NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক 'মারকুইস হু’স হু' ফাইন্যান্স খাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান মলি রহমানকে সম্মানিত করেছে সিএনএনের প্রতিবেদন ‘গেম অব চিকেন’: সংঘাতের বিপজ্জনক মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ : একটি আলোকবর্তিকা -  ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ
Logo
logo

মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু বিবিসি’র সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু বিবিসি’র সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই

 ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পাশে দাঁড়ানো বৃটিশ গণমাধ্যম বিবিসি’র সাংবাদিক মার্ক টালি মারা গেছেন। নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে ৯০ বছর বয়সে শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন খ্যাতিমান এই সাংবাদিক। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে বিবিসি রেডিওতে তার কণ্ঠ শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকতেন এ দেশের মানুষ। সার্বিকভাবে তার দৃষ্টান্তমূলক সততা, মানবিক সংবাদ পরিবেশন ও গভীর প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণের জন্য সমগ্র অঞ্চল জুড়ে সমাদৃত ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন মার্ক টালি। টালির কর্মজীবন দীর্ঘ সময়ের। তিনি বিবিসি’র দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান প্রতিবেদক ও ভারতীয় ব্যুরো প্রধান হিসেবে সংবাদমাধ্যমটির সবচেয়ে বিশ্বস্ত কণ্ঠস্বর ছিলেন। তার সংবেদনশীল, নিরপেক্ষ এবং জটিল রাজনীতিকে সহজভাবে উপস্থাপনের ধরন শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল। সাংবাদিকতার মান বুঝাতে পারদর্শী ছিলেন মার্ক টালি। ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলো সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। সাংবাদিক সমাজ, গবেষক ও সরকারের বাইরে থেকে বহু ব্যক্তি তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বস্ত তথ্যের প্রতীক হিসেবে।তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবীরা শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন এবং তার কাজকে আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করছেন।   একাত্তরের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী খ্যাতনামা এই সাংবাদিক। বেশ কয়েক বছর আগে দিল্লি থেকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে টালি জানান, ২৫শে মার্চ ঢাকার অবস্থা স্বাভাবিক বুঝাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী তাকে বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখায়।    মার্ক টালি বলেন, অনুমোদন পেয়ে ঢাকার শাঁখারীবাজারে যাই। সেখানে ব্যাপক গোলাগুলি ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী। আমি বেশ কিছু ছবি তুললাম। হঠাৎ এক পাঞ্জাবি পুলিশ এসে আমাকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমার চলাচলসংক্রান্ত ফাইল দেখে আমাকে আটক করায় ওই পুলিশকে ধমক দেন। ওসি সম্ভবত বাঙালি ছিলেন। ওসি’র সাহস দেখে আমি মুগ্ধ হই। ওই সময় এটি ছিল অনন্যসাধারণ এক কাজ। আমি তার জন্য গর্ববোধ করি। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে মার্ক টালি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের আশার আলো। রেডিওতে কান পেতে সকাল-সন্ধ্যা বিবিসিতে মার্ক টালির কণ্ঠ শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকতো পুরো দেশ। তার কণ্ঠের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তো তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের বুকেও। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে তার ভূমিকা ছিল অনন্য।    ১৯৬৪ সালে বিবিসিতে যোগ দেন মার্ক টালি। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে ১৯৬৫ সালে ভারতে চলে আসেন। কর্মজীবনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থেকে শুরু করে ভূপাল গ্যাস দুর্ঘটনা, অপারেশন ব্লু স্টার ও এর ফলশ্রুতিতে সংঘটিত ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ড, শিখবিরোধী দাঙ্গা, রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য। বিবিসিতে এসব ঘটনার সংবাদ অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন।  ১৯৯৪ সালের জুলাইয়ে মার্ক টালি বিবিসি থেকে পদত্যাগ করেন। জন বার্ট নামের এক সহকর্মীর সঙ্গে বাদানুবাদ হওয়ায় ইস্তফা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বার্টকে ‘ভীত হয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো’ এবং বিবিসি’র নিম্নমুখিতা ও সহকর্মীদের নৈতিকভাবে দুর্বল করার দায়ে অভিযুক্ত করেন। এরপর থেকেই তিনি স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা ও নয়াদিল্লিতে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন।