NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন কিংবদন্তী নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানান জটিলতার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন ৯ আগস্ট নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান  ইউনিটি প্যারেড Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণের জন্মদিন পালিত বগুড়ায় নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সম্মাননা পেলেন দুই কৃতি অ্যালামনাই
Logo
logo

এক ভিটা থেকে তিন রাষ্ট্রনায়ক, উচ্ছ্বাসে ভাসল বাগবাড়ী


আকবর হায়দার কিরণ   প্রকাশিত:  ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৪:২৬ এএম

এক ভিটা থেকে তিন রাষ্ট্রনায়ক, উচ্ছ্বাসে ভাসল বাগবাড়ী

এম আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া থেকে :

বগুড়া-গাবতলী সড়ক ধরে বাগবাড়ীর দিকে এগোতেই বোঝা যাচ্ছিল, এটি কোনো সাধারণ দিনের দৃশ্য নয়। রাস্তার দুই পাশে মানুষের ভিড়, হাতে মোবাইল ফোন, কারও চোখে কৌতূহল, কারও চোখে আবেগ। স্থানীয়দের ভাষায়, ‘আজ আমাদের গ্রামের ইতিহাসের দিন।’  কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল এক অধ্যায়ের সাক্ষী বগুড়ার গাবতলী উপজেলার এই বাগবাড়ী। একই ভিটা থেকে উঠে এসেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাঁর স্ত্রী তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, আর এবার সেই পরিবারেরই সন্তান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার পা রাখলেন নিজ পৈত্রিক এলাকায়।  (২০ এপ্রিল সোমবার ) দুপুরে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সড়কপথে বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আগমন ঘিরে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটে স্থানীয়দের। সকাল থেকেই গাবতলী, নশিপুর, কচুয়া, হাটবাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে জড়ো হতে থাকেন। কেউ শুধু দেখতে এসেছেন, কেউ শুভেচ্ছা জানাতে, কেউ আবার স্মৃতির টানে।  স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে নিজের পৈত্রিক ভিটায় ঢোকেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সেখানে যেন হারানো স্মৃতি দেখতে পান। সেই বাড়ি, সেই দেয়াল, সেই উঠান। অনেকটা আবেগপ্রবণ হয়ে যান তিনি।

বাড়ির বিভিন্ন ঘর ঘুরে দেখার সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ সময় বাইরের কাউকেই সেখানে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে তিনি ওই বাড়িতে প্রবেশের পরপরই জিয়াবাড়ির পক্ষে ওই পরিবারের নিকটজন আশিকুর রহমান সুজন তাদেরকে স্বাগত জানান।  স্থানীয়দের কাছে ‘জিয়াবাড়ি’ নামে পরিচিত বাড়িটি দিনভর ছিল মানুষের ভিড়ে সরব। চারপাশে পুরনো আমগাছ, পুকুরঘাট, মাটির গন্ধ মেশানো উঠান সব মিলিয়ে বাড়িটিতে এখনও গ্রামবাংলার পুরনো আবহ টিকে আছে। প্রবীণ বাসিন্দা আকবর মিয়া বলেন, এই বাড়িটা শুধু একটা বাড়ি না, এটা আমাদের ইতিহাস। অনেকদিন পর তাদের এখানে দেখা আমাদের জন্য আবেগের ব্যাপার।  তরুণ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকে শুধু গল্প শুনেছি। আজ নিজের চোখে দেখলাম। ভাই তারেক রহমান আর ভাবী জুবাইদা রহমানকে এত কাছে দেখব ভাবিনি।  প্রধানমন্ত্রী পৌঁছানোর পর পুরো এলাকায় নীরব উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। কেউ হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান, কেউ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন, কেউ আবার দূর থেকে দাঁড়িয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। স্থানীয় কৃষক কবির আহম্মেদ বলেন, এই বাড়ির মানুষদের আমরা ছোটবেলা থেকে চিনি। আজ তারা নিজের গ্রামে ফিরেছে। তাও আবার সেইজন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী এটা ভাবতেই বুক ভরে যায়।

 পুরো সফরে প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁকে স্বামীর পাশে বসতে, মানুষের দিকে হাত নেড়ে সাড়া দিতে এবং হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রামের নারী ও প্রবীণদের মধ্যে তাঁকে ঘিরে ছিল বাড়তি আগ্রহ। বৃদ্ধা সমিরন বেগম বলেন, পুত্রবধূকে আমরা এত কাছে দেখব ভাবিনি। তিনি আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন এটা মনে থাকবে। এক তরুণী বলেন, এত বড় জায়গার মানুষ হয়েও খুব সাধারণভাবে সবার দিকে তাকাচ্ছিলেন, এটা ভালো লেগেছে।  স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেকবলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে খাল খননের কথা বলেছিলেন। আজ তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রী হয়ে সেই পৈত্রিক ভিটায় এসে আবার খাল খনন করছেন এটা আমাদের জন্য গর্বের।

  দীর্ঘদিন উন্নয়ন ও বঞ্চনার অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে তারা নতুন আশার আলো দেখছেন।   বেগম নামে এক নারী বলেন, আমাদের এলাকার সন্তান প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসায় আমরা আনন্দিত। আমরা চাই এখানে উপজেলা হোক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন হোক। পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা শফিক মিয়া বলেন, এলাকায় শিল্প-কারখানা হলে ছেলে-মেয়েরা কাজ পাবে। এখন আমরা সেই আশা করছি।  দিনভর বাগবাড়ী এলাকায় ছিল উৎসবের আবহ। রাস্তার পাশে ছোট দোকানিরা পানি, ফল ও নাস্তা বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। চা বিক্রেতা আলম বলেন, এত মানুষ একসাথে আগে কখনো দেখিনি। আজকের দিনটা আমাদের জন্য আলাদা।  ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকলেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বড় কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি।