নিউইয়র্ক (ইউএনএ): সিটিতে বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটির সর্ববৃহৎ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার-জেএমসি এর বার্ষিক সাধারণ সভা ও পরিচলনা কমিটির নবনির্বাচিত কর্মকর্তারা শপথ গ্রহণ করেছেন। গত ১৪ ডিসেম্বর রোববার সকালে জেএমসি মিলনায়তনে প্রথম সাধারণ সভা এবং পরবর্তীতে নতুন র্ককর্তাদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। জেএমসি’র সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেমমসির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ডা. নাজমূল এইচ খান। সভা পরিচালনা করেন কার্যনির্বাহী কমিটির সেক্রেটারী আফতাব মান্নান। এসময় সভা মঞ্চে উপ¯ি’ত ছিলেন নির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট ডা. মাহমুদুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ সাঈদ রহমান লাবু। খবর ইউএনএ’র। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং সভা শেষে বিশেষ দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন জেএমসি’র ইমাম ও খতিব মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ। শুভে”ছা বক্তব্য রাখেন জেএমসি’র পরিচালক ইমাম শামসী আলী। শুভে”ছা বক্তব্য রাখেন ডা. নাজমুল এইচ খান ও ডা. মাহমুদুর রহমান। এছাড়াও সেক্রেটারি আফতাব মান্নান ও কোষাধ্যক্ষ সাঈদ রহমান লাবু যথাক্রমে সেক্রেটারী ও কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট তুলে ধরেন। রিপোর্ট দুটির উপর আলোচনায় অংশ নেন কয়েকজন সদস্য এবং কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব করেন। সভায় রিপোর্ট দুটি গৃহীত হওয়ার পাশাপাশি বিগত বছরের সাধারণ সভার গৃহীত প্রস্তাবও সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়। সভায় ইমাম শামসী আলী তার বক্তব্যে জেএমসি’র সম্মান, মর্যাদা ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেন।

এছাড়াও তিনি আন্তধর্মীয় স¤প্রীতির ক্ষেত্রে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সম্মিলিতিভাবে এই জেএমসি-কে আরো শক্তিশালী করতে হবে। ডা. নাজমুল এইচ খান তার বক্তব্যে বিদায়ী কমিটির বিগত দু’বছরের কর্মকান্ড, মসজিদের স¤প্রসারণ প্রকল্প এবং জেএমসি’র সার্বিক ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জেএমসি’র স¤প্রসারণ কাজ দ্রæততর করার লক্ষ্যে আর্থিক অনুদানের জন্য সবার  প্রতি আহŸান জানান। উল্লেখ্য ডা. নাজমুল খান আগামী দু’বছরের জন্য নির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট মনোনীত হয়েছেন। বিদায়ী কমিটির প্রেসিডেন্ট ও নবগঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. মাহমুদুর রহমান তার মেয়াদকালীন সময়ে বিভিন্ন কার্যক্রমের উল্লেখ করেন এবং জেএমসি’র উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। দুই মেয়াদের সেক্রেটারি আফতাব মান্নান তার রিপোর্টে বিগত বছরে জেএমসিতে অনুষ্ঠিত সকল কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জেএমসি’র উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজে আমি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছি। তবে কোন ত্রটি হলে অবশ্যই তা মার্জনীয়।  তিনি প্রতিষ্ঠানটির অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। কোষাধ্যক্ষ সাঈদ রহমান লাবু তার রিপোর্টে বিগত দু’বছরের আয়- ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, জেএমসি’র গঠনতন্ত্র মোতাবেক প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র আজীবন সদস্যরাই সাধারণ সভায় উপ¯ি’ত হওয়া/থাকার অধিকারী। পরিচালনা কমিটি ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের শপথ গ্রহণঃ সাধারণ সভার শেষে সর্বসম্মতিতে অনুমোদিত জেএমসি’র ২০২৬- ২০২৭ বছরের জন্য মনোনীত কার্যকরী কমিটি ও ট্রাষ্টি বোর্ডের কর্মকর্তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্টিত হয়। এ পর্ব পরিচালনা করেন বিশিষ্ট ফার্মাসিষ্ট ও সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোজাফফর। তাকে সহযোগিতা করেন কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আখতার হোসেন। সৈয়দ মোজাফফর গঠনতন্ত্র মোতাবেক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এবং দুই কমিটির মনোনীত সদস্যদের নাম ঘোষণা করে অনুমোদনের জন্য হাউজে উপ¯’াপন করেন। এরপর উপ¯ি’ত সদস্যগণ সর্বসম্মতিতে প্রস্তাবিত কমিটির প্রতি সমর্থন এবং নব নির্বাচিতদের স্বাগত জানান। পরে দুই কমিটির কর্মকর্তারা শপথ গ্রহণ করে। তাদেও মফথ পাঠ করার সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোজাফফর। জেএমসি’র নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা হলেন: প্রেসিডেন্ট- ডা. নাজমুল এইচ. খান, সেক্রেটারী- মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, ভাইস প্রেসিডেন্ট- আফতাবউদ্দিন মান্নান, জয়েন্ট সেক্রেটারী- মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন, ট্রেজারার- সৈয়দ এম. রহমান লাবু, অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার- শাহাদাত হাসান, সদস্য-১ মোহাম্মদ আই. রাশেদ রানা, সদস্য-২ মোহাম্মদ এন. আহসান, সদস্য-৩ মোহাম্মদ শাবুল  উদ্দিন, সদস্য-৪ শোয়েব বখত, সদস্য-৫ আজাহার হক, সদস্য-৬ জুলকার এন. হায়দার ও সদস্য-৭ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ট্রাস্টি বোর্ডের কর্মকর্তারা হলেন: চেয়ারম্যান- ডা. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান- এনাম মোহাম্মদ হক, সদস্য-১ মোহাম্মদ শাব্বির তাহের, সদস্য-২ মহিবুল ইসলাম, সদস্য-৩ আসাবুর রহমান সাবু, সদস্য-৪ মুজিবুর রহমান, সদস্য-৫ মোহাম্মদ এ. মুকিত এবং সদস্য-৬ মোহাম্মদ এস. আহমেদ হুমায়ুন।