আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

এ আমার বাংলা ভাষা – বাঙলার ভাষা
ফারুক সৈয়দ
রক্তে আমার বোনা ছিল সে বীজ,
তাই নির্দ্ধিধায় আর সাগ্রহে বেড়েছে
আমার আশা, প্রত্যাশা, উমেদ
আর এই ভালবাসার ভাষা।
জন্ম থেকে মৃত্যুর সব বিধাতা নিয়ে
এ আমার বাংলা ভাষা – বাঙলার ভাষা।
ভালবাসায় কোলে রাখা মায়ের বুকে,
সুগন্ধের সুপ্রভাতে ঢেঁকীর আওয়াজ -
আর আয়েশী কুলার তালে কে
শোনালো খয়েরী মাচায় তোলা
ধানের আনন্দের সাবলীল ছড়া?
এ আমার বাংলা ভাষা – বাঙলার ভাষা।
বাসনা, কামনা অভিলাষ আর হৃদয়ের
চাহিদা নিয়ে, ভালবাসার শালীন
আলোর মতন অন্য সব আনন্দের
মাঝে, কেন অযত্নে বর্ধিত আমার
এই লাউয়ের চারাটির সজীবতা?
এ আমার বাংলা ভাষা – বাঙলার ভাষা।
লিচু হাসে গাছে গাছে, যেন লাল গাল
মেয়ে সব, সাথে আমলকী আর অবাধ্য
লটকন মন কেনে বৈশাখী উল্লাসে।
কাঁঠাল জাম চালতা আর তেঁতুলের সাথে
যেন অনুরাগীর রাধা, কে দেখালো আমায়?
এ আমার বাংলা ভাষা – বাঙলার ভাষা।
শীতলক্ষ্যা যমুনা আর কাঁচমতির ঘাটে, এখনো
বেদে আর মাঝিরা মহুয়ার পালাগান গায়।
আমের বোলের ঘ্রাণে অফুরন্ত মাতাল ভাব,
আর শিরিষ হিজল শিমুলের লালে রাতকানা
কবিদের মতো কে শেখায় পিরিত আর প্রণয়?
এ আমার বাংলা ভাষা – বাঙলার ভাষা।
শিশির ঘাসের মাঠে ছাগল-ছানার নাচানাচি
খেলা, আর উঠানের খড়ের পাশে জাবর কাটা
তেড়ে উঠা গর্বিত বলদটার অহমক অহংকার।
হুঁকোর আনন্দে আত্মহারা সব কিছু চেখে দেখে
কে বলেছে জীবনচর্যায় বাস্তব এ সব?
এ আমার বাংলা ভাষা – বাঙলার ভাষা।
প্রাতঃরাশ শেষে ফোঁকা দাঁতে হেসে
অগ্রীমটা হাতে পেয়ে ইতিউতি জেনে,
ঘটক যখন চায় তার চুন ছাড়া সুপারি আর পান,
গায়ে হলুদের স্বপ্ন দেখে ষোড়শী মনটা তার
কেন গেয়ে উঠে বাসর রাতের পুলকিত গান?
এ আমার বাংলা ভাষা – বাঙলার ভাষা।
ধূসর দিগন্ত পেরিয়ে নীলাকাশের নকশা দেখে,
ভাসুরের ভনিতার কাব্য, আর নূতন বৌয়ের লাজ
ভেঙ্গে গেলে - ভুলে যায় সবাই সানাইয়ের কান্না। সুদর্শিনী
অভাগিনী বিধবা, শিশু-কোলে ফিরে যায় পৈতৃক নিবাসে।
কেন জীবন-কথা ফুরায়না তবু ও আয়ুষ্কাল শেষে?
এ আমার বাংলা ভাষা – বাঙলার ভাষা।
রক্তে পাওয়া সে ফসল
রক্ত দেওয়া সেই অবিকল
সে-ই আমার মায়ের ভাষা
এ আমার বাংলা ভাষা – বাঙলার ভাষা।
সিল্কেবোর্গ, ডেনমার্ক থেকে সবাইকে
আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের অভিনন্দন
২১শ ফেবুয়ারি, ২০২৬