NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক 'মারকুইস হু’স হু' ফাইন্যান্স খাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান মলি রহমানকে সম্মানিত করেছে সিএনএনের প্রতিবেদন ‘গেম অব চিকেন’: সংঘাতের বিপজ্জনক মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ : একটি আলোকবর্তিকা -  ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ
Logo
logo

আমার পুরষ্কার প্রাপ্তি  এবং ধন্যবাদ বাংলা একাডেমি---জসিম মল্লিক


খবর   প্রকাশিত:  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

আমার পুরষ্কার প্রাপ্তি  এবং ধন্যবাদ বাংলা একাডেমি---জসিম মল্লিক

আমার পুরষ্কার প্রাপ্তি  এবং ধন্যবাদ বাংলা একাডেমি
জসিম মল্লিক


বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরষ্কার ২০২২ এর জন্য আমাকে  এবং মার্কিন লেখক ক্যারোলিন রাইটকে মনোনিত করা হয়েছে। সাহিত্যে সামগ্রিক স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরষ্কার প্রদান করা হয়েছে। এই স্বীকৃতি আমার জন্য যে কত বড় ঘটনা সেটা আমার চেয়ে আর কেউ বুঝবে না। এরচেয় বড় প্রাপ্তি আর নাই আমার জীবনে। আমি শৈশবকাল থেকে শুধু লেখকই হতে চেয়েছি। অনেক টানাপোড়েন আর লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমি বেড়ে উঠেছি। না খেয়ে সেই পয়সা দিয়ে পত্রিকা কিনেছি, এনভেলাপ কিনেছি পত্রিকায় লেখা পাঠানোর জন্য। বড় বড় লেখকদের বই পড়ে সবসময় ভাবতাম কিভাবে মানুষ লেখে! কিভাবে চরিত্রগুলো হাসে, কাঁদে, জীবন্ত হয়ে উঠে! আজও এটা একটা বিস্ময় আমার কাছে। আজও লেখকরা আমাকে কাছে এক স্বপ্নের জগতের মানুষ। আমি জানতাম না কখনও  আমি লিখতে পারব, আমার লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত হবে, কখনও জানতাম না আমার বই কেউ প্রকাশ করবে, কখনও জানতাম না আমার বই পাঠকরা কিনবে বা আমাকে ভালবাসা দেবে। আর  লেখালেখির জন্য পুরষ্কার পাওয়া ছিল চিন্তারও বাইরে।

বাংলা একাডেমি নামটি আমার কাছে বিরাট আবেগের। প্রতি বছর বিদেশ থেকে একুশের গ্রন্থমেলায় ছুটে যাই আমি। এজন্য আমি কতবার চাকরিও হারিয়েছি। যখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখন থেকেই বিচিত্রার জন্য বইমেলার রিপোর্ট করতাম। সেই থেকে বাংলা একাডেমি আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। ১৯৯৩ সালে প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার থেকে বইমেলায় উপস্থিত থাকায় ছেদ পড়েনি। আমি ঢাকা এসেছিলামও লেখালেখি করব এই আশা নিয়ে। মা অনেক কান্না কাটি করেছিলেন, বলেছিলেন শুধু গল্পের বই পড়ে, বাপ মরা ছেলে লেখাপড়া না শিখলে খাবে কি! বাড়ির অনেকেই আমি গল্পের বই পড়ি বলে মনে করত আমি নষ্ট হয়ে গেছি। কিন্তু মা কখনও আশা ছাড়েননি। মা পড়তে পারতেন না। একদিন বললেন, তুমি নাকি লিখ! কি লিখ! আমাকে পড়ে শুনাও। আমার মায়ের মতো স্ত্রী জেসমিনও একদিন জিজ্ঞেস করল, তুমি কি লিখ, ততদিনে আমার প্রায় তিরিশটি বই প্রকাশিত হয়ে গেছে। জেসমিন এখন ঢাকায়। যখন তাঁকে খবরটা বললাম সে আনন্দে কেঁদে ফেলল!

আমার এই দুর্গম পথ চলায় আমার যে কয়জন বন্ধু লেখালেখির জন্য আমাকে অব্যাহতভাবে সমর্থন দিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন, আমার পাশে থেকেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ আমার প্রকাশক ও পাঠকদের। পুরষ্কারের সাথে সংশ্লিষ্ট যারা আমার নাম প্রস্তাব করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ। বিশেষকরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক জাতিস্বত্তার কবি শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ নূরুল হুদার প্রতি কৃতজ্ঞতা আমার নাম বিবেচনা করার জন্য।
টরন্টো ১১ অক্টোবর ২০২২