NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo

আর ফ্যাসিবাদ না চাইলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন বগুড়ায় : আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

আর ফ্যাসিবাদ না চাইলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন বগুড়ায় : আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে:

 আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, হ্যাঁ ভোট কোনো দলের ম্যান্ডেট না, এটা বাংলাদেশের মানুষের ম্যান্ডেট। বাংলাদেশের মানুষ একটা নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চায়। গণভোট কোন দলের স্বার্থে না, দেশের স্বার্থে গণভোট।  (১৯ জানুয়ারি সোমবার)  দুপুর ১টায় বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা ও গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটছে। একটি হলো প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভাইয়েরা ভোট দিচ্ছে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট একসাথে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সময় বলেছিলাম আমাদের তিনটি প্রধান কাজ একটি সংস্কার, গণহত্যাকারীদের বিচার এবং নির্বাচন। সংস্কার মানে কি? সংস্কার হচ্ছে এমন একটি সিস্টেম দেশের মধ্যে ছিল যে সিস্টেমের মাধ্যমে আয়নাঘর সৃষ্টি করা যেত। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করা যেত। গুম করা যেত। মিথ্যা হয়রানিমূলক গায়েবী মামলা করা যেত। দিনের পর দিন বিচার না করে জেলে আটকে রাখা যেত। জেলে থেকে মারা যেত এবং বেগম খালেদা জিয়াকে ভুল চিকিৎসা করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে যেন না ঘটে, বাংলাদেশে যেন দুর্নীতি না হয়। বালিশের দাম যেন ১২ হাজার টাকা না দেখায়। ১০টা পদ্মা সেতু যে টাকায় করা যায় সেই টাকা দিয়ে যেন দুই-তিনটা পদ্মা সেতু না বানায়। যাতে দেশের টাকা বিদেশে পাচার না হয়। যাতে বাংলাদেশ ব্যাংক লুট না হয়। যাতে ভারতের কাছে আমাদের নতজানু হয়ে থাকতে না হয়। এই সমস্ত বিষয় নিশ্চিত করার জন্য আমাদের দেশের আইন নীতি এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। যেসব পরিবর্তন আমাদের সরকারের পক্ষে সম্ভব আইন প্রণয়ন করে ইনশাআল্লাহ তার অনেক কিছু করেছি।  আপনারা জানেন বিচার বিভাগ স্বাধীনতার লক্ষ্যে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। হিউম্যান রাইটস কমিশন তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের ফৌজদারি ও দেওয়ানী কার্যবিধির অনেক সংস্কার হয়েছে। কিন্তু আরো বড় বড় সংস্কারের জন্য সংবিধানের পরিবর্তন প্রয়োজন। সংবিধান পরিবর্তন করার মতো ক্ষমতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেই। কিন্তু আমাদের যে ক্ষমতা ছিল সেটা আমরা প্রয়োগ করে কোথায় কোথায় পরিবর্তন দরকার, বড় পরিবর্তন দরকার সেটা সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে আমরা ঠিক করেছি জুলাই সনদের। কেবল রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমত পোষণে করেছে। সরকারও চায় কিন্তু জনগণের তো মতামত নেয়া হয়নি। জনগণের মতামত নেয়ার জন্যই এই গনভোটের আয়োজন করা হচ্ছে।  তিনি বলেন, মূল কথা হচ্ছে আপনি যদি চান এদেশ থেকে বৈষম্য দূর হোক, নিপীড়ন দূর হোক, অবিচার দূর হোক, দুর্নীতি দূর হোক, তাহলে আপনি হ্যাঁ ভোট দেবেন। আর যদি চান, শেখ হাসিনার আমলের মতোই বাংলাদেশে দুর্নীতি চলুক, বৈষম্য চলুক, সরকারি দল একচ্ছত্র সকল ক্ষমতা ভোগ করুক, যখন ইচ্ছে সংবিধান পরির্তন করুক, বড় বড় খুনিকে একটা সরকার ক্ষমতায় এসে মাফ করে দিক- এসমস্ত অন্যায় অবিচারের যদি আপনি পক্ষে থাকেন তাহলে আপনি `না‘ ভোট দেবেন।  গণভোটে কি কি থাকে এর ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, আমরা বলেছি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিভাবে গঠিত হবে এটা সরকার ঠিক করবে না। বিরোধী দলকে সাথে নিয়ে ঠিক করবে। আমরা বলেছি, নির্বাচন কমিশন কিভাবে গঠন করবে এটা সরকারি দল একা একা ঠিক করবে না। বিরোধী দলের সাথে কথা বলে ঠিক করবে। আমরা বলেছি, আমাদের যে সংসদীয় কমিটি হয়, আমাদের যেস্পিকার, ডেপুটি স্পিকার হয় সব সরকারি দল থেকে নেয়া যাবে না। ডেপুটি স্পিকার পদটিতে বিরোধী দল থেকে নিতে হবে। সংসদে যে কমিটি আছে সেখানে ১০টি সরকারি দল নেবে কিন্তু ২টি বিরোধী দল থেকে নিতে হবে। আমরা বলেছি, সংসদে আমাদের যে মা বোন আছে, তাদের স্থান, তাদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। একজন মানুষ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না। আমরা এই ধরণের পরিবর্তনের কথা বলেছি।  এখানে মূল যে মেসেজ সেটা হলো- বৈষম্য যেন দূর হয়। অনিয়ম যেন দূর হয়। দুর্নীতি যেন দূর হয়। একচ্ছত্র ক্ষমতা যেন একজন ব্যক্তির হাতে না থাকে। একচ্ছত্র ক্ষমতা, ১৮ কোটি জনগণের ক্ষমতা যখন একজনের কাছে থাকে তখন কি হয় তা ফ্যাসিস্টের আমলে আপনারা দেখেছেন।  এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই আমরা সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। আমরা কোন রাজনৈতিক দল না। এই সরকারের মেয়াদ আছে আর ১ মাস। এরপর আমরা আর কোন ক্ষমতা ভোগ করবো না। আমাদের কোন ইচ্ছে নাই। আমরা চাই বাংলাদেশে যেন কোন ফ্যাসিবাদি শাসন ব্যবস্থা ফিরে না আসে।  অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বগুড়ার অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এস এম ইমদাদুল হক।  এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা প্রশাসক মো: তৌফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মো: শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: মেজবাউল করিমসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিভিন্ন দফতরের সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা