আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের হাটবাইরে জামায়াত-বিএনপি’র কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে। আহতরা হলেন- উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামের উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মো. সোলায়মান চৌধুরী, মাইক্রো চালক, কনকাপৈত ইউনিয়নের মো. মামুন, সাতঘরিয়া গ্রামের মীর আহমেদ মীরু, হাটবাইর গ্রামের উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. মিজান খাঁন, তার মাতা আমেনা বেগম, বোন নাজমা আক্তার ও নারগিস আক্তার, ফুফাতো ভাই বিএনপি সমর্থক গাজী মো. ইয়াছিন, হাইবাইর এলাকার মৃত ছেরাগ আলীর ছেলে ইয়াকুব আলী চৌধুরী, আবুল হোসাইনের ছেলে আব্দুল হক খাঁন, বুলু মুন্সীর ছেলে মনির চৌধুরী, জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. রবিউল হক রকি, উপজেলা দক্ষিণ শিবির সভাপতি মো. রিফাত সানি, জামায়াত নেতা জাকারিয়া রাসেল, মো. মিলন। ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের হাটবাইর এলাকায়। সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পৃথক দুটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় প্রেরণ করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতের নির্বাচনী জনসভা থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পিকআপ ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তারা হাটবাইর এলাকায় পৌঁছালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজান খাঁন, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে উভয় দলের কর্মী-সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সয়ম একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ৩ নারী সহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় প্রেরণ করা হয়েছে।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী জনসভা শেষে শান্তিপূর্ণভাবে ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। এতে আমাদের পাঁচজনসহ মোট ৭ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের এলাকায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। আমরা বাধা দিতে গেলে পুনরায় সংঘর্ষ বাধে, যাতে আমি ও আমার গাড়িচালক সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজান খাঁন ও মোবারক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম রাজু বলেন, চৌদ্দগ্রামে বিএনপি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাই প্রথমে হামলা চালায়। এতে বিএনপির অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনাতেও মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু মাহমুদ কাউসার হোসেন জানান, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত উভয় দলের কেউই কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।