আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট, ২০২৬, ০২:৫০ এএম

খড়কুটোর ঋতু
নন্দিনী লুইজা
কিছু নদী থাকে,সমুদ্রের ঠিকানা জেনেও
মরুভূমির দিকে বয়ে যায়।
কিছু ফুল থাকে,দেবতার চরণে অর্ঘ্যের মতো
নিবেদিত হয়েও পাথরের বেদিতে শুকিয়ে থাকে। একটি বিশ্বাস- ধূপের ধোঁয়ার মতো,
ধীরে ধীরে হালকা হয় অদৃশ্য কোনো বেদিমূলে।
ভালোবাসারও এক গোপন ব্যাকরণ আছে,
যেখানে অধিকারের চেয়ে-
অপেক্ষার উচ্চারণ দীর্ঘতর,
আর ক্ষমাই হয়ে ওঠে, সবচেয়ে নিঃশব্দ ভাষা।
সংসারের দেয়ালে রঙিন আলপনা ঝুলে থাকে,
ঘরের প্রতিটি জানালায়, আলোর অনুশীলন,
অথচ অন্তঃপুরে অন্ধকারের শিকড় আরও গভীর; ভেতরের ঘরে ধুলোর স্তরে চাপা পড়ে যায় অসংখ্য বসন্ত।
বাইরের পৃথিবী সুখের প্রতিকৃতি এঁকে রাখে,
কেবল নিশীথের বাতাস জানে
কত পাতা ঝরে গেলে-
একটি বৃক্ষ এখনও সবুজ দেখায়।
তারপর একদিন দীর্ঘ হয় ঋতু-জল থাকে,তৃষ্ণা পায়;
একই আকাশের নিচে দুই ভিন্ন ঋতুর আগমন;
মধ্যরাত জানে-কতগুলো নক্ষত্র আলো ছাড়াই পুড়ে গেছে।
কোনো অলৌকিক আয়োজন নয়,
শুধু ক্লান্ত নদীর ধার ঘেঁষে-
ভেসে আসে এক টুকরো খড়।
ডুবন্ত জলরাশি,খড়কুটোর ওজন মাপে না;
শুধু টিকে থাকার সম্ভাবনাটুকু
তীরের সমান হয়ে উঠে।
হয়তো সেই খড়কুটোরই অন্য নাম-
পুনর্জন্ম নয়,বেঁচে থাকার অবশিষ্ট আলো।
বয়স তখন-
আয়নার রূপালি ধুলোর ভেতর
নিঃশব্দে ঘুমিয়ে থাকে;
জেগে থাকে শুধু,অম্লান এক সবুজের স্মৃতি।
সমস্ত সম্পর্কের নাম,প্রেম নয়-
কিছু সম্পর্ক-সৃষ্টিকর্তার নীরব আশীর্বাদ,
যেখানে স্পর্শেরও প্রয়োজন হয় না,
শুধু থেকে যাওয়াটুকুই
জীবনের দীর্ঘতম কবিতা।