NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬ | ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন কিংবদন্তী নজরুলসংগীত শিল্পী শবনম মুশতারী বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানান জটিলতার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন ৯ আগস্ট নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান  ইউনিটি প্যারেড Minister of Home Affairs holds bilateral meetings with Pakistan, Viet Nam and UN leaders at UNHQ আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণের জন্মদিন পালিত বগুড়ায় নিউইয়র্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, সম্মাননা পেলেন দুই কৃতি অ্যালামনাই
Logo
logo

বিশ্ব স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ সি-ট্রাম্প বৈঠক


আন্তর্জাতিক: প্রকাশিত:  ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৩০ এএম

বিশ্ব স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ সি-ট্রাম্প বৈঠক

মে মাসের মাঝামাঝিতে, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য একটি শীর্ষ কূটনৈতিক অনুষ্ঠান, বিশ্বজুড়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আমন্ত্রণে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চীনে রাষ্ট্রীয় সফর করবেন। এটা হল গত অক্টোবরে বুসানের পর, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষনেতাদের মধ্যে আবার মুখোমুখি বৈঠক এবং নয় বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। 


প্রেসিডেন্ট সি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীন-মার্কিন সম্পর্ক এবং বিশ্বের শান্তি ও উন্নয়নসম্পর্কিত প্রধান বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে মতবিনিময় করবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সফরের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, তিনি আসন্ন চীন সফরের জন্য গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। 

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হিসেবে, চীন-মার্কিন সম্পর্কের অবস্থা বিশ্বের স্থিতিশীলতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। আন্তর্জাতিক সমাজ ব্যাপকভাবে প্রত্যাশা করে যে, চীনা ও মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক দু’দেশের সম্পর্কের ‘বড় জাহাজকে’ স্থিরভাবে সামনে এগিয়ে নিতে যাবে; উভয় দেশকে পরস্পরের সত্যিকারের অংশীদার ও বন্ধু বানাবে; এবং বিশ্বে স্থিতিশীলতা বয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রপ্রধানদের কূটনীতি সর্বদা চীন-মার্কিন সম্পর্কের ‘নির্ভরতার কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে কাজ করেছে। ট্রাম্প পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে, দু’দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি জটিল ও পরিবর্তনশীল। এমন প্রেক্ষাপটে, আসন্ন সি-ট্রাম্প বৈঠক বিশ্বকে স্থিতিশীলতার সংকেত দিচ্ছে।

চীন-মার্কিন সম্পর্কের এই ‘বড় জাহাজের’ মসৃণ যাত্রা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তাইওয়ান ইস্যুর যথাযথ সমাধান। এটি চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির বিষয়ও বটে। মার্কিন পক্ষকে বুঝতে হবে যে, তাইওয়ান চীনের ভূখণ্ড; চীনকে অবশ্যই নিজের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে হবে, তাইওয়ানকে কখনও চীন থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে। 
বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতি হিসেবে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মোট অর্থনৈতিক আকার বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এবং পণ্যবাণিজ্যের পরিমাণ বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। আন্তর্জাতিক সমাজ প্রত্যাশা করছে, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা চীন-মার্কিন সম্পর্কের স্থিতিশীলতার ভিত্তি ও চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে যাবে; বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ‘নিশ্চয়তার বড়ি’ খাইয়ে দেবে। 

২০২৫ সাল থেকে রাষ্ট্রপ্রধানদের নির্দেশনায়, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র অর্থনীতি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে একাধিক দফা উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা করেছে এবং এসব আলোচনা থেকে  ধারাবাহিক ইতিবাচক ফলাফলও অর্জিত হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে, চীনে অবস্থিত আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স প্রকাশিত এক জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, মার্কিন উদ্যোগগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ চীনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই চীন সফরে অনেক মার্কিন কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থাকছেন। মানুষ আশা করছে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের দিকে ইতিবাচতক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসবে; নিজেদের মধ্যকার পার্থক্য কমিয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করবে; এবং এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে। 

একটি মহাশক্তির মহত্ত্ব তার দায়িত্ব পালনের মধ্যেই নিহিত। বর্তমানে অব্যাহত ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, ক্রমবর্ধমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা-ঝুঁকি, জলবায়ু সংকট তীব্রতর হওয়া, জ্বালানি-সরবরাহব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ, ইত্যাদির মুখে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র মহাশক্তির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে বিশ্বের জন্য আরও তাত্পর্যপূর্ণ, বাস্তবসম্মত ও কল্যাণকর কাজ সম্পাদনে একসঙ্গে কাজ করবে বলে আন্তর্জাতিক সমাজ আশা করে। 
পৃথিবী যথেষ্ট বিশাল। এটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিকে ধারণ করতে সক্ষম। মানুষের প্রত্যাশা, এবারের চীন-মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের বৈঠক, দু’দেশের সম্পর্কের এই ‘বড় জাহাজ’-টিকে স্থিরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে; অস্থির বিশ্বে মূল্যবান স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তা যোগাবে। 

সূত্র:তুহিনা-আলিম-শুয়েই,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।