আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৯:০৩ এএম

সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু
মহান একুশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ক্যালিফোর্নিয়ার পেরিস শহরে নবনির্মিত স্থায়ী শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে স্বল্প পরিসরে এক মর্যাদাপূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সিটি অব পেরিসে এই ঐতিহাসিক স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের প্রথম ও মূল প্রস্তাবকারী প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে সেলিব্রেশন (আইএমএলডিসি)’ পেরিস সিটি হলের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালনের কর্মসূচি গ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে আইএমএলডিসি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সফিকুল ইসলাম টিটো, ইসমাইল হোসেন, সাইফ আলম হিমু এবং সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেরিস শহরের মেয়র মাইকেল এম ভার্গাস যিনি শহীদ মিনার নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা। সকাল ১১টায় মেয়র ও সিটি কর্মকর্তারা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছালে আইএমএলডিসি নেতৃবৃন্দ তাঁদের স্বাগত জানান। এরপর আইএমএলডিসি’র পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য ফুলেল তোড়া অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং দিনের কর্মসূচির সূচনা ঘটে। মেয়রের কার্যালয় ও সিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে সফল আয়োজন ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে আইএমএলডিসি-কে বিশেষ সনদ প্রদান করা হয়।
মাতৃভাষার ব্যবহার, ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐক্য জোরদারে সংগঠনটির ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হয় এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোগসমূহের সাফল্য কামনা করা হয়। মেয়র ভার্গাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়ার পেরিসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ছিল প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠন আইএমএলডিসি ও পেরিস সিটি হলের একটি যৌথ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন।” তিনি আরও বলেন, “২০২৬ সালের একুশে উদযাপনের সামগ্রিক দায়িত্ব আপনাদের ওপর অর্পিত হয়েছিল। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আজকের আয়োজনের মাধ্যমে আপনারা দায়িত্ববোধ ও অঙ্গীকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পেরিস সিটি হলের পক্ষ থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে সেলিব্রেশন (আইএমএলডিসি)’ কে এজন্যে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানাই।” এছাড়াও আইএমএলডিসি’র পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন সফিকুল ইসলাম টিটো, ইসমাইল হোসেন, সাইফ আলম হিমু এবং সাইফুর রহমান ওসমানী জিতু। ‘বাংলাদেশি কমিউনিটি অব ইনল্যান্ড এম্পায়ার (বিসিআইই)’–এর সভাপতি মনজুর অপু, সিনিয়র উপদেষ্টা জিল্লুর রহমান নিরু, সমাজসেবক আশিক আলমসহ আরও অনেকে, রমজান মাসের ব্যস্ততা সত্ত্বেও একুশ পালনের আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় প্রবাসী বাংলাদেশি নেতৃবৃন্দরা আইএমএলডিসি’র প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, পেরিস সিটি হলের শতভাগ অর্থায়নে প্রায় ১ লক্ষ ৮৮ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হয়। মেয়র ভার্গাস ও সিটি কাউন্সিল সদস্যদের সমর্থন ও আন্তরিক সহযোগিতায় রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরে সিটি হল চত্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে একটি স্থায়ী ঐতিহাসিক শহীদ মিনার বাস্তবায়িত হয়। ২০২৩ সালে প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে সেলিব্রেশন (আইএমএলডিসি)’ প্রথম এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের প্রস্তাব পেরিস সিটির কাছে উপস্থাপন করে। এটি ছিল মেয়রের সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগ। পরবর্তীতে লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটও এ প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তথ্য, নকশা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব আইএমএলডিসি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে এবং ২০২৩ সালেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে. আব্দুল মোমেন পেরিস সিটির মেয়র, কাউন্সিল সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কনসাল জেনারেল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠন ও গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। একই অনুষ্ঠানে শহীদ মিনার সংলগ্ন ‘সিজার ই চ্যাভেজ লাইব্রেরী’ এ ‘বাংলাদেশ কর্নার’ নামে একটি বাংলা পাঠাগারও উদ্বোধন করা হয়। মহান একুশের চেতনা ধারণ করে প্রবাসের মাটিতে ভাষা শহীদদের স্মৃতি অম্লান রাখতে এই উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক -ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।