NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ইয়র্কে ১৪ এপ্রিল ‘বাংলা নববর্ষ’ ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজুলেশন প্রেমের এক বৈশ্বিক মহাকাব্য হুমায়ূন কবীর ঢালীর কাব্যসংকলন ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বের প্রেমের কবিতা’ People-Centered Presence  Where are the connections with the diaspora, Bangladesh’s informal envoys? স্টুডেন্ট ভিসাধারীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা Questions in the Diaspora Over Bangladesh’s Representation at the United Nations জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রবাসে প্রশ্ন কানাডার রাজনীতিতে ডলি বেগমের চমক 'মারকুইস হু’স হু' ফাইন্যান্স খাতে দক্ষতার জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান মলি রহমানকে সম্মানিত করেছে সিএনএনের প্রতিবেদন ‘গেম অব চিকেন’: সংঘাতের বিপজ্জনক মোড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অস্থির বিশ্ব অর্থনীতি শহীদ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ : একটি আলোকবর্তিকা -  ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ
Logo
logo

ভাষাসৈনিক মতিনের গ্রামে কলাগাছের মিনারে শ্রদ্ধা


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৬ পিএম

ভাষাসৈনিক মতিনের গ্রামে কলাগাছের মিনারে শ্রদ্ধা

 ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের জন্মভূমিতে কলাগাছ দিয়ে বানানো শহীদ মিনারে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা। ছবি : কালবেলা X  ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের জন্মভূমিতে কলাগাছ দিয়ে বানানো শহীদ মিনারে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা।ভাষা আন্দোলনের অন্যতম আহ্বায়ক আব্দুল মতিনের জন্মভূমি সিরাজগঞ্জের চৌহালীর যমুনা চরাঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এ বছরও কলাগাছের তৈরি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছে। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভাষা মতিনের গ্রাম শৈলজানা নিম্নমাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে দিবসটি পালন করা হয়।  এদিন স্কুলের শিক্ষার্থীরা কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার ও স্কুলের ব্রেঞ্চ দিয়ে বেদি তৈরি করে। চারপাশে রঙিন কাগজ দিয়ে পতাকা টাঙিয়ে রাখে। একে একে শ্রদ্ধা জানায় শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ গ্রামবাসী।  

এদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে দেশজুড়ে যখন বর্ণাঢ্য আয়োজন ঠিক তখনই ভাষা মতিনের গ্রামে নেই কোনো আয়োজন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভাষা মতিনের কর্ম ও চিন্তা নিয়ে গবেষক হান্নান মোর্শেদ রতন। তিনি জানান, মাতৃভাষা বাংলার জন্য জীবনবাজি রাখা বীরপুরুষ তার গ্রামেই অবহেলিত। এর চেয়ে লজ্জা আর কিছুই নেই। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার উন্নয়ন না করলেও আশা করি বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিশেষ নজর দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ, পাঠাগারসহ নানা উন্নয়নে তার নামকরণ করা হবে।   স্থানীয়রা জানান, ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের স্মরণে জন্মভূমি এলাকার চাঁন্দইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ২০১০ সালের দিকে বেসরকারি এনজিওর অর্থায়নে একটি শহীদ মিনার ও পাঠাগার নির্মাণ করা হয়। সেখানেই প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে নানা আয়োজনে শ্রদ্ধা জানাত যমুনার চরাঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ।  ভাষাসৈনিক মতিনের গ্রামে কলাগাছের মিনারে শ্রদ্ধা ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের স্মৃতি রক্ষায় ব্যর্থ জন্মভূমি চৌহালী তবে ২০১৪ সালে যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায় শহীদ মিনার ও বিদ্যালয় ভবন। পাঁচ বছর পর একই চরের শৈলজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে যমুনার ভাঙনে সেটিও বিলীন হয়ে যায়।

এজন্য কয়েক বছর ধরে আবারও বাঁশ ও কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দিবসটি পালন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন কিংবা কোনো জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো খোঁজ-খবর নেওয়া হয় না। এ কাজে এলাকার শিক্ষার্থীরা সহযোগিতা করেছে। সকালেই এলাকার বিভিন্ন বয়সের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে গাছের ফুল এনে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে। দিনভর ছিল মানুষের ভিড়। আগামীতে কংক্রিটের শহীদ মিনারে ফুল দিতে চান শিক্ষার্থী জসিম, কবিরুল ও আলপনাসহ চরের সরলপ্রাণ মানুষ।   এ বিষয়ে শৈলজানা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা জানান, অবহেলিত চর এলাকায় অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। এজন্য এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে বাড়ির উঠানে শহীদ মিনার তৈরি করে শহীদ দিবস পালন করছে।

সারা দেশে দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার থাকলেও ভাষা মতিনের এলাকায় বরাবরই অবহেলিত রয়ে গেল।  চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জুয়েল মিয়া জানান, ভাষা মতিনের এলাকায় শহীদ মিনার নির্মাণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তার স্মরণে উপজেলা সম্মেলন কক্ষকে নামকরণের চিন্তা করেছি। নিয়ম মেনে আশা করছি দ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।  উল্লেখ্য, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন ১৯২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার উমারপুর ইউনিয়নের ধুবুলিয়া গ্রামে মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বায়ান্নর ৮ ফাল্গুন, আমাদের চিরচেনা ২১ ফেব্রুয়ারি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে এই ভাষা মতিনদের জন্যই। সেই দিনের রক্ত রঞ্জিত সংগ্রামের জন্য আজ আলোকিত হয়ে আছে আমাদের বাংলা ভাষা। বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে গেছে বাঙালির ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সেই সঙ্গে পৌঁছে গেছে এই আন্দোলনের অগ্রনায়ক ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের নামও।  কিন্তু তার গ্রামের বাড়িতে তার স্মৃতি রক্ষায় ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিতে পারলেই স্থানীয়দের কাছেও অম্লান থাকবে এই মহানায়কের নাম। আব্দুল মতিন ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান করে গেছেন এই ভাষাসৈনিক।