NYC Sightseeing Pass
Logo
logo

এসসিও, ব্রিক্স ও এপেকে সমন্বয় বাড়াবে বেইজিং ও মস্কো


আন্তর্জাতিক: প্রকাশিত:  ২১ মে, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

এসসিও, ব্রিক্স ও এপেকে সমন্বয় বাড়াবে বেইজিং ও মস্কো

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং সফররত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ২০মে (বুধবার), বেইজিংয়ের গণমহাভবনে, এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দু’নেতা চীন-রাশিয়া সুপ্রতিবেশীসূলভ বন্ধুত্ব চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধিতে সম্মত হন। পাশাপাশি, তাঁরা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় করেন।


বৈঠকে সি চিন পিং বলেন, চলতি বছর পালিত হচ্ছে চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৩০তম এবং চীন-রাশিয়া সুপ্রতিবেশীসূলভ বন্ধুত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫তম বার্ষিকী। চীন-রাশিয়া সম্পর্ক ধাপে ধাপে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে আজ এই উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই দেশ ‘হাজার আঘাত ও কোটি বাধা সত্ত্বেও দৃঢ় থাকার’ চেতনা নিয়ে, ‘আরও এক ধাপ উপরে ওঠা’র মানসিকতা ধারণ করে, এবং ‘মেঘ-বৃষ্টি ও ঝড়-তুফানের মধ্যেও শান্ত ও স্থির থাকা’-র সাহস নিয়ে, যৌথভাবে সামনে এগিয়েছে। 


তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি  জটিল ও অস্থিতিশীল; একতরফাবাদ ও আধিপত্যবাদের দৌরাত্ম্য চলছে। কিন্তু, শান্তি, উন্নয়ন ও সহযোগিতার প্রতি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এখনও অটুট আছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বড় দুটি দেশ হিসেবে, চীন ও রাশিয়ার উচিত্ দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্যকে সামনে রেখে, উচ্চতর মানের সার্বিক ও কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে, পরস্পরকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ হতে সহায়তা করে যাওয়া এবং আরও ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত বৈশ্বিক শাসন-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জটিল ও অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, চীন ও রাশিয়া সমতা ও পারস্পরিক সম্মান, প্রতিশ্রুতি ও ন্যায়পরায়ণতা মেনে চলা এবং সহযোগিতা ও যৌথ লাভের ভিত্তিতে, নতুন যুগের সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদারিত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ সময় দু’দেশের পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা আরও গভীর হয়েছে; অর্থ-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতিসহ নানান ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সামনে এগিয়ে গেছে।পাশাপাশি, দু’দেশের জনগণের মধ্যে বোঝাপড়াও দ্রুত বেড়েছে। চীন-রাশিয়া সম্পর্ক আরও সক্রিয় এবং দ্রুততর উন্নয়নের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। প্রেসিডেন্ট সি বলেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি, সুষ্ঠু, স্থিতিশীল ও উচ্চ মানের উন্নয়ন, দু’দেশের মৌলিক স্বার্থ ও বৈশ্বিক উন্নয়নের প্রবণতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর উচিত্, আমার ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের গুরুত্বপূর্ণ মতৈক্য বাস্তবায়ন করা এবং এই ঐতিহাসিক সুযোগ কাজে লাগিয়ে, পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব আরও জোরদার করা। 


সি বলেন,  দু’পক্ষের উচিৎ দুই দেশের জাতীয় উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যের ওপর নজর রেখে ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা-ব্যবস্থার সুবিধা কাজে লাগিয়ে, সার্বিক সহযোগিতার সমন্বয় ও বিন্যাস জোরদার করা; অর্থ-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সম্পদ, পরিবহন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নবায়নসহ নানা ক্ষেত্রের বাস্তব সহযোগিতার মান উন্নত করা; প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মৈত্রীর উত্তরাধিকার করার ভিত্তিতে, শিক্ষা, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, পর্যটন ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করা; বহুপক্ষীয় সমন্বয় জোরদার করা; জাতিসংঘ, শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, ব্রিক্স, এপেকসহ নানান বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মের কাঠামোতে, দু’দেশের সমন্বয় ও সহযোগিতা ঘনিষ্ঠতর করা; দৃঢ়ভাবে যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক আইনের কর্তৃত্ব রক্ষা করা; বৈশ্বিক দক্ষিণের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সংস্কারের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। 

এ সময় দুই প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় করেন। বৈঠকশেষে তাঁরা ‘গণপ্রজাতন্ত্রী চীন ও রুশ ফেডারেশনের মধ্যে সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার এবং সুপ্রতিবেশী বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা গভীরতর করার যৌথ ঘোষণা’-তে স্বাক্ষর করেন। একই সঙ্গে তাঁরা অর্থনীতি ও বাণিজ্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০টি সহযোগিতা নথি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 
পরে, দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদ্বয় যৌথভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকের আগে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বেইজিংয়ের গণমহাভবনের পূর্ব চত্বরে, প্রেসিডেন্ট পুতিনের সম্মানে একটি স্বাগত অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। 

সূত্র:শিশির-আলিম-আকাশ,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।