এম আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া থেকে : অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টিএমএসএস (ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ) এর নির্বাহী পরিচালক। পুরুষ হয়ে জন্মেছিলেন। স্রষ্টার ইচ্ছায় নারীতে রূপান্তরিত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্র। সংগ্রামী এই নারী গত প্রায় ৪২ বছরে ৪০ লাখ নারীকে স্বপ্ন দেখিয়ে আলোর পথে ধাবিত করেছেন। দেশের ৬৩ জেলায় কোনো না কোনো নারীর উন্নয়নে জড়িয়েছেন তিনি। সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে ও পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করতে নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সচেতনতা ও সামাজিক ব্যাধি থেকে সুরক্ষায় প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। দীর্ঘ চার দশকের শ্রম দিয়ে তিনি গড়ে তুলছেন দেশের নামি বেসরকারি মহিলা উন্নয়ন সংগঠন টিএমএসএস। যা 'ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সঙ্ঘ' নামে সারা দেশে পরিচিত। এ সংগঠন দেশের দারিদ্র দূরীকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণতন্ত্রায়নে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেছেন 'অশোকা ফেলো এ্যান্ড পিএইচএফ'সহ দেশি-বিদেশি নানান পুরস্কার ও সন্মাননা।
বগুড়া সদর উপজেলার ঠেঙ্গামারা নামক স্থানে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের দুপাশে পাঁচশো বিঘা জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ’ সংক্ষেপে টিএমএসএস। জন্ম ১ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে বগুড়া সদরের ঠেঙ্গামারা গ্রামে। পিতা সোলাইমান আলী পাইকাড়। মাতার নাম জোবাইদা বেগম। পিতামাতা হোসনে আরা বেগমের জন্মের সময় তাঁর নাম রেখেছিলেন আবদুস সামাদ। তিনি পুত্র সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় ২৩ বছর বয়সে অলৌকিকভাবে শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে তিনি অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে আবদুস সামাদ থেকে নারী হোসনে আরা বেগম হয়ে এক নতুন জীবন ধারণ শুরু করেন। তিনি তাঁর স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী বন্ধু আনসার আলী তালুকদারকে বিয়ে করেন। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে এম আলী হায়দার নামের এক পুত্র সন্তান আছে। ড. হোসনে আরা বেগম প্রথমে কলেজ শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিয়ে কর্ম জীবন শুরু করেছিলেন। বর্তমানে 'টিএমএসএস' এ ৩৫ হাজার নারী কর্মরত রয়েছে। আর দেশের ৬৩ জেলায় এই সংগঠনটি ৪০ লাখ মহিলাকে সংগঠিত করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। তাঁর জন্য রইল শুভ কামনা আজকের এই বিশেষ দিনটিতে।
