আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ০২:১৭ এএম

এম আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া থেকে :
বগুড়ায় নাতনির বিয়েতে ব্যতিক্রমী উপহার দিয়ে আলোচনায় এসেছেন নানা আবদুল কাদের প্রামাণিক। তিনি নাতনি নাইমা বেগমকে তার ওজনের সমপরিমাণ কয়েন উপহার দিয়েছেন, যা ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশংসা। (২৭ মার্চ শুক্রবার) রাতে শহরের ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়ায় আয়োজিত এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন সম্পন্ন হয়। একটি বড় দাঁড়িপাল্লার এক পাশে বসানো হয় নাতনি নাইমাকে এবং অপর পাশে রাখা হয় পাঁচ টাকার কয়েনসহ বিভিন্ন মুদ্রা। ওজন সমান হলে সেগুলোই উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় তার হাতে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আবদুল কাদের প্রামাণিকের স্ত্রী পাতা বেগমের বহুদিনের ইচ্ছা ছিল নাতনির বিয়েতে তার ওজন সমান কয়েন উপহার দেওয়ার। সেই ইচ্ছা পূরণে প্রায় এক দশক আগে থেকেই তারা মাটির ব্যাংকে কয়েন জমাতে শুরু করেন। তবে ইচ্ছা পূরণের আগেই পাতা বেগম মারা যান।
এরপরও স্ত্রীর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অবিচল থাকেন আবদুল কাদের। প্রায় দেড় বছর আগে নাইমা বেগমের বিয়ে হয় শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় হাসানের সঙ্গে। তবে তখন পর্যাপ্ত কয়েন সংগ্রহ না হওয়ায় উপহারটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই ইচ্ছা পূরণ করলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি ঘিরে বাড়িতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করেন এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখতে। স্থানীয়রা জানান, এমন ভালোবাসার নজির সচরাচর দেখা যায় না। একজন নানার কাছে নাতনি কতটা প্রিয় হতে পারে, এটি তারই অনন্য উদাহরণ। নাতনি নাইমা বেগম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “নানির ইচ্ছা ছিল এই উপহার দেওয়ার। তিনি বেঁচে থাকলে আরও ভালো লাগত। নানা সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন, এতে আমি খুবই খুশি।” আব্দুল কাদের প্রামাণিক বলেন, “মেয়ের ঘরে প্রথম নাতনির জন্য এমন একটি উপহার দেওয়ার ইচ্ছা ছিল আমাদের। দীর্ঘদিন ধরে জমিয়ে রাখা সেই কয়েন আজ তাকে দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।” ভালোবাসা আর স্মৃতির মিশেলে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ইতোমধ্যেই এলাকায় অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।