NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক 'মারকুইস হু’স হু' ফাইন্যান্স খাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান মলি রহমানকে সম্মানিত করেছে সিএনএনের প্রতিবেদন ‘গেম অব চিকেন’: সংঘাতের বিপজ্জনক মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ : একটি আলোকবর্তিকা -  ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ
Logo
logo
ব্যক্তির সন্ধান মেলার ভুয়ো খবর জানিয়ে টাকা দাবি করার অভিযোগ

কলকাতায় স্ত্রী'র চিকিৎসা করাতে এসে রহস্যজনকভাবে বাংলাদেশি নিখোঁজ


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম

কলকাতায় স্ত্রী'র চিকিৎসা করাতে এসে রহস্যজনকভাবে  বাংলাদেশি নিখোঁজ

 এক ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে স্ত্রীকে কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে ৷ কিন্তু, স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে এসে বাংলাদেশি ওই ব্যক্তি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ ৷ নিখোঁজ ব্যক্তির নাম সৈয়দ আবদুল্লাহ জোহী (৩২) ৷ তিনি বাংলাদেশের সিলেট জেলার বাসিন্দা ৷ ১১ মার্চ বুধবার থেকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না-বলে অভিযোগ ৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন জোহীর স্ত্রী এবং গোটা পরিবার ৷ তাঁর বাবা হলেন বাংলাদেশের 'অপরাজেয় বাংলা'র স্থপতি সয়েদ আব্দুল্লাহ খালেদ।  পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা সৈয়দ আবদুল্লাহ জোহী তাঁর স্ত্রী মাসরুফা তাসনিমকে নিয়ে কয়েকদিন আগে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসেন ৷ মূলত স্ত্রী’র শারীরিক কিছু সমস্যার কারণে বিধাননগরের বাগুইআটির একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে এসেছিলেন ৷ সেই হাসপাতালে চিকিৎসা শুরুও করেছিলেন তাঁরা ৷ বাগুইআটির একটি হোটেলে থাকছিলেন তাঁরা ৷ পরিবারের অভিযোগ, গত বুধবার হঠাৎই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান সৈয়দ আবদুল্লাহ জোহী ৷ জানা গেছে, ওইদিন তিনি যে হোটেলে থাকছিলেন, সেখানকার ঘর থেকে বেরিয়ে নিচে নামেন ৷ তারপর বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেলেও তিনি ফিরে না-আসায়, তাঁর স্ত্রী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং স্বামীর মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন ৷  অনেকক্ষণ ধরে ফোনে রিং হওয়ার পর এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি মহিলার ফোন ধরেন ৷ জোহীর স্ত্রী তখন জানতে চান, কে ফোনটি ধরেছেন ? জবাবে ফোনের উলটো দিকে থাকা ব্যক্তি জানান তিনি পেশায় সবজি বিক্রেতা ৷ তিনি জানান, অনেকক্ষণ ধরে একটি মোটরসাইকেলের ওপর ফোনটি পড়ে ছিল এবং ফোনে বারবার কল আসছিল ৷ সেই কারণে তিনি ফোনটি ধরেন এবং মালিককে এসে ফোনটি নিয়ে যেতে বলেন । পরে নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই সবজি বিক্রেতার কাছ থেকে ফোনটি উদ্ধার করেন ৷ তবে, সেখানে তাঁর স্বামীর কোনও খোঁজ পাননি মহিলা ৷  পরিবারের দাবি, পরশুদিন থেকে আর কোনওভাবেই সৈয়দ আবদুল্লাহ জোহীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না ৷ ঘটনার পরেই বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নিখোঁজ বাংলাদেশি ব্যক্তির স্ত্রী মাসরুফা তাসনিম ৷ জানা গিয়েছে, তাঁদের এক আত্মীয় রিপন মণ্ডল বর্তমানে কলকাতায় থাকেন ৷ তিনিই জোহী এবং মাসরুফার ভারতে আসার ব্যবস্থা করেছিলেন ৷   রিপন পুলিশকে জানিয়েছেন, 12 মার্চ বৃহস্পতিবার তাঁদের কাছে একটি ফোন আসে ৷ উলটো দিক থেকে বলা হয়, তাঁরা বর্ধমানে জোহীকে খুঁজে পেয়েছেন ৷ তাঁদেরকে 2 হাজার টাকা পাঠিয়ে দিলে জোহীকে শিয়ালদা স্টেশনে নিয়ে আসবেন ৷ ওই ব্যক্তির কথা সন্দেহজনক হওয়ায় দ্রুত বিষয়টি বাগুইআটি থানায় জানান রিপন এবং মাসরুফা ৷ পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে সেটি ভুয়ো কল ছিল ৷  এ দিন ইটিভি ভারতের তরফে রিপন মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় ৷ তিনি বলেন, "ওঁরা কলকাতায় এসে চিকিৎসা করাবেন তার যাবতীয় বিষয়ের ব্যবস্থা আমি নিজেই করে দিয়েছিলাম ৷ হঠাৎ করে রহস্যজনকভাবে তিনি কোথায় গেলেন, সেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে আছি ৷

আমরা লাগাতার বাগুইআটি থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং পুলিশকর্মীরাও আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করছে ৷"  তিনি আরও বলেন, "কিছুদিন আগেই সোনা গিয়েছিল ওঁকে (জোহী) বর্ধমানে পাওয়া গিয়েছে ৷ আর তাঁকে যারা উদ্ধার করেছেন, তাঁরা সুরক্ষিতভাবে কলকাতায় আনার জন্য আমাদের কাছে 2000 টাকা দাবি করেছিল ৷ তবে এই বিষয়টি আমার সন্দেহ হয় ৷ তাই আমি ওঁর পরিবারকে নিয়ে বাগুইআটি থানার আধিকারিকদের জানাই ৷ তাঁরা সবরকম তথ্য তালাশ করে জানতে পারেন, বিষয়টি একেবারে ভুয়ো ৷ হয়তো কেউ আমাদের সমস্যার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করতে চেয়েছিল ৷"  এই বিষয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিধাননগর কমিশনারেটের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, "আমরা লাগাতার ওই ব্যক্তির খোঁজ চালানোর চেষ্টা করছি ৷ খোঁজ পাওয়া গেলেই আমরা তা জানিয়ে দেব ৷"