NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক 'মারকুইস হু’স হু' ফাইন্যান্স খাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান মলি রহমানকে সম্মানিত করেছে সিএনএনের প্রতিবেদন ‘গেম অব চিকেন’: সংঘাতের বিপজ্জনক মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ : একটি আলোকবর্তিকা -  ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ
Logo
logo

সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল

  মুখ খুললেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার(অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। বললেন, ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল। যে কেবিনেটের সদস্য তিনি ছিলেন না। সেখানে কী আলোচনা হতো তাদের জানানো হতো না। সদস্যরা ছিলেন ইউনূসের নিকটজন। এসব আলোচনার মধ্যেও আমি থাকিনি। আমাকে রাখাও হয়নি। দেশটা ছিল এক অগ্নীগর্ভের মধ্যে। উপদেষ্টাদের কেউ আমাকে ডাকেওনি। আমার সঙ্গে কনসাল্ট করার প্রয়োজনও মনে করেনি। সেখানে কী হতো আমি জানি না। হয়তো ওই মনোভাবের লোক আমি ছিলাম না। আমি তাদের সাথে একমত হতে পারতাম না তারা ধরে নিয়েছে। যারা এই কাজ করেছে তারা চিহ্নিত। আমি শুধু নাম শুনেছি। তারা আমার কলিগ ছিলেন। চ্যানেল ওয়ানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন। নির্বাচন পেছাতে চাচ্ছে কিংবা নির্বাচন হোক? খোলামেলা কিছু বলেননি সাখাওয়াত।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হয়েছিলেন, কেনই বা তাকে চলে যেতে হলো তারও একটা বর্ণনা দিয়েছেন। বলেছেন, পুলিশকে পুনর্গঠিত করাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। তার দাবি, তিনি সফল হয়েছেন। পরিবেশ এমনই ছিল যে, পুলিশকে মাঠে আনার মতো অবস্থা ছিল না। তাদের কিছু দাবি দাওয়া ছিল। আমি তাদের সঙ্গে কথা বললাম। তার কথায়, কিছু থানা লুট হয়ে গেছে। অনেকগুলো থানায় আগুন লাগানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক। পুলিশের অবস্থা এমনই তারা বের হতে চাচ্ছিল না। পরে অনেক কথাবার্তা বলে পুলিশকে আনা হলো। ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়াতে চায়নি। তাদেরকে রাস্তায় থাকার জন্য উৎসাহ দিলাম। পুলিশ বের হলো। কাজও শুরু করলো। পুলিশের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বললাম। প্রায় ৪ হাজার রাইফেল লুট হয়ে গেছে। আমি থাকতে থাকতে কিছু রিকোভার হলো। যতটুকু জেনেছি হাজার খানেকের বেশি রাইফেল পিস্তল লুটেড অবস্থায় আছে। যেটা আমি মনে করি বর্তমান সরকারের জন্য মারাত্মক হতে পারে। এরমধ্যেই আমাকে সরিয়ে দেয়া হলো।

কেন সরানো হলো এই প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত বলেন, আমি এমন কিছু কথা বলেছিলাম যা ওই সময়ের জন্য মনে হয়েছিল সঠিক নয়। কিন্তু এখনতো দেখছি তার চাইতে বেশি হচ্ছে। আমি কথাটা বলেছিলাম, তা খণ্ডিতভাবে এসেছিল গণমাধ্যমে। আমি চলে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু  অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনূস সাহেব আমাকে আসতে দেননি। মাত্র ৭-৮ দিনের মধ্যে চলে গেলে খারাপ বার্তা যাবে এমনটাই তিনি বলেছিলেন। ৭.৬২ বুলেট প্রসঙ্গ ও সেটির সমাধান হয়েছে কিনা উত্তরে এই সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ওটার সমাধান হয়নি। যদি পুরোটা দেখেন তাহলে দেখবেন- আমি গিয়েছিলাম আনসাদের দেখতে। ওদের গুলি মেরেছে অনেকে। আনসারদেরকে গুলি মেরেছে। আমি যে ভিডিওগুলো দেখলাম লুঙ্গি পরা, গেঞ্জি পরা, হেলমেট লাগানো। হাতে পুলিশের রাইফেল- দ্যাট ইজ পুলিশের কাছে ৭.৬২ চাইনিজ রাইফেল টাইপ ৩৯ আছে। তার মানে বুলেটটা হচ্ছে ৩৯। এটা খুব মারাত্মক অস্ত্র। যেটা সাধারণত সমরাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

এটাকে আমরা নিষিদ্ধ বলি। পুলিশকে এই রাইফেলগুলো দেয়া হয়েছে। কবে দেয়া হয়েছে আমি ঠিক জানি না। আমার ইচ্ছা ছিল, এটা ইনকোয়ারি করার। এই রাইফেল তো পুলিশের পাওয়ার কথা নয়। এই রাইফেলগুলো পুলিশকে দেয়া হলো কখন? কী কারণে। কেন। ইনকোয়ারি কি করতে চেয়েছিলনে?সাখাওয়াত বলেন, না। আমিতো ছিলাম না। ইনকোয়ারি করবো কোথায় থেকে। এর পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করেনি। আমার কাছে এমন ছবি আছে যে সন্দেহজনক। তারা কারা। এদের চেহারা,  গঠন আমাদের মতো না। মনে হচ্ছিল আমিতো বহিরাগত শব্দটা ব্যবহার করেছি। আমাদের দেশে স্নাইপার আছে পুলিশ- সেনাবাহিনীর কাছে। কিন্তু এতো অহরহ প্রশিক্ষিত ! কয়েকজনকে দেখলাম হেলিকপ্টারে উঠানো হচ্ছে। তাদের চেহারা গঠন তো আমাদের মতো না। নির্বাচন প্রসঙ্গে এই উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন ভালো হয়েছে। পৃথিবীতে কোনো নির্বাচনই একশ পারসেন্ট খাঁটি হয় না। আমাদের দেশে তো হয়ইনা। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ৭৭টা সিট পেয়েছে। এটাতো একটা বিশাল ব্যাপার বাংলাদেশে। ইউরোপ-আমেরিকাতেও সমস্যা হয়। আমাদের মতো দেশে যেখানে তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোটই দিতে পারেনি। ভোট দেয়ার প্রয়োজনই পড়েনি।  বিভিন্ন চুক্তি হয়েছে কিন্তু প্রকাশ করা যাবে না কেন ? সাখাওয়াত বলেন, অপ্রকাশিত চুক্তি তো কোনটাই না। চুক্তির একটা জায়গা আছে । ননডিসক্লোজার একটা ক্লজ থাকে। ওইটা ডিসক্লোজ করা হয় না। ওর মধ্যে আসলে কি থাকে?  দেশবিরোধী কোনো কিছু থাকার কথা না ।

অনেকটা নেগোসিয়েশনের মধ্যে যে কথাগুলো ওঠে সেই কথাগুলো তো পাবলিকলি যায় না । আমি কিন্তু সেই ক্লজটা দেখিনি। সেই ক্লজ কিন্তু যে চুক্তিটা পাবলিক করা হয় সেখানে থাকে না। ক্ষমতা ছাড়লেন ১৭ তারিখ, শপথ যেদিন হলো ১৬ তারিখে আপনারা একটা গেজেট প্রকাশ করলেন । যেখানে আমেরিকান কোম্পানির শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের যে ৪ শতাংশ দেয়ার ... এমন প্রসঙ্গে  সাখাওয়াত বলেন, এটা নিয়ে আমার সাথে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালযয়ের । বিষয়টা শ্রমিক, আমাদের সাথে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রণালয় এবং ক্যাবিনেট থেকে যখন বলা হলো যে, না এটা চেঞ্জ না করলে ফিউচারে কোনো ইনভেস্টমেন্ট হবে না। অলরেডি দেরী হয়ে গেছে। আমরা আমাদের গ্যাস উত্তোলন করতে পারছি না। মানে কি আমেরিকা ইনভেস্ট করবে না? নো কান্ট্রি- জবাবে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, নট অনলি আমেরিকা। মানে টেকনোলজি তো ওদের কাছেই আছে। ওদের কাছে টেকনোলজি । এই টেকনোলজি কিন্তু চায়নার কাছে নেই। অফসোর ডিলিং এ। এটা ওপেন ইনফরমেশন।

ফয়জুল কবির সাহেব ছিলেন এবং পুরা একদম মানে আমাকে টিসিসি করতেই হলো। এবং টিসিসিতে ওপেন বললাম, টিসিসি বরং বসেছিল । ওরা বলছিল যে, স্যার আমরা কিন্তু আসছিলাম ওয়ার্কআউট করতে জানি কী হবে। তারপরেও ওয়ার্ক আউট করবো না। বিকজ ইউ আর দেয়ার। আমি সেখান থেকে ওদের সাথে আলোচনা করলাম টিসিসি রাজি হলো না । আপনাদের রাজি না হওয়া ইজ অ্যা মতামত। শক্তিশালী মতামত। আমি এই প্রসিডিংস এর মধ্যে লিখব যে, আপনাদের স্ট্রং মতামতের বিরুদ্ধে গিয়েও এই দুই পার্টির সম্মতিতে এটা ওয়ান থেকে ১.৫ % করলাম। এখন যদি দেখেন আপনার কাছে কি মনে হয় যে এটি কখনো বাংলাদেশের বা বাংলাদেশের শ্রমিকের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ হয়েছে? সাখাওয়াত বলেন, এক নম্বর, আমি যেটা মনে করি ব্যক্তিগতভাবে- এতে শ্রমিক, যারা ওখানে কাজ করছে তাদের খুব বেশি ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এটার একটা পারসেন্টেজ তো বাংলাদেশ সরকারও পেত এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার তো পার্টি টু ওয়েট।

বাংলাদেশ সরকারের টাকা তো দিচ্ছে না। দিচ্ছে তো কোম্পানির টাকা। তো কোম্পানির টাকাও কিন্তু এখন অনেক টাকা। ১.৫% এ কম্পনসেশন অনেক অনেক বেশি। আমাদের অন্য সাধারণ শ্রমিকদের থেকে অনেক বেশি। সেভাবে যদি দেখা হয় তাহলে ৫% একটু কারণ আগে কোথায় ৫% করছিল। এখন শ্রম মন্ত্রণালয়, আর কোনো উপায় নেই , এটা এখানে বলব যে, করবো না- থ্রেট করলো ইনভেস্টমেন্ট আসবে না । কিন্তু এখন তো আবার আপনার উপর দায়ও দিতে পারে যে, আপনার কারণেই এটা হয়েছে- এমন প্রশ্ন করা হলে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, দিতে পারে। আমি তো সেই রিস্ক নিয়েই বসে আছি । আর এটা তো অর্ডিনেন্স । এ অর্ডিনেন্স সরকার যদি চায় তাহলে পরিবর্তন করতে পারবে। সরকার এক দুই দিনের জন্য অপেক্ষা রাখার সুযোগ রাখতে চায়নি? না । এখন হল যে, এই সরকার যদি চায় তাহলে এটা তো যেকোন সময় বাতিল করতে পারে।