক বিচিত্রা-র কূটনৈতিক সংবাদদাতা ছিলাম। পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাঙালি-র বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। সাংবাদিকতার দায়িত্ব আর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা—এই দুই মিলেই তখনকার সময়টাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি।  সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকা প্রকাশের শুরু থেকেই আমি এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ছিলাম। মিন্টু ভাইয়ের অফিসে বসেই অনেক সময় খবর লিখে ফ্যাক্সে পাঠাতাম। একদিন বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ আমাকে বলেছিলেন, “তোমার ঠিকানায় লেখা ভালো হচ্ছে।” একই সময়ে আমার আপন ভায়েরা জনাব মির্জা আব্বাস ছিলেন ঢাকার মেয়র। সে প্রসঙ্গেই তোফায়েল আহমেদ ভাই বলেছিলেন, “আব্বাস ভালো করছে মেয়র পদে।” এই কথাগুলো আজও স্মৃতিতে উজ্জ্বল।  নিউ ইয়র্ক সফরকালে একবার মিন্টু ভাইকে নিয়ে গিয়েছিলাম সাপ্তাহিক ঠিকানা-র লং আইল্যান্ড সিটি অফিসে। সম্পাদক সাঈদুর রব ভাই আন্তরিকভাবে আমাদের স্বাগত জানিয়েছিলেন। সেই সফরে মিন্টু ভাইয়ের বড় ছেলে তাবিথ আউয়ালও সঙ্গে ছিলেন। প্রবাসের এক নিউজরুমে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশি রাজনীতি, ব্যবসা ও সাংবাদিকতার এই মেলবন্ধন আজও মনে পড়ে।  মিন্টু ভাই ও রীমা ভাবীর আতিথেয়তা ছিল সর্বজনবিদিত। তাঁদের বাড়িতে অতিথি হয়ে এসেছেন ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তী, কিংবদন্তি গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়সহ বহু বিশিষ্ট মানুষ। তাঁদের সান্নিধ্যে কাটানো সময় আমার জীবনের অমূল্য স্মৃতি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে কোলকাতার সানন্দা পত্রিকায় মিন্টু ভাই ও রীমা ভাবীকে নিয়ে একটি বিশেষ লেখা প্রকাশিত হয়েছিল।  

জয়দেবপুরের তাঁদের বাগানবাড়িতে কাটানো দিনগুলো ছিল একেবারেই অন্যরকম। সবুজে ঘেরা সেই পরিবেশে সময় যেন থমকে থাকত। সেখানেই কবিতা লিখেছি, নিজের ভেতরের মানুষটিকে নতুন করে চিনেছি। মিন্টু ভাইয়ের অফিসে তখন প্রতিদিনই যেন এক নীরব দরবার বসত। আব্দুর রাজ্জাক, সাপ্তাহিক একতা-র মতিউর রহমানসহ অনেকে তাঁর জন্য বিশেষ খাম নিয়ে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকতেন, অথচ তোফায়েল ভাই এলে সরাসরি ঢুকে যেতেন তাঁর চেম্বারে। ক্ষমতা, সম্পর্ক ও সময়ের বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছি তখন।  নিউ ইয়র্কে প্রবাসী হওয়ার পরও মিন্টু ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট ছিল। তিনি একাধিকবার আমার বাসায় এসেছেন। তাঁর ছোটভাই—আমাদের সবার প্রিয় খোকন ভাই এবং জসিম ভাইয়ের বাড়িতে গিয়েও আমরা একসাথে কাটিয়েছি অনেক সুন্দর সময়। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও সেসব আড্ডা ছিল এক টুকরো বাংলাদেশ।

 অর্থনীতি ও উন্নয়ন চিন্তায় মিন্টু ভাই বরাবরই গভীর মনোযোগী। তাঁর লেখা অর্থনৈতিক বিষয়ক বেশ কয়েকটি মোটাসোটা বই তিনি আমাকে বাড়তি কপিসহ আমাজনের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। আজও সেগুলো আমার সংগ্রহে আছে—জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আন্তরিকতার স্মারক হিসেবে।  গুলশানে তাঁর বাসায় কিংবা পান্ডা গার্ডেনে বসে কত সন্ধ্যা কেটেছে—গান শোনা, গল্প করা, রাজনীতি ও সংস্কৃতির কথা বলা। থার্টিফার্স্ট নাইটের আড্ডা, ভয়েস অব আমেরিকা ফ্যান ক্লাবের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে পাশে পাওয়া, একসাথে বাংলাদেশের নানা শহরে ঘোরা—এসব মিলিয়ে স্মৃতির যেন শেষ নেই।  ক’দিন আগে মিন্টু ভাই আবার নিউ ইয়র্কে এসেছিলেন। ব্যস্ততার কারণে দেখা না হওয়ার আক্ষেপ রয়ে গেছে।

তবে পুরনো ম্যাগাজিনটি, সেই সাক্ষাৎকার এবং সম্পাদক এম রফিকের পাঠানো বার্তা আমাকে আবার ফিরিয়ে নিয়েছে নব্বইয়ের দশকে—যেখানে সাংবাদিকতা ছিল দায়িত্ব, সম্পর্ক ছিল বিশ্বাসের, আর সময় ছিল গভীর অর্থবহ।  আজকের বাস্তবতায় এসে বলা জরুরি—জনাব আবদুল আউয়াল মিন্টু বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে তাঁর এই ভূমিকা বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।  এই লেখা শুধু স্মৃতিচারণ নয়; এটি একটি সময়ের সাক্ষ্য। মানুষ বদলায়, ক্ষমতার অবস্থান বদলায়, ঠিকানাও বদলে যায়। কিন্তু কিছু সম্পর্ক, কিছু মুহূর্ত আর কিছু লেখা—সব পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে থেকে যায়।