আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৬, ০২:৫৯ এএম

বাংলাদেশের আঞ্চলিক সম্পর্ক, বিশেষ করে চীন ও ভারতের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগের ইঙ্গিত নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তাই তিনি ধরে নিচ্ছেন, এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগ নেই। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সার্জিও গরের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওদিকে বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজের এক্সে প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন মার্কিন কূটনীতিক সার্জিও গর।
তিনি বলেছেন, ‘আমার প্রথম বাংলাদেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল রহমানের সাথে সাক্ষাৎ এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করতে পেরে আমি আনন্দিত। অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটেছে।’South Asians & Diaspora Advertisement: 0:52 Unibots.com আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং চীন-ভারত প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগ আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয় নাই। সুতরাং আমি ধরে নেব, এ বিষয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে অত্যন্ত চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিদ্যমান। এ সম্পর্ককে আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত সপ্তাহে ম্যানিলায় সার্জিও গরের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছিল। একই সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হয়। তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্ক এখন অত্যন্ত ইতিবাচক অভিমুখে আছে এবং আগামী দিনগুলোতে আমরা এ পর্যন্ত অর্জিত সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যাব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই উঠে এসেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অভিবাসনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এটি ছিল সার্বিক অগ্রগতির পথ নিয়ে আলোচনা; নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ই কথা বলতে পারবে।
সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় সহযোগিতা চলমান রয়েছে। তবে গ্যাস অনুসন্ধান বা উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। আরও পড়ুন: ২৪ দেশের হাজারো চলচ্চিত্রকে পেছনে ফেলে জবি শিক্ষার্থী প্রমির ‘দ্য লাস্ট প্যাসেজ’ তৃতীয় রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে সহায়তা পায়, তার অর্ধেকেরও বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা হয়নি। তবে বাংলাদেশ আশা করে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং সংকট সমাধানে বহুপাক্ষিক উদ্যোগে সহযোগিতা করবে। তিনি জানান, সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সার্জিও গর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন। মিয়ানমারে কথিত মানবিক করিডোর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এ ধরনের কোনো প্রস্তাব দেয়নি। আপনারা গুজবে কান দিয়ে সেটা ছড়াচ্ছেন।
২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার করিডোর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মন্তব্য ছিল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো কথা নেই। আওয়ামী লীগ বা তাদের কার্যক্রম নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে কোনো আলোচনাই হয়নি। সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়েও কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।Executive Branch উল্লেখ্য, তিনদিনের সফরের তৃতীয় ও শেষ দিনে শনিবার সকালে সার্জিও গরের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ওই বৈঠকেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।