NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন কিংবদন্তী নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানান জটিলতার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন ৯ আগস্ট নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান  ইউনিটি প্যারেড Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণের জন্মদিন পালিত বগুড়ায় নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সম্মাননা পেলেন দুই কৃতি অ্যালামনাই
Logo
logo

আমার পুরষ্কার প্রাপ্তি  এবং ধন্যবাদ বাংলা একাডেমি---জসিম মল্লিক


খবর   প্রকাশিত:  ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৫০ এএম

আমার পুরষ্কার প্রাপ্তি  এবং ধন্যবাদ বাংলা একাডেমি---জসিম মল্লিক

আমার পুরষ্কার প্রাপ্তি  এবং ধন্যবাদ বাংলা একাডেমি
জসিম মল্লিক


বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরষ্কার ২০২২ এর জন্য আমাকে  এবং মার্কিন লেখক ক্যারোলিন রাইটকে মনোনিত করা হয়েছে। সাহিত্যে সামগ্রিক স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরষ্কার প্রদান করা হয়েছে। এই স্বীকৃতি আমার জন্য যে কত বড় ঘটনা সেটা আমার চেয়ে আর কেউ বুঝবে না। এরচেয় বড় প্রাপ্তি আর নাই আমার জীবনে। আমি শৈশবকাল থেকে শুধু লেখকই হতে চেয়েছি। অনেক টানাপোড়েন আর লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমি বেড়ে উঠেছি। না খেয়ে সেই পয়সা দিয়ে পত্রিকা কিনেছি, এনভেলাপ কিনেছি পত্রিকায় লেখা পাঠানোর জন্য। বড় বড় লেখকদের বই পড়ে সবসময় ভাবতাম কিভাবে মানুষ লেখে! কিভাবে চরিত্রগুলো হাসে, কাঁদে, জীবন্ত হয়ে উঠে! আজও এটা একটা বিস্ময় আমার কাছে। আজও লেখকরা আমাকে কাছে এক স্বপ্নের জগতের মানুষ। আমি জানতাম না কখনও  আমি লিখতে পারব, আমার লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত হবে, কখনও জানতাম না আমার বই কেউ প্রকাশ করবে, কখনও জানতাম না আমার বই পাঠকরা কিনবে বা আমাকে ভালবাসা দেবে। আর  লেখালেখির জন্য পুরষ্কার পাওয়া ছিল চিন্তারও বাইরে।

বাংলা একাডেমি নামটি আমার কাছে বিরাট আবেগের। প্রতি বছর বিদেশ থেকে একুশের গ্রন্থমেলায় ছুটে যাই আমি। এজন্য আমি কতবার চাকরিও হারিয়েছি। যখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখন থেকেই বিচিত্রার জন্য বইমেলার রিপোর্ট করতাম। সেই থেকে বাংলা একাডেমি আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। ১৯৯৩ সালে প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার থেকে বইমেলায় উপস্থিত থাকায় ছেদ পড়েনি। আমি ঢাকা এসেছিলামও লেখালেখি করব এই আশা নিয়ে। মা অনেক কান্না কাটি করেছিলেন, বলেছিলেন শুধু গল্পের বই পড়ে, বাপ মরা ছেলে লেখাপড়া না শিখলে খাবে কি! বাড়ির অনেকেই আমি গল্পের বই পড়ি বলে মনে করত আমি নষ্ট হয়ে গেছি। কিন্তু মা কখনও আশা ছাড়েননি। মা পড়তে পারতেন না। একদিন বললেন, তুমি নাকি লিখ! কি লিখ! আমাকে পড়ে শুনাও। আমার মায়ের মতো স্ত্রী জেসমিনও একদিন জিজ্ঞেস করল, তুমি কি লিখ, ততদিনে আমার প্রায় তিরিশটি বই প্রকাশিত হয়ে গেছে। জেসমিন এখন ঢাকায়। যখন তাঁকে খবরটা বললাম সে আনন্দে কেঁদে ফেলল!

আমার এই দুর্গম পথ চলায় আমার যে কয়জন বন্ধু লেখালেখির জন্য আমাকে অব্যাহতভাবে সমর্থন দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন, আমার পাশে থেকেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ আমার প্রকাশক ও পাঠকদের। পুরষ্কারের সাথে সংশ্লিষ্ট যারা আমার নাম প্রস্তাব করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ। বিশেষকরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক জাতিস্বত্তার কবি শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ নূরুল হুদার প্রতি কৃতজ্ঞতা আমার নাম বিবেচনা করার জন্য।
টরন্টো ১১ অক্টোবর ২০২২