NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo

আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা হবে


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা হবে

আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান মির্জা ফখরুল। নেতাকর্মী- সমর্থক-অফিস কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রথম বিএনপি কার্যালয়ে যান তিনি। 

 ‘অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলা হচ্ছে’- এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা আমরা চাইনি। যেহেতু আইনগতভাবে বলা আছে যে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সেইভাবে এটাকে দেখা হবে সব জায়গায়।  ৬টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে যাচ্ছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারি কতোগুলো নিয়মকানুন আছে। সরকারি যেসব প্রথাগুলো আছে, সেগুলোর মধ্যে কতোগুলোর মেয়াদ আছে, কতোগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সবগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে এসে আমরা সরকারের তরফ থেকে একটা সঠিক সময়ে এই নির্বাচনগুলো দেয়ার ব্যবস্থা করবো। তবে নিঃসন্দেহে এই নির্বাচনকে প্রাধান্য দেয়া হবে।  

সংসদে নারী আসনে দলীয় প্রার্থীর যোগ্যতা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, নারী আসনের নির্বাচন, এটা তো আপনার পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত হবে। আর প্রার্থী মনোনয়নের যোগ্যতা হবে দলের আদর্শ, নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে হবে, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, নিবিড় সম্পৃক্ততা থাকতে হবে, দলের জন্য ত্যাগ থাকতে হবে। আমাদের দলের মধ্যে যারা দলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত আছেন, যাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা রয়েছে- তাদেরকে প্রাধান্য দেয়া হবে।   নারী আসনে মনোনয়ন একই পরিবারের দুই সদস্য বিবেচনা করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা এখনই কিছু বলা যাবে না। এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।  বিএনপি মহাসচিব নয়াপল্টনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার শুরুতে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। বলেন, আমাদের এই কেন্দ্রীয় অফিস, এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় অফিস।

এখান থেকে পরিচালিত হয়েছে গণতন্ত্রের উত্তরণের, সংগ্রামের সমস্ত আন্দোলনগুলো এবং এই অফিস থেকেই আমরা আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তার সভাপতিত্বে আমরা এই অফিসের সামনে বহু সমাবেশ করেছি, যেগুলো জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য।  আজকে খুব কষ্টের সঙ্গে আমাদের স্মরণ করতে হয় যে, আমাদের সেই মহান নেত্রী যিনি আমাদের বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্রকে আমরা ফিরে পেয়েছি বারবার, ’৯০-এর গণ-আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, ’৯১-তে সরকার গঠন করেছেন, পরবর্তীকালে ’৯৬ সালে এবং তার পরের প্রত্যেকটি আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করেছেন এবং তাকে সেজন্যই আমরা বারবার স্মরণ করি এবং আমি বিশ্বাস করি যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু বাংলাদেশ নয়, আমাদের এই এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য যে সমস্ত নেতারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে অন্যতম।

আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি যে, তাকে যেন আল্লাহ বেহেশত নসিব করেন।  তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশ এগিয়ে যাবে- মন্তব্য করে ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা এখন নতুন এক বাংলাদেশের জন্য কাজ করছি, স্বপ্ন দেখছি- আমাদের নেতা, আমাদের তরুণ নেতা, আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি যে দেশের মানুষের মধ্যে একটা অবস্থান করে নিয়েছেন, তিনি কাজ শুরু করেছেন এবং কাজ করবেন এবং তার বিভিন্ন কর্মপদ্ধতিতে সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তার নেতৃত্বে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।  সরব ও উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে নয়াপল্টনে বিএনপি’র কার্যালয়: রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় নীরবতা ভেঙে আবার সরব ও উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। সোমবার সকাল থেকে দেখা গেছে নেতাকর্মী-সমর্থকদের সরব উপস্থিতি।

সকাল ১১টায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অফিসে আসলে কর্মী-সমর্থকরা তাকে স্বাগত জানান। তিনি নয়াপল্টনে এসে পৌঁছালে প্রধান ফটকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপি’র সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। পরে বিএনপি মহাসচিব তিন তলায় নিজের চেম্বারে গিয়ে বসেন।  সেখানে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য সালেহ উদ্দিন, হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সহ-সভাপতি তপন কুমার মজুমদারসহ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুল দিয়ে বিএনপি মহাসচিবকে শুভেচ্ছা জানান।  গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি প্রায় নেতাকর্মী শূন্য ছিল, অলস সময় কেটেছে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। গতকাল সকালে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। অফিস কর্মীরা আনন্দ-উৎফুল্লে, সাজগোছ করা হয়েছে ব্রিফিং কক্ষ।

 বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তিন তলায় নিজের চেম্বারে বসেন। চেম্বারে বসে বিএনপি মহাসচিব দপ্তরের সহ-সম্পাদকদের নিয়মিত অফিস করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজকর্মের খোঁজখবর নেন এবং সকলকে নিয়মিত অফিসে থাকার কথা বলেন। তাদের বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা নিয়মিত অফিস করবেন। কোনো কাজ ফেলে রাখা যাবে না। নেতাকর্মীরা দূর-দূরান্ত থেকে এলে তাদের সহযোগিতা করবেন। এটাতে যেন কোনো শিথিলতা না হয়।  নয়াপল্টনের অফিসে প্রায় ৪৫ মিনিট অবস্থানের পর বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে অফিস ত্যাগ করেন।