NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
The US plan seeks to eliminate Iran's Supreme Leader to control the Middle East, while Israel aims to dismantle the Gulf for Greater Israel-Dr Pamelia Riviere স্টেট অ্যাসেম্বলীর ২০ হাজার ডলার অনুদান পেলো  বাংলাদেশ সোসাইটি  নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ ৪৮ নেতা নিহতের দাবি ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ইরানের নির্বাসিত প্রিন্স মক্কা-মদিনায় আটকা পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপিত Bangladesh Permanent Mission to the UN observed the ‘International Mother Language Day’ সাখাওয়াত মুখ খুললেন , ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদের একটা কিচেন কেবিনেট ছিল একুশে বইমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী The Politics of a “Golden Age”: Trump’s Address and America’s Deepening Divide - Akbar Haider Kiron
Logo
logo

পতাকাবিহীন গাড়িতে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত


খবর   প্রকাশিত:  ০৭ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম

পতাকাবিহীন গাড়িতে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত

 বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা তথা স্থায়ী পুলিশি এসকর্ট আচমকা প্রত্যাহারের পর এই প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো দাওয়াতে অংশ নিলেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজ কাম কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে অংশ নেন তিনি। অন্য সহকর্মীদের মতো যথাসময়েই মার্কিন দূত অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। তবে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার বা চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সরা অ্যাম্বাসেডরস কারে নিজ নিজ দেশের পতাকা উড়িয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করলেও মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস আসেন পতাকাহীন গাড়িতে। যদিও তিনি তার জন্য নির্ধারিত অ্যাম্বাসেডরস কার-১ ই ব্যবহার করছিলেন। গাড়ির সামনে বা পেছনে ছিল না পুলিশ বা দূতাবাসের নিজস্ব কোনো প্রটোকল ব্যবস্থা। তবে রাষ্ট্রদূতকে বহনকারী গাড়ির সামনের সিটে ছিলেন কেবলমাত্র তার গানম্যান।

দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ক্লোজ ডোর ওই ব্রিফিংয়ের পুরোটা সময় উপস্থিত এবং বেশ মনোযোগী ছিলেন পিটার হাস।    তিনি ব্রিফিংয়ে কোনো প্রশ্ন দূরে থাক, মুখে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি! এমনকি লাঞ্চের সময়ও নয়। অন্য দূতরা অবশ্য মধ্যাহ্নভোজে পরিবেশিত মৌসুমী ফল আমের উচ্চসিত প্রশংসা করেছেন।  বিজ্ঞাপন  কেউ কেউ পরিবেশিত আমের জাত সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা এটা নিশ্চিত করেছেন, ব্রিফিংয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ভারত ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের সার্বক্ষণিক পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার নিয়ে কোনো কথা হয়নি। যদিও সরকারের তরফে এ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হলে জবাবে দেয়ার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি ছিল। গত ১৪ই মে থেকে ওই ৪ দেশের রাষ্ট্রদূতসহ কোনো কূটনীতিকই স্থায়ী বা অস্থায়ী পুলিশ এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছেন না। সরকারি এক সিদ্ধান্তে দূতদের বিশেষ ওই এসকর্ট সুবিধা তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়। রাষ্ট্রদূতদের এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহারের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন সেদিন বলেছিলেন কেবল এসকর্ট প্রত্যাহারই নয়, রাষ্ট্রদূতদের গাড়িতে ফ্লাগ উড়ানোও বন্ধের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।  নিরাপত্তার নামে ৪/৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত ‘বাড়তি ঢং করছিলেন’ মন্তব্য করে সেদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছিলেন, নিউ ইয়র্কে ১৯৩টি দেশের স্থায়ী মিশন রয়েছে। সেখানে যে সমস্ত মিশন প্রধান দায়িত্ব পালন করেন তাদের অনেকেই নিজ নিজ দেশের কেবিনেট মেম্বার পদমর্যাদার। কিন্তু ওখানে কেউ পুলিশ এসকর্ট নিয়ে চলার চিন্তাও করতে পারে না। তিনি বলেন, আমি মন্ত্রী, কিন্তু কোথাও পুলিশ এসকর্ট নেই না। বাংলাদেশে রাস্তাঘাটে কিংবা শপিং মলে আক্রমণ করে লোক মারে না মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেছিলেন এখন কারও চলাফেরায় কোনো অসুবিধা নাই। তাছাড়া উন্নত দেশগুলোতে এসব ঢং নেই। সবমিলিয়ে আমরা উন্নত হচ্ছি। আমাদের চিন্তা-ভাবনাকে উন্নত করতে হবে। কলোনিয়াল মেন্টালিটি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ভারত ও সৌদি আরব এই সুবিধা পাচ্ছিল। অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশ এই সুবিধা চাইছিল।    দিনে দিনে নতুন নতুন চাহিদা বাড়ছিল। আসলে নিরাপত্তা মূল কথা নয়, সামনে পেছনে পুলিশ নিয়ে একটু বাড়তি বাহবা নেয়া বা দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অনেক দূত এই সুবিধাটি চাইছিলেন। সরকার কৃচ্ছ্রসাধন করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেছিলেন রাষ্ট্রদূতদের পয়সা দিয়ে এসকর্ট সুবিধা নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বহু আগে। কিন্তু একজন রাষ্ট্রদূতও সরকারের সেই প্রস্তাবে রাজি হননি।

কোনো মিশন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাব দেয়ারও প্রয়োজন মনে করেনি বলে অভিযোগ করেছিলেন মন্ত্রী। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।    তাৎক্ষণিক তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের হতাশার কথা সেগুনবাগিচাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানান। কূটনৈতিক এবং সরকারি সূত্র বলছে, পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহারে এরইমধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেগুনবাগিচাকে সেই ক্ষোভ এবং হতাশার বিষয়টি দূতাবাসের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের প্রধান শন ম্যাকিনটো বলেন, ‘আমাদের কূটনৈতিক কর্মীদের এবং সুবিধাসমূহের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী, আমরা মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশদ প্রকাশ করি না।    ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে, অবশ্যই সমস্ত কূটনৈতিক মিশন এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বাগতিক দেশের বাধ্যবাধকতা বজায় রাখতে হবে।’ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উপ-মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেলও প্রায় অভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে, যেকোনো স্বাগতিক দেশকে অবশ্যই ‘সব কূটনৈতিক মিশন প্রাঙ্গণ ও কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তার বাধ্যবাধকতা বজায় রাখতে হবে এবং কর্মীদের ওপর যেকোনো আক্রমণ প্রতিরোধে উপযুক্ত সব পদক্ষেপ নিতে হবে।’