NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo

শান্তি পুরস্কার পেলেন কবি কাজী জহিরুল ইসলাম


সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম

শান্তি পুরস্কার পেলেন  কবি কাজী জহিরুল ইসলাম

১৯ ফেব্রুয়ারি রোববার বিকেলে নিউইয়র্কের জুইশ সেন্টারে বাঙালি কবি কাজী জহিরুল ইসলামকে "পিস রান টর্চ বিয়ারিং অ্যাওয়ার্ড" প্রদান করা নিয়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী চিন্ময়ের নামে গঠিত শ্রী চিন্ময় ওয়াননেস সেন্টার বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য এই পুরস্কার প্রদান করে থাকে। কবিতার মধ্য দিয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য কবি কাজী জহিরুল ইসলামকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। ইতোপূর্বে অলম্পিকে ৯টি সোনার মেডেল বিজয়ী কার্ল লুইস, আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু, ইউনেস্কোর ৩৫ তম প্রেসিডেন্ড ড. ডেভিড হেম্পটন, বিলি জিন কিং, টিমোর লেসেতের প্রধানমন্ত্রী ড. মারি আল কিতিরি, বাংলাদেশি পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরীন, পতাকা কন্যা নাজমুন নাহারসহ বেশ ক'জন খ্যাতনামা শান্তির দূত এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। কবিকে পিস মেডেল পরিয়ে দেন এবং কবির হাতে প্রজ্জ্বলিত শান্তির মশাল তুলে দেন পিস রানের অন্যতম আয়োজক অর্পন ডি এঞ্জেলো, সঙ্গে ছিলেন ওয়াননেস হার্ট সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মহাতপা পালিত, শ্রী চিন্ময় সেন্টারের নির্বাহী সদস্য চণ্ডিকা কাপালিকা এবং শ্রী চিন্ময় সেন্টার, ব্রাজিলের কো-অর্ডিনেটর মিস্টার পিটারসন। সাইটেশন পাঠ করেন ড. মহাতপা পালিত। এ-দিন কবিকে আরো সম্মাননা জানায় গ্রেস ফাউন্ডেশন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, লেখক-পাঠক-শিল্পী সম্মিলনী, আত্মিক জাগরণ সভা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি। সংগঠনগুলোর পক্ষে বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব দিমা নেফারতিতি, অধ্যাপক ইমাম চৌধুরী, লোকমান হাকিম, শিল্পী তানভীর তমাল এবং এইচ এম ইকবাল কবির হাতে ক্রেস্ট, ফুল এবং উপহার তুলে দেন। নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে তারা সাইটেশন পড়ে শোনান। কবির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতেই দিমা নেফারতিতির গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় নির্মিত 'আইকন অব টাইম' তথ্যচিত্র মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে দেখানো হয়। কাজী জহিরুল ইসলামের ৫৬ তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকাস্থ এনএস পাবলিশার্স কবির ৫৬টি দেশপ্রেমের কবিতা নিয়ে প্রকাশ করে নতুন কবিতার বই "ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল"। এ-দিন বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মোড়ক উন্মোচনের পরে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঊনবাঙালের সভাপতি মুক্তি জহির।

কবিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান কম্যুনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে শুভেচ্ছা জানান প্রবীন সাংবাদিক কাজী শামসুল হক, সাপ্তাহিক পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু, সাপ্তাহিক নবযুগ পত্রিকার সম্পাদক শাহাব উদ্দিন সাগর, সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকার সম্পাদক মিজানুর রহমান, প্রথম আলোর সাংবাদিক রওশন হক, এইচ বি রিতা এবং ফরিদা ইয়াসমিন, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলভিশনের সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরন। অন্যান্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা জানান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব খালিদ মিঠু, মূলধারার রাজনীতিক মোরশেদ আলম, এক্টিভিস্ট কাজী ফৌজিয়া, আইনজীবী লাকী খালেক, প্রকৌশলী টগর চৌধুরী, পরিবেশ আন্দোলন কর্মী সৈয়দ ফজলুর রহমান, ইয়াছমিন আক্তার শেলী, সাহিত্যানুরাগী সোহেল আহমেদ, মাহমুদা মুন, সালেহা আহমেদ, অভিনয় শিল্পী শওকত রিপন, কবি শরিফুজ্জামান পল, লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি এবং বাংলাদেশ সোসাইটির নেতা আহসান হাবীব, ড্রিম ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলী হোসেন, রোকসানা রুকু, ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডের প্রবক্তা আলমগীর খান আলম, লেখক ও সাংবাদিক নসরত শাহ, সাহিত্যানুরাগী মমতাজ খান, আবৃত্তি শিল্পী নাসিমা আক্তার, নজরুল একাডেমির সহসভাপতি সৈয়দ আলী টিপু, লাভলী টিপু, নজরুল একাডেমির সহসভাপতি আজিজুল হক মুন্না, নজরুল একাডেমির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, চমক ইসলাম, শংকর, আইনজীবী মোহাম্মদ আলী বাবুল, কবি স্বপ্ন কুমার, ফারজিন রাকিবা, মুল ধারার রাজনীতিক সৈয়দ রাব্বী, নুরুল খান, ছড়াকার ও বিজ্ঞানী ড. ধনঞ্জয় সাহা, শামস চৌধুরী রুশো, লেখক ও গ্রন্থাগারিক আব্দুল্লাহ জাহিদসহ আরো অনেকে। কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ শোনা ছিল দর্শকদের জন্য বাড়তি পাওনা। কবি কাজী জহিরুল ইসলাম একগুচ্ছ কবিতা পড়ে শোনান। দর্শকরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো তন্ময় হয়ে কবিতা শোনেন। পড়ে নাসিমা আক্তার কবির লেখা একটি কবিতা পড়ে শোনান এবং তানভীর তমাল কবিকে নিবেদিত সংগীত পরিবেশন করেন। 

কবিকে শান্তি পুরস্কার প্রদানের পরে শ্রী চিন্ময় সেন্টারের শিল্পীরা অভিনন্দন সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তাকে অভিনন্দিত করেন। দিমা নেফারতিতির মনোজ্ঞ সঞ্চালনায় পরিচালিত এই অনিন্দ্য সন্ধ্যায় শুভেচ্ছা বক্তব্যে বক্তারা কবির সাহসীকতা ও সহ্য ক্ষমতার প্রশংসা করেন। তারা বলেন, অকপটে সত্য বলা এবং নৈতিকতার চর্চা করার মানুষ আমাদের সমাজে ক্রমশই কমে যাচ্ছে। কবি কাজী জহিরুল ইসলাম সেইসব বিরল মানুষদেরই একজন। কবি ও লেখক কাজী জহিরুল ইসলাম একজন বহুপ্রজ লেখক। কমিটমেন্ট রক্ষা করে সঠিক সময়ে লেখা দিতে পারার এক অসাধারণ ক্ষমতা তার আছে। 

কাজী জহিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে শ্রী চিন্ময় সেন্টারের সদস্যদেরসহ যারা অ্যাওয়ার্ড, সম্মাননা দিয়েছেন, উপহার দিয়েছেন, ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আমি সত্যটা বলার চেষ্টা করি, কারণ আমি মনে করি সত্যই দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তিনি ওয়াননেস এর কারণ এবং এই চর্চার উপকারিতা ব্যাখ্যা করে বোঝান। তিনি বলেন, পৃথিবী এক সুবৃহৎ পাত্র। আমরা সকলেই এই পাত্রের চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা যা উৎপাদন করি এই পাত্রে রাখি আবার আমরা যা খাই তাও এই পাত্র থেকে নিয়েই খাই। এখন পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ যদি বিষ উৎপাদন করে পাত্রটি বিষে ভরে উঠবে। আমি যখন পাত্র থেকে খাবার তুলে খাবো আমার পেটে তো বিষই ঢুকবে। নিজের স্বার্থেই আমাদের ভালো কাজ করতে হবে। সব কিছুই ফিরে আসে।  জন্মদিনের কেক কাটার মধ্য দিয়ে ৩ ঘন্টার আনন্দ-সন্ধ্যার সমাপ্তি ঘটে।