NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন কিংবদন্তী নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানান জটিলতার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন ৯ আগস্ট নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান  ইউনিটি প্যারেড Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণের জন্মদিন পালিত বগুড়ায় নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সম্মাননা পেলেন দুই কৃতি অ্যালামনাই
Logo
logo
নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট- ৩৬ এর বিশেষ নির্বাচন

৩ ফেব্রুয়ারি ২৪ জানুয়ারী থেকে আগাম ভোট শুরু


সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রকাশিত:  ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৪:২৩ এএম

৩ ফেব্রুয়ারি ২৪ জানুয়ারী থেকে আগাম ভোট শুরু

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট- ৩৬ এর বিশেষ নির্বাচন আগামী ৩ নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট- ৩৬ এর বিশেষ নির্বাচন মঙ্গলবার। সিটির এস্টোরিয়া ও লং আইল্যান্ড সিটি নিয়ে এই ডিস্ট্রিক্টের নির্বাচনী এলাকা গঠিত। মেয়র জোহরান মামদানী দায়িত্ব নেয়ার পর অ্যাসেম্বলী সদস্য হিসেবে তার এই পদটি খালি হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে এই শুন্য পদে বিশেষ নির্বাচন হচ্ছে। নানা কারণে নির্বাচনটি পুরো কমিউনিটিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনে লড়ছে ৪ প্রার্থী যথাক্রমে বাংলাদেশী আমেরিকান মেরী জুবাইদা, ইকুয়েডোরিয়ান ডায়ান মরেনো, মিশরীয় রানা আবদেলহামিদ ও ভারতীয় বংশোদ্ভুত শিবানী ধীর। নির্বাচনে আগাম ভোট শুরু হচ্ছে ২৪ জানুয়ারী শনিবার, চলবে ১ ফেব্রæয়ারী রোববার পর্যন্ত। এই আসনে ভোটার প্রায় ৮০ হাজার। সবমিলিয়ে জমে উঠেছে অ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ এর বিশেষ নির্বাচন। খবর ইউএনএ’র।

মূলত: নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনের প্রাইমারীতে জোহরান মামদানীর বিজয়র পর থেকেই আসনটির নির্বাচন কমিউনিটির আলোচনায় উঠে আসে। সেই সাথে প্রার্থী হিসেবে উঠে আসে বাংলাদেশী আমেরিকান মেরী জুবাইদার নাম। গত জুলাই মাসে সম্ভাব্য শূন্য আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামেন তিনি। শুরু হয় আগাম গণসংযোগ ও ফান্ড রেইজিং। বাংলাদেশী কমিউনিটি সহ বিভিন্ন কমিউনিটির সমর্থনে তার প্রার্থীতা নিয়ে শুরু হয় চাঞ্চল্য। একক প্রার্থী হিসেবে নভেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারনা চালান তিনি। কিন্তু গত ৪ নভেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জোহরান মামদানীর বিজয়ের পর পরবর্তী পর্যায়ে একই আসনে প্রতিদ্ব›দ্বীতার ঘোষণা দেন ইকুয়েডোরিয়ান ডায়ান মরেনো, মিশরীয় রানা আবদেলহামিদ ও ভারতীয় বংশোদ্ভুত শিবানী ধীর। নিজেকে সাউথ এশিয়ান মুসলিম হিসেবে দাবী করার কারণে এই আসনে সাউথ এশিয়ান এবং মুসলিম হিসেবে মেরী জুবাইদাকে সমর্থন করবেন মেয়র মামদানী এই প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশাকে গুড়ে বালি দিয়ে মামদানী  সমর্থন ঘোষণা করেন ইকুয়েডোরিয়ান প্রার্থীর প্রতি। এর প্রেক্ষিতে এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটি ঐক্যবদ্ধভাবে সমর্থন করছে মেরী জোবাইদাকে। এদিকে ডেমোক্রেটিক পার্টির আনুষ্ঠানিক সমর্থন না পেলেও মেরী জোবাইদা থার্ড পার্টি প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে প্রচারণা চালান। তাকে এনড্রোর্স করেছে অ্যাসাল, বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসী গ্রæপ (বাগ), নিউ আমেরিকান ডেমোক্র্যাটিক ক্লাব সহ বিভিন্ন সংগঠন। ইতোমধ্যেই প্রায় ৩ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তিনি রীতিমত চমক সৃষ্টি করে ভোটার তালিকায় নিজের প্রার্থীতা নিশ্চিত করেছেন।

মাঠের রাজনীতি, ভোটার সংযোগ এবং কমিউনিটি সংগঠনে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় তার অবস্থান অত্যন্ত শক্ত বলেই মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। নিউইয়র্কে দক্ষিণ এশীয় ও বাংলাদেশী কমিউনিটির সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার স্বোচ্চার কন্ঠস্বর হিসেবে মেরী জোবাইদা ব্যাপকভাবে পরিচিতি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, নারী ও শিশু সুরক্ষা এবং কমিউনিটিকে আইনি সহায়তা বিষয়ক কার্যক্রমই তার জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি। তার নির্বাচনী সফল্য আর শক্ত প্রার্থী হিসেবে কমিউনিটির সমর্থন তাকে অনুপ্রাণীত করেছে। এজন্য সংশ্লিস্ট সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। নিজের ইনস্টগ্রামের এক স্ট্যাটাসে মেরী লিখেছেন,‘আমাদের কমিউনিটি এই প্রচারণাকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করেছে। প্রচন্ড শীতের মধ্যে দ্বারে দ্বারে ভোটারদের সাথে কথা বলেছি আমরা। যার প্রমাণ হচ্ছে প্রায় তিন হাজার ভোটার পিটিশনে স্বাক্ষর দিয়ে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন আমার প্রার্থিতাকে। এর মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে, প্রার্থী হিসেবে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত শক্ত ও সুসংহত।’ অপরদিকে কুইন্স ডেমোক্রেটিক পার্টি সমর্থন জানিয়েছে ডায়ানা মরেনোকে। তবে মাঠ পর্যায়ের ভোটার সংযোগ, কমিউনিটি উপস্থিতি এবং সরাসরি প্রচারনায় তিনি অনেকটাই পিছিয়ে। এস্টোরিয়া লং আইল্যান্ড সিটির বাসিন্দাদের কাছে ডায়ানা তেমন পরিচিত নন। এছাড়াও মাত্র কয়েকদিন আগে প্রভাবশালী পলিটিকো পত্রিকায় ডায়ানা মরেনো ও রানা আবদেলহামিদের বিরুদ্ধে তাদের স্টাফদের সাথে প্রতারনামুলক  আচরণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে দুজনের প্রচারনাতেই। রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ এর এই নির্বাচন কেবল একটি আসনের জন্য নয়, বরং কমিউনিটি ভিত্তিক নেতৃত্ব এবং অভিবাসী ও সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের রাজনৈতিক দৃশ্যমানতার প্রার্থীদের জন্য এক বড় পরীক্ষা।