NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক 'মারকুইস হু’স হু' ফাইন্যান্স খাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান মলি রহমানকে সম্মানিত করেছে সিএনএনের প্রতিবেদন ‘গেম অব চিকেন’: সংঘাতের বিপজ্জনক মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ : একটি আলোকবর্তিকা -  ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ
Logo
logo

এক দশকে চীনা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন


শিশির, বেইজিং: প্রকাশিত:  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

এক দশকে চীনা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন


 

গেল দশ বছরে চীনের জিডিপি ৫০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান থেকে বেড়ে ১১৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। বাসিন্দাদের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রায় একই গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালের প্রথমার্ধে চীনের জিডিপি ছিল ৫৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ান। তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৫ শতাংশ বেশি।

দ্রুত উন্নয়ন, উচ্চ মানের উন্নয়ন,খাবার- দাবার নিয়ে কোনো চিন্তা না থাকা, এবং উচ্চ মানের জীবনযাপন চীনাদের জন্য সুনিশ্চিত হয়েছে। তারা এখন সুবিধাজনক পরিবহন, পরিষ্কার বায়ু, প্রচুর পণ্যসামগ্রী উপভোগ করছেন। খাওয়া ও পরা, বাসা, আসা- যাওয়ার ক্ষেত্রে চীনারা আরও সুন্দর জীবনযাপন করছেন।

বেইজিং কস্টিউম ইনস্টিটিউটের নকশাকার চু ইয়ান দশ বছর চেষ্টা করে হাজার বছরের প্রাচীন চীনা পোশাককে আবার আধুনিক মঞ্চে ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি থাং রাজবংশ আমলের ফ্যাব্রিক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বেইজিং শীতকালীন অলিম্পিক গেমস ও প্যারালিম্পিক গেমসের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পোশাকের নকশা করেন। 
তিনি বলেছেন, আমাদের এ প্রজন্ম চীনাদের জীবনযাপনের নান্দনিকতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরবে, এমনকি বিশ্বের জনপ্রিয় প্রবণতায় নেতৃত্ব দেবে।

হান রাজবংশ আমলের পোশাক এখন চীনে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চীনে হান রাজবংশ আমলের স্টাইলের পোশাকের বিক্রি মূল্য ১৯ কোটি থেকে বেড়ে ৬৩৬ কোটি ইউয়ানে পৌঁছায়।

স্বাস্থ্য মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভোক্তারা এখন স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে চান। চাং ইয়ান মেই একটি চেইন ক্যাটারিং কোম্পানির দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তিনি জানিয়েছেন, আগে যখন আমরা হটপটের কথা বলতাম, তখন মানুষেরা সিছুয়ান হটপট বা বেইজিং হটপটের কথা বলত। তবে,এখন টম ইয়াম কুং তরকারির স্বাদের সুপ দিয়ে হটপট খায় মানুষেরা।

গেল দশ বছরে চীনের ক্যাটারিং শিল্প দ্রুত উন্নত হয়েছে। ২০১২ সালে চীনের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ৬৩০০ মার্কিন ডলার, ২০২১ সালে তা বেড়ে ১২০০০ ডলারে পরিণত হয়েছে। শানসি প্রদেশের রাজধানী থাই ইউয়ানের বাসিন্দা চাও ছি রং বলেছেন, দশ বছর আগে রাস্তায় বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি খুব বেশি দেখা যেত না। এখন অনেক পরিবারের দুই-তিনটি করে গাড়ি আছে। সম্প্রতি তিনি একটি বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি কিনেছেন, স্ত্রীকে অফিসে এবং শিশুকে স্কুলে পৌঁছে দেয়ার জন্য তিনি গাড়িটি কিনেন।

শেয়ার বাইক, বাস, সাবওয়ে, হাইস্পিড ট্রেন, বিমান ও ইন্টারনেটের উন্নয়নে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে চীন। ফলে একদিনে হাজার মাইল যাওয়া এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।
চীনের লোকসংখ্যা ১৪০ কোটি এবং এর মধ্যে মাঝারি আয়ের মানুষের সংখ্যা ৪০ কোটি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে বৈশ্বিক আমদানি বৃদ্ধিতে চীনের আমদানির অবদান ছিল ১৩.৪ শতাংশ। ২০১৮ সাল থেকে প্রতিবছর আয়োজিত হয়ে আসছে চীন আন্তর্জাতিক আমদানি প্রদর্শনী। 

সেখানে নানা দেশের সুস্বাদু খাবার খেতে পারছে চীনারা। উন্মুক্ত ও প্রাণবন্ত চীনা ভোগ্য বাজারে উন্নয়নশীল-দেশের কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বড় প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করছে এ প্রদর্শনী। মাত্র ১৪.৮ হাজার বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ডের দেশ পূর্ব তিমুর চীনের আন্তর্জাতিক আমদানি মেলায় দুটি স্টল স্থাপন করেছে। সেখানে তাদের কফির বিক্রি নিজ দেশের কফি চাষিদের আয়ের সঙ্গে জড়িত। চীনা বাজার তাদেরকে দেখিয়েছে আশা।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক সত্তা, বৃহত্তম পণ্য বাণিজ্যের দেশ, বৃহত্তম বিনিয়োগ আকর্ষণ হিসেবে চীন বিশ্বের সঙ্গে নিজের উন্নয়নের সুযোগ ও সুবিধা ভাগাভাগি করছে। কুয়াং সি প্রদেশের ছিন চৌ বন্দরে দেখা যায় ব্যস্ত দৃশ্য। ব্রুনাইয়ের ব্যবসায়ী চেং মিয়মিত বন্দরে আসেন। তিনি ব্রুনাই থেকে কফি ও চিংড়ি চিপস চীনে নিয়ে আসেন এবং চীন থেকে কমলা তার দেশে রপ্তানি করেন।

চলতি বছরের পয়লা জানুয়ারি কার্যকর হয় আরসিইপি চুক্তি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি লোকসংখ্যার, বৃহত্তম অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবাধ বাণিজ্য অঞ্চলের চুক্তি এটি। এতদঞ্চলের আর্থ-বাণিজ্যিক উন্নয়নে আরও  সুযোগ বয়ে এনেছে এ চুক্তি। মি. চেং বলেন, তার ব্যবসা দিন দিন ভাল হচ্ছে। তিনি আরও বেশি ধরনের পণ্য নিয়ে ব্যবসা করার কথা বিবেচনা করছেন। সূত্র: সিএমজি।