আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:২১ পিএম

এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে :
লাখো মুসিল্লির অংশগ্রহণে ঈদুল ফিতরের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুসুল্লিরা অংশ নেন। তবে এবার ঈদের আগের দিন রাতে ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় গোর-এ শহীদ ময়দানে মুসুল্লিদের উপস্থিতি ছিল অপেক্ষাকৃত কম। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় জেলার পাড়া-মহল্লার মসজিদ ও ছোট ছোট মাঠগুলোতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দান ২১.৯৯ একর জমিতে অবস্থিত। ১৯৪৭ সাল থেকে এই ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলেও আধুনিক নির্মাণশৈলীতে এই ঈদগাহে বৃহৎ পরিসরে ঈদের জামাত শুরু হয় ২০১৭ সাল থেকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার ভোর ৬টা থেকেই মুসল্লিরা গোর-এ শহীদ ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হতে শুরু করেন। সকাল ৯টায় শুরু হয় নামাজ। এতে ইমামতি করেন জাতীয় ইমাম সমিতি দিনাজপুরের সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী।
নামাজ শেষে দেশ, জাতি, মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম উম্মাহসহ ৭১ ও ২৪ এ শহীদ ও আহতদের জন্য শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। বৃহৎ এই জামাত শুরুর আগে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা জজ মো. আলমগীর হোসেন, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা প্রমুখ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতাসহ সর্বস্তরের জনতা অংশ নেন। দিনাজপুর-সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন। এই জন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। এবার মাঠে কিছুটা ত্রুটি রয়েছে। আগামীতে আরো সুন্দর পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে। সবাইকে ঈদ মোবারক। দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মুসল্লিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, রমজানে আমরা যে তাকওয়া অর্জন করেছি তা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। তাঁরা বলেন, লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে দেশের এই বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সফলভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন হওয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তাঁরা।
এদিকে, দেশের বৃহৎ এই জামাতে অংশ নিতে পেরে খুশী মুসল্লিরা। তারা জানান, ঈদের জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা এসে অংশ নিতে পেরেছেন। এখানে নামাজ আদায় করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন তারা। কিশোরগঞ্জ কুলিয়ারচর উপজেলা থেকে আসা মুসল্লি স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুল ওহাব (৫৫) বলেন, আমরা প্রতিবার শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করি আর শুনি দিনাজপুরে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় মিনার রয়েছে। সেখানকার ময়দানে লাখো মানুষ নামাজ আদায় করে। আমি আজ ঈদের নামাজ আদায় করলাম। এত বড় জামাতে নামাজ আদায় করতে পেলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
বগুড়া জেলা থেকে এসেছিলেন রংপুর একটি হিমাগারের ম্যানেজান আব্দুস সাত্তার (৬০)। তিনি জানান, এবার নিয়ে ৮ বার এই মাঠে নামাজ আদায় করলেন। এ জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, অন্যবারের চেয়ে এবার ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল। এতবড় মাঠ ও এতো মুসল্লির সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করার যে অনুভূতি, তা কাউকে বোঝানোর নয়। জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের জন্য স্থাপন করা হয় শৌচাগার, ব্যবস্থা করা হয় ওজুর। বসানো হয় মেডিক্যাল টিম। পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সুষ্ঠুভাবে নামাজ সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।