NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক 'মারকুইস হু’স হু' ফাইন্যান্স খাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান মলি রহমানকে সম্মানিত করেছে সিএনএনের প্রতিবেদন ‘গেম অব চিকেন’: সংঘাতের বিপজ্জনক মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ : একটি আলোকবর্তিকা -  ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ
Logo
logo

ফিচার ফিল্ম ‘লিংহাং’ নতুন যুগে চীনের উন্নয়ন তুলে ধরেছে


লিলি,বেইজিং: প্রকাশিত:  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

ফিচার ফিল্ম ‘লিংহাং’ নতুন যুগে চীনের উন্নয়ন তুলে ধরেছে


 


সম্প্রতি টিভি ফিচার ফিল্ম ‘লিংহাং’ চায়না মিডিয়া গ্রুপের কেন্দ্রীয় টিভি’র সার্বিক চ্যানেলে সম্প্রচার করা হয়েছে। ‘লিংহাং’ এবং সদ্য নির্মিত তথ্যচিত্র ‘চেংছেং’ কমরেড সি চিন পিংকে কেন্দ্র করে সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে পুরো পার্টি, দেশ ও বিভিন্ন জাতির জনগণের নতুন যুগে অসাধারণ এবং মহৎ যাত্রার উপর আলোকপাত করেছে। তাতে সিপিসি’র ১৮তম  জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে পার্টি এবং দেশের অর্জিত ঐতিহাসিক সাফল্য ও পরিবর্তন ফুটে ওঠেছে এবং প্রাণবন্তভাবে নতুন যুগে জনগণের সুন্দর জীবন ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অতীতে ফিরে তাকালে ইতিহাস এবং জনগণ চীনের কমিউনিস্ট পার্টিকে বেছে নিয়েছে। সামনের দিকে তাকালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শক্তিশালী নেতৃত্বে আমাদের দেশ আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণ আরও সুখী হবে। এর কারণ হচ্ছে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিংয়ের শক্তিশালী নেতৃত্বে শতবর্ষী সিপিসি গোটা জাতিকে সঙ্গে নিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেছে, সংকটময় যাত্রা পাড়ি দিয়েছে এবং আরও বিশাল জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে।

সিনচিয়াংয়ের তাশিকুআরকানতাচিখ্য স্বায়ত্তশাসিত জেলার মাআরইয়াং থানার পিলে গ্রামটি ২০১১ সালে এক টিভি অনুষ্ঠানের কারণে চীনের দর্শকদের কাছে সুপরিচিত হয়।

রেহ্যম্যান উপুআর নামে সিপিসি’র একজন কর্মকর্তা চোখের জল নিয়ে এ টিভি অনুষ্ঠান দেখেছেন এবং দেখার পর তিনি গোপনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তাকে ওই গ্রামে যেতে হবে।

২০১৮ সালে তিনি ইচ্ছা মতো পিলে গ্রামে প্রথম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা শুরু করেন। এখানে পৌঁছার প্রথম রাতে তিনি ঘুমাতে পারলেন না। পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই,সড়ক নেই, মোবাইল ফোনের সংকেতও নেই। সেখানকার বাসিন্দাদের কোনো প্রযুক্তি দক্ষতাও নেই। পরিবর্তন আসলে কঠিন ব্যাপার!

পিলে গ্রামে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরে মোবাইল ফোনের কোনও সংকেত না থাকায় রেহ্যম্যান তার মা মারা যাওয়ার কয়েকদিন পর খবর পান। হৃদয়ের যন্ত্রণার পাশাপাশি তিনি গ্রামবাসীদের দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার জন্য তার দৃঢ় সংকল্প করেছিলেন। আঙ্গিনা অর্থনীতির উন্নয়ন করা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ চালানো, রাস্তা তৈরি করা, সেতু তৈরি করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, জল সরবরাহ করা এবং নেটওয়ার্ক সংযোগ করা হবে এসবের মূল চ্যালেঞ্জ। ২০২১ সালে ১১৬টি গ্রামীণ পরিবারের অর্ধেকেরও বেশিকে জেলার আসনের পুনর্বাসন সাইটে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৪৮টি পরিবার বাড়িতে প্রজনন ও সেলাইয়ের বিকাশ ঘটায়। এছাড়া, রাস্তার রক্ষী এবং প্রান্ত প্রহরী হিসাবে কাজ করে। তাদের মাথাপিছু বার্ষিক আয় দশ বছর আগে এক বা দুই হাজার ইউয়ান থেকে তখন ১০ হাজার ইউয়ানে বেড়েছে। সেখানকার শিশুরা পাহাড় থেকে বেরিয়ে তাদের মাতা-পিতা থেকে আলাদা জীবন শুরু করেছে।

সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর হয় এবং জনগণের জন্য উপকৃত হয়। রেহ্যম্যানের মতো হাজার হাজার তৃণমূল পার্টির সদস্য ও কর্মীদের দ্বারা তা সম্পন্ন হয়। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব কাঁধে রেখে জনগণকে সেবা করার আদর্শ নিয়ে, গ্রামবাসীর প্রতি তাদের গভীর অনুভূতি নিয়ে তারা তৃণমূলে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২০২০ সালের শেষ নাগাদ মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার গ্রাম-ভিত্তিক কর্ম দল, ৩০ লাখেরও বেশি প্রথম সম্পাদক এবং গ্রাম-ভিত্তিক ক্যাডার সারা দেশে প্রেরণ করা হয়েছে। তারা প্রায় ২০ লাখেরও বেশি টাউনশিপ ক্যাডার এবং লাখ লাখ গ্রামীণ ক্যাডারের সঙ্গে দারিদ্র্যবিমোচনের প্রথম ফ্রন্টে কাজ করেন।

বিগত দশ বছরে তারা কঠোর পরিশ্রমে গ্রামের অপূর্ব পরিবর্তন সাধন করেছে। ১৮০০ জনেরও বেশি কমরেড দারিদ্র্যবিমোচনের যাত্রায় তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। ২০২১ সালে চীনের ১ লাখ ২৮ হাজার দরিদ্র গ্রামের প্রায় ১০ কোটি মানুষ দারিদ্রমুক্ত হয়েছে, যা মানব ইতিহাসে দারিদ্র্য হ্রাসের একটি অলৌকিক বিস্ময় তৈরি করেছে।

পিলে গ্রাম ছোট হলেও রেহ্যম্যান প্রথম সম্পাদকের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চান না। কার্যমেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি এই পদে অব্যাহত থাকার আবেদন করেন। তিনি মনে করেন,দারিদ্রমুক্ত হয়েছে, পরবর্তীতে আমি গ্রামের পুনর্জাগরণে কাজ করতে চাই।

ইতিহাস এবং বাস্তবতা আমাদের বলে দিয়েছে যে আমরা সিপিসি’র সামগ্রিক নেতৃত্বে অনড়ভাবে অটল থাকলে আমরা এটি একটি শক্তিশালী সমন্বয় গঠন করতে সক্ষম হব এবং বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতি এবং ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।

‘আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মহামারী প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিশ্বে একটি শীর্ষস্থানীয় অবস্থান বজায় রেখেছে, যা সম্পূর্ণরূপে আমাদের দেশের দৃঢ় শক্তি এবং মহামারী প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করার শক্তিশালী ক্ষমতা প্রতিফলিত করে এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলো সম্পূর্ণরূপে প্রদর্শন করে।’ ২০২২ সালের ১৭ মার্চ সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর স্থায়ী সদস্যদের সম্মেলনে এসব কথা বলেন।অনুশীলন প্রমাণ করেছে য সিপিসি’র নেতৃত্ব মেনে চলা কেবল বড় ঘটনাগুলোই সম্পন্ন করতে পারে না, বরং সফলভাবে জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলাও করতে পারে।


কোভিড-১৯ ২০২০ সালের শুরুর দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তা এক শতাব্দীর মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর সংক্রামক রোগের মহামারী। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর এটি একটি প্রধান জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা। কীভাবে তা মোকাবিলা করে চীন?

এই জরুরি মুহূর্তে সাধারণ সম্পাদক সি কোনো দ্বিধা না করে উহান ও হুপেই থেকে চলে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত নিতে বিশাল রাজনৈতিক সাহস লাগে।একই সঙ্গে রোগের বিরুদ্ধে দৌড়ে মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে চীন।  সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির 


শক্তিশালী নেতৃত্বে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে হুওশেনশান হাসপাতাল এবং লেইশেনশান হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছিল। ১৬টি অস্থায়ী হাসপাতালকে বৃহৎ পরিসরে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল এবং ৬০০ টিরও বেশি কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। সর্বোত্তম স্বাস্থ্যকর্মী, সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সম্পদ এবং সবচেয়ে উন্নত সরঞ্জাম সাহায্যের জন্য ছুটে এসেছে।

 

ফিচার ফিল্মে উদীয়মান শিল্পের জোরালো উন্নয়ন এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পের রূপান্তর ও আপগ্রেডিংয়ের গল্পগুলো উচ্চ-মানের উন্নয়নের দিকে আমার দেশের যাত্রাকে গভীরভাবে প্রতিফলিত করেছে।
চায়না মেটালারজিকাল গ্রুপ কর্পোরেশনের জাতীয় লোহা ও ইস্পাত প্রযুক্তি কেন্দ্রের উপ-প্রধান সিও পোং নিজেকে ‘মিল ডাক্তার’ বলে ডাকেন। তিনি স্টিল মিলের দূষণ এবং অদক্ষতা রোগের জন্য ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন। লোহা এবং ইস্পাত গন্ধ দ্বারা উৎপাদিত ধুলো এবং বর্জ্য গ্যাস একসময় চীনের বায়ু দূষণের প্রধান উৎস ছিল। ২০১৭ সালে চীনের ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতার শীর্ষ ২০টি শহরের কোনটিই বায়ু মানের মান পূরণ করেনি। আজ এসব শহরের বায়ু অনেক ভালো হয়েছে।

সিও পোং বলেন,আগে স্টিল মিলে কাজ করার পর আমাদের জুতায় প্রচুর ধুলো লেগে যেত। এখন তা হয় না। স্টিল মিলে হাঁটার পর আমার জুতা পরিষ্কারই থেকে যায়।
এই তুলনা চীনের উন্নয়নের পরিবর্তনের একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দিক মাত্র। ২০১৫ সালে চীনের অপরিশোধিত ইস্পাত আউটপুট ছিল ৮০.৪ কোটি টন। বিশাল উৎপাদন ক্ষমতা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি কিছুটা ক্ষতিকরও বটে। ইস্পাত উৎপাদনে গুরুতর অতিরিক্ত ক্ষমতা, ইস্পাত মূল্যের ক্রমাগত পতন এবং অযৌক্তিক শিল্প বিন্যাসের মুখে চীন এ শিল্পকে রূপান্তর ও আপগ্রেড করতে প্রাসঙ্গিক ব্যবস্থা চালু করেছে।

২০১৬ সাল থেকে সিওপোং এবং তার দল শত শত লোহা এবং ইস্পাত উদ্যোগের আপগ্রেডিং এবং রূপান্তরে অংশগ্রহণ করেছে। লোহা এবং ইস্পাত শিল্পকে পুরানো এবং নতুন গতিশক্তির রূপান্তর এবং শিল্প শৃঙ্খলের নিম্ন প্রান্ত থেকে মধ্য ও উচ্চ প্রান্তে সরে যেতে সহায়তা করেছে।

নতুন যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন গভীরভাবে একত্রিত হয়েছে এবং উদ্ভাবনের দ্বারা চালিত নতুন ইঞ্জিনগুলো জোরালোভাবে চালু করা হয়েছে।

ফিচার ফিল্মে এক একজন সাধারণ চীনা জনগণকে তুলে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিজ্ঞানীকেউ কেউ চিকিৎসক কেই কেউ সিপিসি’র 
তৃণমূলের সাধারণ কর্মকর্তা। তারাই সিপিসি’র সদস্যদের শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি। তারা নিজ নিজ উদ্যোগে নতুন যুগে নতুন ইতিহাস লিখছেন।