NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন কিংবদন্তী নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানান জটিলতার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন ৯ আগস্ট নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান  ইউনিটি প্যারেড Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণের জন্মদিন পালিত বগুড়ায় নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সম্মাননা পেলেন দুই কৃতি অ্যালামনাই
Logo
logo

চীনে যে জ্ঞান ও দক্ষতা শিখেছি তা আফ্রিকা ও আমার শহরে নিয়ে আসতে পারব।


আন্তর্জাতিক : প্রকাশিত:  ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম

চীনে যে জ্ঞান ও দক্ষতা শিখেছি তা আফ্রিকা ও আমার শহরে নিয়ে আসতে পারব।

 

 


উত্তর-পূর্ব মনোমুগ্ধকর ভূমি সারা বিশ্বের অনেকের আকর্ষণ করেছে, যাদের মধ্যে অনেকেই বিদেশী। তারা এখানে অধ্যয়ন করেন, কাজ করেন এবং বাস করেন, উত্তর-পূর্ব চীনের রীতিনীতি অনুভব করেন এবং এখানে তাদের নিজস্ব উপায়ে একীভূত হন। 

কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের একজন যুবক মু ইংসিয়ং, লিয়াওনিং প্রদেশের শেনইয়াং শহরে বাস করেন এবং বর্তমানে চায়না মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রার্থী। কিছুদিন আগে, তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিল কর্তৃক ২০২৪ সালের "চীনের উপলব্ধি" - "কমিউনিকেশন মেসেঞ্জার" উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। শেনইয়াং শহরের সাথে তার কী গল্প আছে? শুনুন আজকের রিপোর্টে।
"সবাইকে হ্যালো, আমার নাম মু ইংসিয়ং, আমার বিদেশী নাম (বিয়েনভেনু মুইশা এমবিকিয়ো), আমি কঙ্গো (ডিআরসি) থেকে এসেছি, আমি চায়না মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রার্থী, এবং আমি ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১২ বছর ধরে চীনে আছি।"


সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাৎকারের আগের রাতে, মু ইংসিয়ং গভীর রাত পর্যন্ত পরীক্ষাগারে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, এটি তার ও তার অনেক সহপাঠীর জন্য সাধারণ অবস্থা ছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে, তিনি কার্ডিওভাসকুলার রোগের ক্ষেত্রে বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল "জার্নাল অফ দা আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজি"-এ প্রথম লেখক হিসাবে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
“আমি যে নিবন্ধটি প্রকাশ করেছি, তা ছিল উচ্চ রক্তচাপের জন্য অ-ড্রাগ চিকিৎসার অধ্যয়ন করার উপায়। আমি পশুর ওপর পরীক্ষা শেষ করেছি এবং তারপরে বিভিন্ন সূচক যাচাই করার জন্য আণবিক পরীক্ষাগারে আসতে হবে।” 


ডাক্তারি পড়া শৈশব থেকেই মু ইংসিয়ং-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষা। পিতার প্রভাবে তিনি চীনে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে আসেন। তিনি বলেন,
“আমার বাবা বলেছিলেন যে, চীন একটি দীর্ঘ ইতিহাস ও জাঁকজমকপূর্ণ সংস্কৃতির দেশ এবং চীনের উন্নয়ন ও নির্মাণ প্রতিদিন পরিবর্তিত হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন যে, আপনি যদি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পরে চীনে পড়াশোনা করতে পারেন, তবে আপনি অবশ্যই অনেক জ্ঞান শিখতে পারবেন ও আপনার দিগন্তকে প্রশস্ত করতে পারবেন।” 


মু ইংসিয়ং বলেন, শেন ইয়াং শহরে আসা তার প্রথম পছন্দ ছিল না। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় যে, চায়না মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বেইজিংয়ে অবস্থিত, কারণ এর নামে রয়েছে ‘চায়না’ শব্দটি। কিন্তু এখানে আসার পর আমার খুব ভালো লাগে।”
শেনইয়াং-এ আসার পর মু ইংসিয়ং ধীরে ধীরে এই শহরের প্রেমে পড়ে যান। এই শহর, যেখানে শীতের তাপমাত্রা সহজেই মাইনাস দশ বা বিশ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে, তাকে একটি "উষ্ণ" অনুভূতি দিয়েছে। তিনি বলেন,
“যখন আমি শেনইয়াং-এ আসি, প্রথম তিন বছর প্রতি শীতে বাড়ি যেতাম। কিন্তু আমি ধীরে ধীরে শেনইয়াং-এর সাথে মানিয়ে নিলাম। শেনইয়াং আসার আগে ও চীনে আসার আগে আমি কখনও তুষার দেখিনি। এখানে আসার পর আমি প্রথম বারের মতো তুষার দেখি এবং আমি একটি ভিডিও তৈরি করে আমার পরিবারকে দেখাই এবং আমি খুব উত্তেজিত ছিলাম।”


প্রফেসর লি চাও চীন মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক এবং মু ইংসিয়ং তার ছাত্র। তারা লিফটের জন্য অপেক্ষা করার সময় দেখা করেছেন এবং পরীক্ষামূলক প্রকল্পগুলো বিনিময় শুরু করেছেন। প্রফেসর লি চাও-এর চোখে, মু ইংসিয়ং তার সেরা ছাত্রদের একজন। মু ইংসিয়ংয়ের জন্য, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষকরা তাকে বাড়ির উষ্ণতা দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে মু ইংসিয়ং একজন ছাত্র ও তিনি মাঝে মাঝে একজন শিক্ষক হিসাবে কাজ করেন। ফ্রেঞ্চ, ইংরেজি ও চায়নিজ ভাষায় তার দক্ষতা আছে। আফ্রিকান অঞ্চল সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান আছে। মু ইংসিয়ং বারবার আফ্রিকাতে চীনা মেডিকেল টিমের জন্য প্রি-ডিপারচার ট্রেনিং প্রদান করেছেন। টার্গেট দেশের জাতীয় অবস্থা, সংস্কৃতি ও ভাষা সম্পর্কে জানানোর জন্য। এই প্রক্রিয়ায়, তিনি চীনের বৈদেশিক সাহায্যের চিকিৎসা স্পিরিটও গভীরভাবে উপলব্ধি করেন।

 

এই বছর বসন্ত উৎসব চলাকালীন, মু ইংসিয়ং তার শিক্ষক প্রফেসর লি চাওর কাছ থেকে তার পরিবারের সাথে নতুন বছর উদযাপন করার জন্য তার বাড়িতে যাওয়ার আমন্ত্রণ পান। প্রফেসর লি বলেন,
“যদিও ইংসিয়ং ভিন্ন জাতির মানুষ, তবে বাড়ি সম্পর্কে তার অনুভূতি একই রকম। আমি আশা করি, একজন শিক্ষক বা একজন প্রবীণ হিসাবে, আমি তাকে জীবনের অসুবিধাগুলো কাটিয়ে উঠতে এবং আরও সাফল্য অর্জনের জন্য গাইড করতে পারছি।”
২০২৫ সালটি মু ইংসিয়ং-এর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি তার পিএইচডি ডিগ্রি পেতে চলেছেন। যদিও অনেক চাপ রয়েছে, তিনি ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী। 


তিনি বলেন, “আমার নতুন বছরের ইচ্ছা সফলভাবে স্নাতক হওয়া। স্নাতক হওয়ার পর, আমি আশা করি আমি চীনে যে সমস্ত জ্ঞান ও দক্ষতা শিখেছি তা আফ্রিকা ও আমার শহরে নিয়ে আসতে পারব। আমি আশা করি যে, আমি চীনে যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান শিখেছি, তা আরও বেশি লোককে সাহায্য করার জন্য গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে নিয়ে আসা যান।”
সূত্র: জিনিয়া , চায়না মিডিয়া গ্রুপ।