NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক 'মারকুইস হু’স হু' ফাইন্যান্স খাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান মলি রহমানকে সম্মানিত করেছে সিএনএনের প্রতিবেদন ‘গেম অব চিকেন’: সংঘাতের বিপজ্জনক মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ : একটি আলোকবর্তিকা -  ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ
Logo
logo

রেডিও ভেরিতাস দিবস উদযাপন ২০২২


এম আব্দুর রাজ্জাক প্রকাশিত:  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১১ পিএম

রেডিও ভেরিতাস দিবস উদযাপন ২০২২

এম আব্দুর রাজ্জাক, রেডিও ভেরিতাসের একনিষ্ঠ শ্রোতা বগুড়া থেকে :


গত ১৬ ডিসেম্বর রোজ শুক্রবার তেজঁগাও চার্চ কমিউনিটি সেন্টারে পালন করা হয়।
এশিয়া বাংলা ভাষার মানুষের জন্য ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে ১ ডিসেম্বর রেডিও ভেরিতাস এশিয়া থেকে বাংলা ভাষার অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করেন। রেডিও ভেরিতাস এশিয়াকে খ্রীষ্ট ধর্মের এশিয়ার কন্ঠস্বর বলা হয়ে থাকে।

তেজঁগাও, পবিত্র জপমালার গীর্জায়, পবিত্র খ্রিষ্টযাগ দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। খ্রিষ্টযাগ পৌরহিত্য করেন মহামান্য কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’ রোজারিও। সহযোগীতায় ছিলেন, খ্রীষ্টিয় যোগাযোগ কেন্দ্রের পরিচালক ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু, ফাদার কমল কোড়াইয়া, ফাদার প্যাট্রিক গমেজ ও ফাদার হেমলেট বটলেরু।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহামান্য কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’ রোজারিও, বিশেষ আতথি ফাদার কমল কোড়াইয়া ও ফাদার প্যাট্রিক গমেজ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু। তিনি বলেন, আজকের এই দিনটি আমাদের জন্য আনন্দের ও গর্বের। এই দিনে আমরা স্মরণ করি আমাদের বীর সেনাদের যারা জীবন যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন, নিজেদেরকে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

এই দিনে আমরা রেডিও ভেরিতাস দিবস ও পালন করছি। এই দিনটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ দিন। বাংলা সার্ভিসের প্রাত্তন ও বর্তমান প্রযোজকদের স্মরন করেন। যারা এই অনুষ্ঠানে ইচ্ছা থাকা সত্যে উপস্থিত হতে পারেননি তাদেরকেও স্মরন করেন। যারা বাংলা সাভির্সকে প্রকাশ্যে এবং নেপথ্যে থেকে বাংলা সার্ভিসকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি আরো বলেন যারা এখানে এসেছেন, তারা ভালবাসার টানেই এসেছেন। সামাজিক যোগাযোগ কমিশন বিশপ সম্মিলনীর একটি কমিশন। এই কমিশন রেডিও ভেরিতাসকে সহযোগীতা করেন। তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

অতিথিদের নৃত্য ও ফুলের মধ্যে দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর প্রদ্বীপ প্রজ্জ্বলন করেন প্রধান অতিথি মহামান্য কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’ রোজারিও।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরাতন ও নতুন শ্রোতাগণ, ফাদার, সিস্টার, বিভিন্ন গঠন গৃহ, সংঘ ও হোষ্টেল থেকে । প্রায় ১১০ জন এর মত উপস্থিত ছিলেন।

এই দিনটিকে কেন্দ্র করে মহামান্য কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’ রোজারিও বলেন, ফাদার বুলবুলের নিমন্ত্রণে এখানে আমি খুশি মনেই এসেছি। এখানে আসার পর অতীতের অনেক কিছুই স্মরণ হয়ে গেল। আমি ১৯৯১ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১৯৯৬ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত ভেরিতাসের সাথে সংযুক্ত ছিলাম। তখন থেকেই সংলাপ, চেতনা ও ভক্তিগীতির অনেক গুরুত্ব ছিল।

এখন রেডিও কেউ শুনেন না। বর্তবানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর ব্যবহার বেশী। কিন্তু যখন কোন মিডিয়া ছিলনা তখন রেডিও ভেরিতাস ছিল নির্বাক মানুষের কন্ঠস্বর। ২২টি ভাষায় কথা বলা হতো। রেডিও ভেরিতাস তখন ছিল ম্যানিলাতে কিন্তু বাংলা ভাষায়ও প্রকাশ করেছেন।

বিশপ সম্মিলনীর ৫০ বছরের পূতির্তে আমার গবেষনায় আমি লিখেছি যদি দুই বাংলার মধ্যে সেতু বন্ধুন হয়ে থাকে তার অন্যতম ভূমিকা হলো রেডিও ভেরিতাস এশিয়ার।

খ্রীষ্টিয় যোগাযোগ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান শ্রদ্ধেয় বিশপ রমেন বৈরাগী উপস্থিত থাকতে পারেননি তাই ভিডিওর মাধ্যমে ম্যাসেস দেন। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে যোগাযোগ হলেও অনেক পুরাতন শ্রোতারা এসেছেন। এটাই প্রকাশ করেন ভেরিতাসের প্রতি তাদের অগাধ ভালবাসা। তাদের দেখে নতুনরাও নিশ্চয় অনুপ্রানিত হবেন।

 আমরা অনেকেই জানি রেডিও ভেরিতাস এশিয়া হলো বিশপ সম্মিলনীর একটি উদ্যোগ, যার মাধমে সত্য মঙ্গলবাণী সবার কাছে তুলে ধরা হয়।

বিগত ৫০ বছরের বেশী সময় ধরে সত্য ও ন্যায়ের র কথা প্রচার করে চলছে। এশিয়ার ২২টি ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষা তাদের জন্য অন্যতম। ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে অবিরামভাবে প্রচার করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ও ভারতের কর্মপরিকল্পনা প্রচেষ্টা ও তদারকিতে এবং শ্রোতাদের অফুরন্ত ভালবাসা দীর্ঘসময় ধরে আপন গতিতে পথ চলছে এবং আগামী দিনগুলিতে এভাবেই পথ চলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

সংলাপ কমিশনের সেক্রেটারী ফাদার প্যাট্রিক গমেজ বলেন, প্রথমে বুঝতে পারিনি রেডিও ভেরিতাস কি? ধীরে ধীরে বুঝতে পেরেছি। সংলাপ বিভিন্ন ধর্মের ব্যক্তির সাথে করা হয়।সম্প্রীতির বন্ধনে আমরা বসবাস করছি। কমিশন একা সব কিছু করতে পারেনা। তাই আমরা সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের সাথে একাত্ব হয়েছি । প্রযুক্তি দ্রতগতিতে এগিয়ে চলছে রেডিও ভেরিতাস এশিয়ার মধ্যে দিয়ে মূল্যবোধ গুলি প্রচার করে থাকেন। ভেরিতাস সত্যকে প্রচার করেন।

খ্রীষ্টিয় যোগাযোগ কেন্দ্রের প্রাত্তন সম্পাদক ফাদার কমল কোড়াইয়া বলেন, আমি সরাসরি রেডিও ভেরিতাসের সাথে যুক্ত ছিলাম। যাদের সাথে আমি পথ চলেছে তাদের দেখে আমার খুব ভাল লাগছে। রেডি ভেরিতাস আলোর মত। যেখানে কোন জাতি, ধর্ম, বর্ণ দেখেনা। যখন বাতি জ্বলে তখন সে সবাইতে আলোকিত করে ।
রেডিও ভেরিতাস লবনের মত। লবন যখন ভাতের মধ্যে দেওয়া হয় তখন সে বলেনা এটা কোন ধানের চাল্? পুরো ভাতকে স্বাদ যুক্ত করে।

একমাত্র রেডিও ভেরিতাস দুই বাংলায় বাঙালীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় হয়েছে।
ভেরিতাসকে অনেক বেতারের আদর্শ হিসেবে ব্যবহার করেন।

 গৌর মোহন দাস প্রিয় বন্ধুজন বেতার শ্রোতা ক্লাবের সভাপতি বলেন, বাণীদীপ্তির কো অর্ডিনেটর সিস্টার মেরীয়ানা গমেজের নিমন্ত্রনে অনুষ্ঠানে এসে ভীষণ খুশী হয়েছি। অনুষ্ঠানে কি কি হবে কিছুই জানতাম না। বিভিন্ন ধারায় ক্রেষ্ট দিয়ে আমাদেরকে সম্মাননা দিয়েছেন।

করোনার সময় যারা যারা প্রোগ্রাম দিয়ে সহযোগীতা করেছি আমাদের সবাইকে ক্রেষ্ট দিয়ে সম্মাননা দিয়েছেন।

এছাড়া সারা বছর যারা সহযোগীতা করেছেন তাদেরকেও সম্মাননা দিয়েছেন। তবে তাদেরটা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক।

নতুন ও পুরাতন শ্রোতাদের সাথে আলাপ করে অনেক আনন্দ পেয়েছি। যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

দিদারুল ইকবাল ও আশিক ইকবাল টুকোন তাদের জীবন অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করেন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাজ্জাদ হোসেন রিজু বলেন, আমি ২০০১ খ্রীষ্টাব্দ থেকে রেডিও ভেরিতাস এশিয়া বাংলা অনুষ্ঠানের শ্রোতা হিসেবে আছি। রেডিও ভেরিতাসের অনুষ্ঠান বৈচিত্রতা আমাকে মুগ্ধ করে। রেডিও ভেরিতাসের প্রতিটি অনুষ্ঠান তথ্যবহুল ও সমাজ চেতনার ক্ষেত্রে অবদান রাখার যোগ্য।

২০২০ খ্রীষ্টাব্দে করোনার ক্রান্তিলগ্নে যখন সবকিছু স্থবির হয়ে পড়ে তখন বাণীদীপ্তির সহযোগীতায় আমি রেডিও ভেরিতাসের কিছু অনুষ্ঠান তৈরীতে অবদান রাখার সুযোগ পাই। অনুষ্ঠান তৈরী করতে গিয়ে আমি অনেক বিষয় আয়ত্ব করেছি, যা আমার জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করেছে। এজন্য আমি বাণীদীপ্তির সকল কলাকুশলীর কাছে কৃতজ্ঞ।

রেডিও ভেরিতাস এশিয়া বাংলা বিভাগের কো অর্ডিনেটর ফাদার সোমিত্র মাখাল তিনি উপস্থিত হতে পারেননি ।

তাই মেইলের মাধ্যমে তার বার্তা দেন। সেই বার্তার মূল কথা ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু উপস্থিত অতিথিদের মাঝে তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে এসে ফাদার বুলবুল বাণীদীপ্তির কো অর্ডিনেটর সিস্টার মেরীয়ানা গমেজ আরএনডিএম কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন দীর্ঘ সময় সেবা দান করার জন্য।

উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান সিস্টার মেরীয়ানা গমেজ আরএনডিএম।

দুপুরের আহারের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।