আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ১৯ মার্চ, ২০২৬, ০২:৫১ এএম

এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে :
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার জংশনে নীলসাগর আন্তঃনগর ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে দুটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। সান্তাহার স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে দুপুর প্রায় ২টার দিকে সান্তাহার জংশন স্টেশনের ছাতিয়ানগ্রাম রেলস্টেশনের দক্ষিণে বাগবাড়ী (দক্ষিণপাড়া) এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
এ ঘটনায় অন্তত শতাধিক যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, বগুড়া- ৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম,আদমদীঘি থানা পুলিশ অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) আতাউর রহমান সহ বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং জনপ্রতিনিধিগণ।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে আদমদীঘি ও নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ট্রেনটির চালক পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, এতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারে ঈশ্বরদী ও পাকশী থেকে আনা দুটি রিলিফ ট্রেন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শেষ করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।