এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে:
১৭ বছর বঞ্চিত হওয়া ন্যায্য অধিকারগুলো বগুড়াবাসীকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার অপরাধে বিগত ১৭ বছর অনেক ন্যায্য অধিকার থেকে বগুড়াবাসীকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা বাড়তি সুযোগ দিতে পারব কি না জানি না। কিন্তু ওয়াদা করে যাচ্ছি, যে অধিকার আপনাদের প্রাপ্য ছিল; যেখান থেকে আপনাদের বঞ্চিত করা হয়েছে; তালিকা করে সেই অধিকারগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’ (১৩ মার্চ শুক্রবার ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া শহরের একটি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি। অনেকের ভোটের কালির দাগও শুকায়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনগণের কল্যাণে কাজ শুরু করেছেন। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে, কৃষক কার্ড বিতরণের কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমকে দেশের ক্ষমতাসীন মহল বার বার তার নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে এবং ৩১ দফার মধ্যে আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের অন্যতম কাজ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছি।’ জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাংবাদিকদের জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে তা কোনো দয়া বা অনুদান নয়। বরং তা গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা। রাষ্ট্রে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের বগুড়াকেন্দ্রিক সম্প্রচার কেন্দ্র ও বগুড়া বেতার কেন্দ্র (কাহালু ) এর যে স্বপ্ন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেখেছিলেন। আমরা সেই স্বপ্ন পূরণ করার জন্য অনতিবিলম্বে নতুন তৎপরতা শুরু করব।’ বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। আরও বক্তব্য দেন বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য ও বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ ছাড়া বাকি সাত জেলার ৫১ জন সাংবাদিককে ২ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান এবং ৪৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ৮ লাখ ৫২ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়।
