NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক 'মারকুইস হু’স হু' ফাইন্যান্স খাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান মলি রহমানকে সম্মানিত করেছে সিএনএনের প্রতিবেদন ‘গেম অব চিকেন’: সংঘাতের বিপজ্জনক মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ : একটি আলোকবর্তিকা -  ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ
Logo
logo

চীনে গ্রামীণ পর্যটনে বিপ্লব


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রকাশিত:  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

চীনে গ্রামীণ পর্যটনে বিপ্লব

ইউননান প্রদেশের মেংলা জেলার মানলংলে গ্রামের ব্যস্ত বাজারটি, হোপিয়া গাছের ছাউনি ভেদ করে, সকালের সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়। উজ্জ্বল রঙের জাতিগত পোশাক পরিহিত গ্রামবাসীরা পর্যটকদের সাথে বিভিন্ন উচ্চারণে কথা বলেন। 

এখানকার পর্যটনের সমৃদ্ধি চীনা জাতীয় কংগ্রেস (এনপিসি)-এর সদস্য ও মেংলা জেলার চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কমিটির সম্পাদক চাং শি ইংয়ের প্রচেষ্টার সাথে অবিচ্ছেদ্য। গত এক বছরে চাং জেলাটির বিভিন্ন গ্রাম, রাবার বাগান ও বন্দর পরিদর্শন করেন। আগে মেংলা অনন্য পরিবেশগত, লোকজ ও বন্দর সম্পদের গর্ব করতো। কিন্তু গ্রামগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হওয়ার কারণে, শিল্পগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এবং ব্যবসায়িক মডেলগুলো একক হওয়ার কারণে, এই ভালো সম্পদগুলো ভালো শিল্পে রূপান্তরিত হতে ব্যর্থ হচ্ছিল। কিভাবে এই বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে সংযুক্ত করা যায় এবং তাদেরকে ‘দীর্ঘস্থায়ী শিল্পে’ রূপান্তর করা যায়? চাং বাবার কৃষক, চা কৃষক ও গ্রামবাসীদের খোঁজখবর নেন। জেলাটি মতামত সংগ্রহ করে গ্রামীণ পর্যটন শিল্প উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমান জেলাটির বিভিন্ন গ্রামের অবকাঠামোর রূপান্তর ও উন্নত করা হয়েছে। পারিবারিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বাগান পৃথক পৃথকভাবে নির্মিত হয়েছে। এটি ব্যাপক পর্যটকদের আকর্ষণ করে। 
মেংলা জেলার সরকারের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৫ সালে জেলাটি মোট ৩৪৪ বার বিশেষ মেলা আয়োজন করে, যা ২১ লাখ ৪ হাজার ৫০০ পার্সনটাইমস পর্যটককে আকর্ষণ করে। মেলাগুলোর বিক্রয়ের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০ ইউয়ান আরএমবি। এর ফলে সামগ্রিক আয় ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৯ শ ইউয়ান বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিক থেকে অধিকরত গ্রামবাসী একক-ক্ষেত্রের কৃষিকাজ থেকে বৈচিত্র্যময় কার্যক্রমে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তাঁরা নিজের জন্মস্থানে পর্যটন শিল্প উন্নয়ন করেন।   

এনপিসি’র একজন সদস্য হিসেবে চাং শি ইং বরাবরই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের উন্নয়ন ও স্বতন্ত্র শিল্পের চাষ সম্পদের সুবিধাগুলোকে উন্নয়ন সুবিধায় রূপান্তরিত করার চেষ্টা করতে থকেন। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে ও বন্দরের কার্যকারিতা জোরদার করে মান ও দক্ষতা উন্নত করা হয়।
উল্লেখ্য, মেংলা হলো চীনের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বাবার চাষ কেন্দ্র। এটি হলো মেংলা জেলার ঐতিহ্যবাহী স্তম্ভ শিল্প। একসময় কৃষকদের আয়ের ৭০-৮০ শতাংশ ছিল এটি। তবে, এটি কম শিল্প সংযোজিত মূল্য, উচ্চ বাজার ঝুঁকি এবং প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় শিল্পের দুর্বল একীকরণের মতো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।
চাং শি ইং বহুবারের মতো রাবার পণ্য উত্পাদন কারখানা পরিদর্শন করেন। তিনি কৃষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেন। রাবার শিল্পের প্রতিটি সংযোগের প্রতিবন্ধকতাগুলো তদন্ত ও বোঝার পর, তিনি সমগ্র শিল্প শৃঙ্খলের উন্নয়নের লক্ষ্যে ইউনান প্রদেশে মেংলা জেলা জাতীয় আধুনিক কৃষি শিল্প পার্ক নির্মাণের প্রস্তাব করেন। তিনি সক্রিয়ভাবে বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করেন এবং একই সাথে বনের আওতাধীন স্থানকে সম্পূর্ণরূপে ব্যবহার করে বনের আওতাধীন অর্থনীতির বিকাশের উপায়গুলো অন্বেষণ করেন।
চা চাষ করার পাশাপাশি চা পাহাড় পর্যটন শিল্প উন্নয়ন করা হয়। এ ছাড়াও তিনি চা, পর্যটন, ব্যবসায়, কফি ও বাবার শিল্প সমন্বিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে, যাতে একটি বৈচিত্র্যময় এবং সমন্বিত শিল্প ভূদৃশ্য গড়ে তোলা যায়।

মেংলা লাওসের সাথে সংযুক্ত। মেংলা বন্দর হলো আন্তঃসীমান্ত কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল। তবে, দুর্বল বন্দর অবকাঠামোর কারণে, বাল্ক পণ্যের শুল্ক ছাড়পত্রের দক্ষতা কম এবং আখ ও রাবারের মতো পণ্যের ফসল কাটার মৌসুমে পরিবহনের চাপ প্রবল। 

গত এক বছরে চাং শি ইং বন্দরটি বহু বার পরিদর্শন করেন। তিনি বন্দরের অবকাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, আন্ত:সীমান্ত সরবরাহের বাধা অতিক্রম করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করা, সীমান্তবাসীর আয় বৃদ্ধি এবং সীমান্ত এলাকার উন্নয়নে আরও ভালোভাবে সেবা প্রদান করার ত্বরান্তিত করেন।

চলতি বছরের এনপিসি’র জাতীয় প্রতিনিধি অধিবেশন উপলক্ষে চাং শি ইং গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে বনাঞ্চলের অর্থনীতি, শিল্প পার্ক অর্থনীতি এবং বন্দর অর্থনীতির উন্নয়নের ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক পরামর্শ উপস্থাপন করবেন। তিনি সীমান্ত সম্পদ ও পরিবহন চ্যানেলের সুবিধাগুলোকে শিল্প সুবিধা ও জনগণের কল্যাণে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করবেন, যাতে উন্নয়নের সুবিধা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। 

সূত্র:ছাই-আলিম-প্রেমা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।