NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন কিংবদন্তী নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানান জটিলতার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন ৯ আগস্ট নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান  ইউনিটি প্যারেড Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণের জন্মদিন পালিত বগুড়ায় নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সম্মাননা পেলেন দুই কৃতি অ্যালামনাই
Logo
logo

রাজশাহী অঞ্চলে লিচুর  মুকুলের সমারোহ


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৪:২৩ এএম

রাজশাহী অঞ্চলে লিচুর  মুকুলের সমারোহ

এম আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া থেকে :

রাজশাহী অঞ্চলে লিচু বাগানগুলোতে প্রচুর মুকুল এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এবার রাজশাহী অঞ্চলে লিচুর বাম্পার ফলন হবে বলে আশাবাদী লিচু চাষিরা।  রাজশাহী অঞ্চলে আম বিখ্যাত হলেও লিচুর কদর আছে বেশ। আম কয়েক হাজার হেক্টর জমিতেও চাষ হলেও লিচুর আবাদ বেশ কম। দিনাজপুর ও ঈশ্বরদীতে লিচু বেশি চাষ হলেও রাজশাহীর লিচুর সুনাম আছে।  এক সময় রাজশাহী নগরী ও গ্রামে বেশ চাষ হতো লিচু। উন্নয়নের যাতাকলে পড়ে লিচু গাছের অস্তিত্ব হারিয়েছে। এখন বাগানের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। রাজশাহী পবা উপজেলায় এখনো কিছু লিচুর বাগান রয়েছে। নানা কারণে লিচুর আবাদ কমছে। যে বাগান আছে তাতে চাষিরা হাইব্রিড জাতের লিচুর আবাদ করছে। এগুলো আকারে বড় রসাল।   গত দুই মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভালো ফলন ও দাম পাওয়া যায়নি। এবার বাগানগুলোর লিচু গাছে দেখা মিলেছে মুকুলের। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে লিচু গাছে মুকুল আসে এবং মে মাসের শেষে বা জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিপক্ব লিচু বাজারজাত করার জন্য উপযুক্ত হয়ে থাকে।  লিচু চাষিরা সারা বছর তাদের লিচু গাছের যত্ন  নেন বছরের এই স্বল্প সময়ে ফল বিক্রির জন্য। গুটির পর থেকে মাত্র দুই মাস থেকে তিন মাসের মধ্যে লিচু বাজারজাত করার উপযোগী হয়ে থাকে। এই সময়ের মধ্যে লাভজনক মূল্যে লিচু বাজারজাত করতে না পারলে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবেন তারা। দ্রুত পচনশীল লিচু সঠিক সময়ে বাজারজাত করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের তথ্যমতে, এবার রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাগঞ্জে ১ হাজার ৭০১ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ আছে। এ জমিতে গাছ আছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৮০টি। মুকুল এসেছে ৪৩ শতাংশ গাছে।   এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লিচু চাষ হচ্ছে নাটোর ও রাজশাহীতে। রাজশাহীতে ৫২৮ হেক্টর জমিতে লিচুর গাছ আছে ৪৪৯ হাজার ৩৪৫টি। এখন পর্যন্ত মুকুল এসেছে ৪২ শতাংশ গাছে। নাটোরে ৮৮৭ হেক্টর জমিতে লিচুর গাছ আছে। জেলায় গাছ আছে ১ লাখ ২ হাজার ২৫৭টি। এখন পর্যন্ত মুকুল এসেছে ৫৪ শতাংশ।  নওগাঁয় ১৭১ হেক্টর জমিতে গাছ আছে ৫২ হাজার ২১৩টি। এ পর্যন্ত মুকুল এসেছে ৩৩ শতাংশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১৫ হেক্টর জমিতে গাছ আছে ৯ হাজার ৪৬৫টি। এ পর্যন্ত মুকুল এসেছে ৪৪ শতাংশ গাছে।   বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লিচু চাষ হয় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায়। এই উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর জমিতে লিচুর আবাদ হচ্ছে। ছোটবড় মিলিয়ে উপজেলায় রয়েছে প্রায় ১১ হাজার ২৭০টি লিচুর বাগান।  পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া এলাকার লিচুচাষি আব্দুল হাকিম বলেন, এ বছর লিচু গাছে মুকুলের পরিমাণ বেশি এসেছে। গেল দুই বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্যবসা হয়নি। এর মধ্যে ২৪ সালে অতিরিক্ত খরা ছিল। আর ২৫ সালে অতিবৃষ্টি ছিল। এতে বেশ ক্ষতি হয়েছে। এবার  প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং সময় মতো পরিচর্যা করা হলে চলতি মৌসুমে লিচুর ভালো ফলন হবে। এ সময়ে একটু বৃষ্টি দরকার ছিল। তাহলে মুকুল আরও সুন্দর হতো।  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, রাজশাহী লিচুর সুনাম আছে। স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় এই অঞ্চলের লিচুরও চাহিদা আছে। এই ফলের চাষ খুবই লাভজনক। তিনি বলেন, গত বছরের শেষদিকে বর্ষা আগে বিদায় নেওয়া এবং বর্তমানে রাতে শীত ও দিনে তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া লিচুর জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।   আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর বাম্পার ফলন হতে পারে।