NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন কিংবদন্তী নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানান জটিলতার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন ৯ আগস্ট নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান  ইউনিটি প্যারেড Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণের জন্মদিন পালিত বগুড়ায় নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সম্মাননা পেলেন দুই কৃতি অ্যালামনাই
Logo
logo

জোহরান মামদানী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প : হোয়াইট হাউসের অভূতপূর্ব বৈঠক এবং রাজনীতির নতুন সমীকরণ


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৩০ এএম

জোহরান মামদানী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প : হোয়াইট হাউসের অভূতপূর্ব বৈঠক এবং রাজনীতির নতুন সমীকরণ

   আকবর হায়দার কিরন  

 ওয়াশিংটনের আকাশে সেদিন যেন অন্যরকম রঙ লেগেছিল। ইতিহাসের পাতায় হয়তো জায়গা করে নেবে এমনই এক বিকেল—যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানী মুখোমুখি হলেন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে।  দুই বিপরীত মতাদর্শ, দুই ভিন্ন রাজনৈতিক ঢং—তবু দু’জন মানুষ একটি টেবিলে বসে পৃথিবীর সবচেয়ে সাধারণ, সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নগুলো নিয়ে কথা বললেন: মানুষের বেঁচে থাকা, টিকে থাকা, আর ক্রমশ আকাশছোঁয়া জীবিকা ব্যয়।      ১. এক বৈশ্বিক বৈপরীত্যের মাঝেও একটি আলাপ      মামদানীকে ট্রাম্প অতীতে বলেছেন “কমিউনিস্ট লুনাটিক” — আর ট্রাম্প সম্পর্কে মামদানীর ভাষায় ছিল “আধিপত্যবাদী রাজনীতির” অভিযোগ।  এমন দুই মানুষের দ্বন্দ্ব যেন কখনো মেটার নয়।    কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় রাজনীতির শব্দের চেয়েও শক্তিশালী হয়।  নিউ ইয়র্কের মানুষ আজ যে বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে—ভাড়া, খাবারের দাম, পরিবহন খরচ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অসম্ভব ব্যয়—সেই বাস্তবতা দুই প্রান্তের রাজনীতিবিদকেও একই টেবিলে নিয়ে আসে।    ২. আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু: সাধারণ মানুষের জীবন      বৈঠকে প্রধান আলাপ হয়েছে—    সাশ্রয়ী বাসস্থান ভাড়া স্থিতি পরিবহন ব্যবস্থাকে সহজকরণ জনজীবনের ব্যয় কমানো নিউ ইয়র্ক সিটির জন্য সম্ভাব্য ফেডারেল সহায়তা     এই আলোচনায় এক ধরনের মানবিক সুর আছে—যেন বসে আছেন দুই নেতা, কিন্তু কথা হচ্ছে এক অদৃশ্য তৃতীয় মানুষকে নিয়ে: নিউ ইয়র্কের প্রতিটি শ্রমজীবী নারী-পুরুষ, পরিবার, ছাত্র, বৃদ্ধ।      ৩. মামদানীর জন্য বার্তা: সমঝোতার পথেও নেতৃত্ব সম্ভব      মামদানীর সঙ্গে আজকের ছবি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে।  তিনি দেখালেন—সংঘর্ষের ভাষা নয়, কথোপকথনের ভাষাও রাজনৈতিক শক্তি হতে পারে।  তার প্রগতিশীল সমর্থকদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলবেন—‘এ কি নরম হওয়া?’  কিন্তু বাস্তবিক অর্থে, একটি শহর পরিচালনা মানেই রাজনীতির সীমানা পেরিয়ে সাত রঙের সমঝোতায় পৌঁছানো।

   মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগেই তিনি দেখাতে চাইলেন—  “আমি শুধু স্লোগান দেব না, দরকার হলে ওভাল অফিসে গিয়ে মানুষের জন্য কথা বলব।”      ৪. ট্রাম্পের লাভ : নিউ ইয়র্কে নিজের রাজনৈতিক পরিসর তৈরি      ট্রাম্পের রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে সাধারণ মানুষের খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি।  নিউ ইয়র্ক সেই প্রতিশ্রুতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগার।  তাই মামদানীর মতো জনপ্রিয় প্রগ্রেসিভ নেতার সঙ্গে সামাজিক-অর্থনৈতিক ইস্যুতে আলোচনা ট্রাম্পের জন্যও এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা:  “আমি বিরোধী পক্ষের সঙ্গেও কাজ করতে পারি।”    এটি এক কৌশলগত রাজনীতি—নরম মুখে কঠোর পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোর পথ তৈরি করা।      ৫. শক্তির অসাম্য এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ      বৈঠক যতই সৌহার্দ্যপূর্ণ হোক, শক্তির ভারসাম্য ট্রাম্পের দিকেই।  ফেডারেল তহবিল, আইনগত ক্ষমতা, নীতিনির্ধারণ—সবকিছুই হোয়াইট হাউসের হাতে।  মামদানীর প্রস্তাবগুলো কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের সদিচ্ছা ও রাজনৈতিক হিসাবের ওপর।  

 কিন্তু আজকের মিটিং একটি প্রতীক—  রাজনীতি অনেক সময় কঠিন পাহাড় বেয়ে ওঠা, কিন্তু পাহাড়ও কখনো কখনো আলোচনার শব্দে নরম হয়ে আসে।      ৬. শাসনব্যবস্থার নতুন ভাষা কি তৈরি হচ্ছে?      এই বৈঠক আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যে দেশে মতাদর্শের বিভাজন গভীর, সেখানে যদি শীর্ষ দুই ভিন্নমের নেতা আলোচনার টেবিলে বসতে পারেন, তবে সেটি গণতন্ত্রের জন্য নতুন হাওয়া।  দুই পক্ষই কিছু না কিছু লাভ পেল—    ট্রাম্প পেলেন রাজনৈতিক কৌশল মামদানী পেলেন প্রশাসনিক সম্ভাবনা আর নিউ ইয়র্কবাসী পেল নতুন একটি আশা     শহরের মানুষ জানে না এই আলোচনার ফল কী হবে—  কিন্তু অনেক দিন পর আজ তারা দেখলো:  হোয়াইট হাউসেও কখনো কখনো সাধারণ মানুষের কথা উঠে আসে।      শেষ কথা      ইতিহাস কখনো দিনের আলোতে নয়—কখনো একটি দরজার আড়ালে লেখা হয়।  আজকের বৈঠক হয়তো তারই একটি ছোট অধ্যায়।  দুই ভিন্ন রাজনীতির গল্প আজ একটি বিন্দুতে এসে মিলেছে—  সেই বিন্দুর নাম: মানুষ।