NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
ইরানে আজ ‘কঠোর আঘাত হানার’ হুমকি দিলেন ট্রাম্প ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সুপ্রিম লিডারের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইরান শাহবাগে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের হাতাহাতি ভালো আছেন হায়দার হোসেন The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত
Logo
logo

৮ মার্চ: নারী-একটি দিবস নয়, একটি পূর্ণ মানুষ


নন্দিনী লুইজা প্রকাশিত:  ০৮ মার্চ, ২০২৬, ০৩:১১ এএম

৮ মার্চ: নারী-একটি দিবস নয়, একটি পূর্ণ মানুষ

 আমি নন্দিনী লুইজা-আমাকে মানুষ মনে করি । দুটো মেয়ে আমার তাদেরকে আমি মানুষ হিসেবে বড় করেছি তারপরে বলেছি তুমি নারী। আগে মানুষ তারপরে নারী। আমি সবসময় বলি চার দেয়ালের একটি ঘরের মধ্যে থাকি তখন স্বামীর সহধর্মিনী, যখন বাসায় থাকি সন্তানদের মা আর যখন বাড়ির বাহিরে বের হই তখন নিজের কর্মজীবন নিয়ে মানুষ হয়ে কাজে বের হই। তাই এই নারী দিবসে একটাই আমার চাওয়া এবং পাওয়া নারী কোন দিবসে আবদ্ধ কোন জন্তু নয় আগে সে মানুষ তারপর নারী।    ৮ মার্চ এলেই পৃথিবী জুড়ে ফুলের তোড়া, শুভেচ্ছা, সেমিনার, ব্যানার আর কিছু উচ্চকিত বাক্য শোনা যায়—“নারী শক্তি”, “নারীর ক্ষমতায়ন”, “নারী দিবসের শুভেচ্ছা”।কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়-নারী কি সত্যিই শুধু একটি দিনের জন্য স্মরণীয়? নারী কি ক্যালেন্ডারের একটি তারিখে আটকে থাকা কোনো প্রতীক?  নারী কোনো দিবস নয়।  নারী একটি পূর্ণ মানুষ।  একজন নারী জন্ম দেয়, লালন করে, শিক্ষা দেয়, সংগ্রাম করে, আবার প্রয়োজনে সমাজের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। তিনি মা, তিনি কন্যা, তিনি প্রেমিকা, তিনি বন্ধু, তিনি সহযোদ্ধা। তার হাসির ভিতরে যেমন কোমলতা আছে, তেমনি আছে অগ্নির মতো প্রতিরোধের শক্তি। এই বহুমাত্রিক মানুষটিকে যদি আমরা বছরের মাত্র একটি দিনে স্মরণ করি, তাহলে সেটি সম্মান নয়-বরং এক ধরনের সংকীর্ণতা। যা নারীল সীমানা এঁকে দেয়।    ৮ মার্চ আমাদের মনে করিয়ে দেয় নারীর দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। কিন্তু সেই ইতিহাস কেবল বক্তৃতার বিষয় নয়; সেটি প্রতিদিনের বাস্তবতা। একটি মেয়ের নিরাপদে পথে হাঁটার অধিকার, শিক্ষার সুযোগ, নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা-এসব কোনো দিবসের উপহার নয়, এগুলো মানুষের মৌলিক অধিকার।

অথচ প্রায়ই দেখা যায়, নারী দিবসকে ফুলের শুভেচ্ছা আর সামাজিক মাধ্যমে কিছু আবেগী বাক্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়। বাস্তব জীবনে যেখানে নারীরা প্রতিদিন বৈষম্য, সহিংসতা এবং অবমূল্যায়নের মুখোমুখি হয়, সেখানে একদিনের প্রশংসা অনেক সময় ভণ্ডামির মতো শোনায়। কারণ সম্মান যদি সত্যিই থাকে, তবে তা প্রতিদিনের আচরণে প্রকাশ পায়-একটি দিন ঘোষণায় নয়।   নারীকে শক্তি বলে মহিমান্বিত করার চেয়ে তাকে মানুষ হিসেবে স্বীকার করাই বেশি জরুরি। কারণ মানুষ হিসেবেই তার অনুভূতি আছে, স্বপ্ন আছে, ভুল করার অধিকার আছে, নিজের পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা আছে।   তাই ৮ মার্চের মূল কথা হওয়া উচিত-নারীকে আলাদা করে দেবী বানানো নয়, তাকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া। যেদিন সমাজ সত্যিকার অর্থে বুঝবে যে নারী কোনো বিশেষ দিবসের প্রতীক নয়, বরং মানব সমাজের সমান অংশীদার-সেদিন হয়তো নারী দিবসের আলাদা প্রয়োজনই থাকবে না। কারণ তখন প্রতিটি দিনই হবে মানুষের দিন, সমতার দিন।  নারী কোনো দিবস নয়।   নারী-একটি জীবন, একটি সত্তা, একটি পূর্ণ মানুষ।