আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম

আলবেনি (নিউ ইয়র্ক) ২৩ এপ্রিল২০২৬ঃ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বাঙালি সংস্কৃতি ওঐতিহ্যের স্বীকৃতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের । ২২ এপ্রিল আলবেনির New York State Capitol-এ অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ১৪ এপ্রিলকে ‘Bangla New Year Day’ হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে একটিগুরুত্বপূর্ণ রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে। এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য বাংলা নববর্ষ উদযাপনের রাজকীয় সমাপ্তি ঘটে।
স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে New York State Senate-এর অধিবেশনে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেনসিনেটর Luis R. Sepúlveda, Nathalia Fernandez এবংToby Ann Stavisky । বক্তব্য প্রদানকালে সিনেটর Toby Ann Stavisky বলেন, বহুসাংস্কৃতিক নিউ ইয়র্কে বাঙালিরা শিক্ষা, ব্যবসা ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারাখছে এবং এই রেজুলেশন সেই অবদানের স্বীকৃতি। তাঁর বক্তব্যের পর উপস্থিত সদস্যদের সমর্থনে অধিবেশন করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ জনবিশিষ্ট প্রবাসী বাঙালি উপস্থিত ছিলেন, যারা এই মুহূর্তকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান।
রেজুলেশনের মূল প্রস্তাবনা অনুযায়ী, গভর্নর Kathy Hochul-কে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখকে ‘Bangla New Year Day’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বাংলা নববর্ষকে একটি অসাম্প্রদায়িক ও বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যার শিকড় মুঘল আমলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নিহিত। সংগীত, নৃত্য, চারুকলা এবং লোকঐতিহ্যের মাধ্যমে এইউৎসব বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে উদযাপন করে থাকে।
রেজুলেশনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী—যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভাষাগোষ্ঠী—নিউইয়র্কে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক উপস্থিতি তৈরি করেছে।উনিশ শতকের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে আধুনিক সময় পর্যন্ত বাঙালিরা যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।বিশেষভাবে Muktadhara Foundation-এর তিন দশকের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং বাংলা উৎসব ও বইমেলার ঐতিহ্যও এতে স্বীকৃতি পেয়েছে।
একই সঙ্গে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। রেজুলেশনের সমাপনী অংশে গভর্নর Kathy Hochul-এর প্রতি আনুষ্ঠানিক ভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে তিনি ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখকে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ‘Bangla New Year Day’ হিসেবে ঘোষণা করেন।
একই সঙ্গে রেজুলেশনের একটি অনুলিপি যথাযথভাবে প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে গভর্নরের দপ্তরে। বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই রেজুলেশনের কপি প্রেরণের তালিকায় বিশ্বজিত সাহা—মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সভাপতি—এর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রমাণ করে যে, প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বিকাশে তাঁর অবদান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। রেজুলেশন পাসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ১টা থেকেশুরু হয় এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সঙ্গীত পরিচালক মহিতোষ তালুকদার তাপসের নেতৃত্বের বীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।