অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করেছে সরকার। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. মাহফুজুল হক, মো. ময়নুল ইসলাম, এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী) এবং মো. নাজমুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে সদর দপ্তর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। এই ৫ রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে অতিসত্বর সদর দপ্তর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকায় যোগদানের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে পরিবর্তন আনেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারীকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে মেক্সিকোতে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুশফিকুল ফজল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সরকারি চাকরি শেষ করে শিক্ষকতা পেশায় যাওয়া মাহফুজুল হককে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিন বছরের চুক্তিতে সিনিয়র সচিব করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপর তাকে পর্তুগালে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হয়। গণ-অভ্যুত্থানের পর ময়নুল ইসলামকে পুলিশ মহাপরিদর্শক করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২০২৫ সালের ১০ই এপ্রিল তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে পোল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হয়। মালদ্বীপ হাইকমিশনে চুক্তিতে হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করা নাজমুল ইসলাম তুরস্কের আঙ্কারা ইলদিরিম বেয়াজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।