NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, জুন ৮, ২০২৬ | ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচন শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড  রেইজিং SHAIDAI & STARDOM – Sahar Hashmi and Feroze Khan's Unmissable On-Screen Magic- Akbar Haider Kiron Bangladesh Secures Historic Victory in United Nations General Assembly UNGA Presidency দুই দিনে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কোরবানীর ত্যাগের মহিমায় নিউইয়র্কে ঈদুল আজহা পালিত মুসলিম উম্মার ঐক্য, সৌহার্দ্য-সমৃদ্ধি  কামনা প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কুরবানির বর্জ্য, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত মসজিদগুলোতে বেহেশতের টিকিট বিক্রির জন্য ইমাম নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে: আইনমন্ত্রী ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬: উৎসব, আবেগ আর শিকড়ের টানে বর্ণাঢ্য সমাপ্তি ৩০ মে শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর বিশেষ আয়োজন জ্যাকসন হাইটসে জমজমাট আয়োজনে বাংলাদেশী আমেরিকান ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ সম্পন্ন
Logo
logo

ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করলো ছাত্রলীগ নেত্রী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়


খবর   প্রকাশিত:  ০৮ জুন, ২০২৬, ১০:০৪ এএম

ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করলো  ছাত্রলীগ নেত্রী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

 অভিযুক্ত ইবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রীকে র‌্যাগিংয়ের নামে বিবস্ত্র করে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। শনিবার (১১ই ফেব্রুয়ারি) ও রোববার (১২ই ফেব্রুয়ারি) দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত প্রায় তিনটা পর্যন্ত শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। ভুক্তভোগী ফুলপরি ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। র‌্যাগিংয়ের সময় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রীরা তার বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ করে রাখে বলে অভিযোগ তার। পরদিন সোমবার সকালে ভয় পেয়ে হল ছেড়ে বাসায় চলে যান ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী। র‌্যাগিংয়ের নামে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে আজ মঙ্গলবার (১৪ই ফেব্রুয়ারি) প্রক্টর ও ছাত্র-উপদেষ্টা দপ্তর বরাবর লিখিত দিয়েছে ভুক্তভোগী।  

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলেন, গত ৮ই ফেব্রুয়ারি আমার ওরিয়েন্টেশন ক্লাস শুরু হওয়ার জন্য আমি গত ৭ই ফেব্রুয়ারী দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের ৩০৬ নং রুমে আমার এলাকার (পাবনা) পরিচিত এক আপুর রুমে গেস্ট হিসেবে উঠি। যথাযথভাবে সবাইকে সম্মান পূর্বক রুমে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করি। এরপর ১১ ও ১২ তারিখে ২ দফায় আমি দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের আবাসিক ছাত্রী ও পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা আপুর নেতৃত্বে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০- ২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী তাবাচ্ছুম আপু সহ নাম না জানা আরও অন্তত ৭-৮ জন দ্বারা র‌্যাগিংয়ের নামে চরমভাবে আমি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হই। এবং আমাকে বিবস্ত্র করে আমার গোপন ভিডিও ধারণ করে রাখেন। এমনকি তারা আমাকে জীবননাশের হুমকিও প্রদান করেন।  অভিযোগপত্রে ভয়ংকর অভিযোগের বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি আমাকে ডিপার্টমেন্টের ২০২০-২১ এর তাবাসসুম নামের ওই সিনিয়র আপুর রুমে দেখা করতে বলা হয়।  বিজ্ঞাপন  কিন্তু আমি অসুস্থ থাকায় যথাসময়ে আপুর রুমে যেতে পারিনি। এরপর থেকেই তারা আমার উপর চড়াও হতে থাকে এবং পরবর্তীতে তাদের রুমে গেলে আমার সাথে খারাপ আচরণ করেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন এবং হল থেকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। তারা অভিযোগ করতে থাকেন তাদের না জানিয়ে কেনো হলে উঠেছি। অথচ হলে আমি আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে নয় গেস্ট হিসেবে সাময়িক সময়ের জন্য ওই রুমে উঠেছিলাম। কিন্তু প্রথম দফায় শনিবার (১১ই ফেব্রুয়ারী) রাতে আমার উপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং হল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। পরে গত রবিবার (১২ই ফেব্রুয়ারী) বিকেল আনুমানিক ৪ টার সময় হল প্রভোস্ট এবং সহকারী প্রক্টোরের হস্তক্ষেপে ওই বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। কিন্তু রাত না পেরোতেই রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার সময় অন্তরা আপু সহ ৭-৮ জন আমাকে একটি গণরুমে নিয়ে যান এবং রুমে নিয়ে গিয়ে কথায় কথায় ওনারা ৭-৮ জন মিলে এলোপাতাড়িভাবে চড় থাপ্পড় মারতে থাকেন। আপু, আপনারা আমাকে কেন মারছেন বলতে গেলে উনারা আমার মুখ চেপে ধরেন এবং সজোরে চোয়ালে থাপ্পড় মারতে থাকেন। তারা বলতে থাকেন চিনিস আমাদের আমরা কত খারাপ? আমরা তোর কি করতে পারি জানিস তুই? কোন আইডিয়া আছে আমাদের সম্পর্কে তোর? আর আমি কান্না করে আপু আমাকে আর মাইরেন না বলে ওনাদের পা ধরে মাফ চাইতে গেলে তারা পা দিয়ে লাথি মারেন। আর অকথ্য ভাষায় আমাকে ও আমার মা বাবাকে নিয়ে গালিগালাজ করতে থাকেন, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। এরপরে গামছা দিয়ে আমার গলায় ফাঁস দিয়ে ধরে রাখে আর ছাড়ে। আর বলতে থাকে যা বলবো একটা কথা ও যেন বাইরে না যায়।

একপর্যায়ে তারা একটা ময়লা গ্লাস আমাকে দিয়ে চেটে পরিষ্কার করায় এবং সেটার ভিডিও ধারণ করে। তারপর তারা বলতে থাকেন জামা খোল, আমি জামা খুলতে না চাইলে তারা আমাকে আবার মারা শুরু করেন এবং আমার জামা খুলে জোর করে আমাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিও গুলো তাদের কাছে সংরক্ষণ করা আছে। তারপর আমাকে বলেন, যদি বাইরের কাউকে একথা বলিস, তাহলে তোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দিবো। যাতে তুই কাউকে মুখ দেখাতে নাহ পারিস। এবং অন্তরা আপু বলেন, তুই যদি প্রশাসনের কাছে কোন অভিযোগ দিস, তাহলে তোকে মেরে কুত্তা দিয়ে খাওয়াবো, যা বলেছি তা মনে থাকে যেনো! টর্চার শেষে রাত আনুমানিক রাত সাড়ে ৩টার পর আমাকে অন্য একটি গণরুমে পাঠিয়ে দেয়। আর সবাই বলেন, মুখ খুললেই কিন্তু খবর খারাপ হয়ে যাবে। পরেরদিন সোমবার (১৩ই ফেব্রুয়ারি) খুব সকালে জীবন বাঁচাতে আমি হল থেকে পালিয়ে গ্রামের বাড়ি পাবনাতে চলে যাই। তারপর সকালে আমাকে হলে না পেয়ে অন্তরা আপু সহ ঐ ৭-৮ জন সবাই আমাকে একাধিকবার ফোন দেন, কিন্তু ভয়ে আমি কারো ফোনই রিসিভ করি নি। পরে আমি বাসায় এসে আমার পরিবারের সাথে আলাপ আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট অভিযোগ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেই। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা বলেন, ওই ছাত্রীর সঙ্গে এরকম কোন কিছু ঘটেনি। ওই ছাত্রীর পরিচিত এক ভাই ফোন দিয়ে আমাকে তুলে নেয়ার হুমকি দেয়। ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটা কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. শেলিনা নাসরিন বলেন, আমরা র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে বরাবরই জিরো টলারেন্স। ওই ছাত্রীর বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  এবিষয়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, বিষয়টি জেনেছি। উভয়ের পক্ষের কথা শুনে বিষয়টি যাচাই বাছাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, র‌্যাগিংয়ের বিষয়টি আমি শুনেছি। র‌্যাগিং তো একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনও র‌্যাগিং ছিলো না। কোন বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়গুলোকে অ্যালাউ করে না। সংশ্লিষ্টদের সাথে বসে বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।